নিজস্ব প্রতিনিধি, মথুরাপুর (মালদহ): ফি বছর মালদহ-মুর্শিদাবাদের বন্যা ও নদী ভাঙন সমস্যার স্থায়ী সমাধানে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। বৃহস্পতিবার মানিকচকের মথুরাপুর বিএসএস হাইস্কুলের মাঠে সরকারি সভায় এমনটাই বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, গত ৫০ বছরে কেউ ভূতনির ভাঙন সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেননি। মানুষ যাঁদের জিতিয়ে এতদিন বিধায়ক-মন্ত্রী করেছেন, তাঁরা কেউ এখানকার মানুষকে যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে কাজ করেননি। আমরা ভূতনির বাসিন্দাদের বন্যা ও ভাঙন সমস্যা থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি দিতে চাই। সেকারণে কানপুর আইআইটির সাহায্য নিচ্ছি। তাদের ডিপিআর তৈরি করে দিতে বলা হয়েছে। তারা একবার পরিদর্শন করে গিয়েছে। জল নামলে ভূতনির সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কাজ শুরু হবে।
মালদহ-মুর্শিদাবাদের বন্যা ও ভাঙন সমস্যার সমাধানে যেভাবেই হোক রাজ্য সরকার যে টাকা জোগাড় করতে মরিয়া, এদিন সেটাও স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন,নাবার্ড, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, যাদের কাছে হাত পাততে হয়, পাতব। কিন্তু মালদহ ও মুর্শিদাবাদের বন্যা এবং ভাঙন সমস্যার স্থায়ী সমাধান করব, এটা আমাদের অঙ্গীকার।
মালদহ-মুর্শিদাবাদের গঙ্গা ভাঙন সমস্যার সমাধানে কেন্দ্রের কাছে ৩৩০০ কোটি টাকার প্রকল্পের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছর ৫০০ কোটি টাকার অনুমোদন মিলেছে বলে এদিন জানান শুভেন্দু। বলেন, একাধিক দপ্তরকে যুক্ত করে আমরা ভূতনির সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কাজ করব। করে দেখাব।
মথুরাপুরের সভার পর মানিকচক কলেজ মাঠে প্রশাসনিক বৈঠক সেরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভূতনির খুবই খারাপ অবস্থা। ১৪০০ মিটার বাঁধ উড়ে গেলে যা অবস্থা হয়, সেটাই হয়েছে। রিং বাঁধের কোনো অস্তিত্বই নেই। প্রায় ২২০০ মিটার বাঁধ তৈরি করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই কাজ হবে। টাকার সমস্যা হবে না। মোদ্দা কথা, বাঁধকে শক্তিশালী রাখতে হবে। ওভার ফ্লো করতে পারে। কিন্তু বাঁধ যাতে না ভাঙে, সেভাবে তৈরি করতে হবে। নেপালের ভয়াবহ বন্যার জেরেই এবার ভূতনির মানুষকে বানভাসি হতে হয় বলে এদিন দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, বিহার হয়ে মালদহের ভূতনিতে জল ঢুকেছে।
শুভেন্দুর তোপ, ভূতনির মানুষের জল-যন্ত্রণা আজকের নয়। গত ২০ বছরের বেশি সময় ধরে তাঁরা এই সমস্যায় ভুগছেন। এঁদের জন্য কেউ কিছু করেনি। আমরা করব। এদিন মালদহের বন্যা দুর্গতদের হাতে আড়াইশো কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ তুলে দিয়েছি। আমার যা ছিল উজাড় করে দিলাম।
ভূতনির বানভাসিদের পুনর্বাসনের বিষয়েও যে রাজ্য সরকার যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে, এদিন তা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, যাঁরা নীচু জায়গায় রয়েছেন, তাঁদের উপরের দিকে তুলে আনা হবে। আমরা জমি দেব। বাড়ি তৈরি করে দেব। এবছর ভূতনিতে ধান চাষ হবে না। সরকারের তরফে পর্যাপ্ত পরিমাণে কলাই, সর্ষে ও গমের বীজ দেওয়া হবে। এখানে মিষ্টি জলের মাছ চাষ হয়। সে ব্যাপারেও সহযোগিতা করবে রাজ্য সরকার। বন্যা কবলিত এলাকার স্কুলগুলিতে যাতে দ্রুত স্বাভাবিক পঠনপাঠন চালু করা হয়, সে ব্যাপারে এদিন জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী। জলে ডুবে থাকা নলকূপগুলির জল পরিশোধনে জোর দিতে বলেন। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং দুর্গতদের উদ্ধারে ভূতনি থানাকে তিনটি অত্যাধুনিক বোট দেওয়া হয়েছে বলে এদিন জানান শুভেন্দু।