সংবাদদাতা, রামপুরহাট: আগাম বসন্ত উৎসব পালন করেছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। দোল উৎসবের দিন কার্যত ‘বেরং’ থাকবে কবিগুরুর আশ্রম। তাই রংপিয়াসি পর্যটকরা অনেকেই এবার হাজির হচ্ছেন তারাপীঠ। দোল উৎসব উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার থেকেই পর্যটকদের ঢল নামতে শুরু করেছে সেখানে। আজ শুক্রবার সেই ভিড় কয়েকগুণ বেড়ে যাবে বলে আশা মন্দির কমিটির। শান্তিনিকেতনে এবার দোল উৎসব হচ্ছে না। তা সত্ত্বেও সেখানে বহু পর্যটক উপস্থিত। রবীন্দ্র-তীর্থ থেকে আরও বেশি পর্যটক টানতে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করেছেন তারাপীঠের হোটেল মালিকরা। হোটেল ভাড়ার ওপর ২০-৩০ শতাংশ ছাড় ঘোষণা করেছেন তাঁরা।
গত পাঁচ বছর ধরে দোল উৎসবে পর্যটদের ভিড় জমছে তীর্থভূমি তারাপীঠে। কিন্তু ২০১৯ সালে শেষবারের মতো সর্বসাধারণের জন্য বসন্ত উৎসবের আয়োজন করেছিল বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। পরের বছর করোনার কারণে উৎসব বাতিল করা হয়। এরপর থেকে ঘরোয়াভাবে বসন্ত উৎসব পালন করে আসছে তাঁরা। তাই নিয়ে পর্যটকরা যথেষ্টই নিরাশ হয়েছেন। দেখা গেছে, শান্তিনিকেতনে বসন্ত উৎসব যাঁরা দেখবেন বলে ঠিক করেছিলেন, তাঁদের বড় একটা অংশ তারাপীঠে চলে আসেন। এবারও শান্তিনিকেতনে আগাম বসন্ত উৎসব হয়েছে। ফলে নিরাশ পর্যটকদের একটা বড় অংশ সরাসরি তারাপীঠে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন। ফলে আজ ব্যাপক ভিড়ের আশা করছেন সেবাইতরা।
মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় বলেন, পর্যটকদের কাছে আমাদের একটাই আবেদন, দেবী মূর্তির ক্ষতি যাতে না হয়, সেজন্য আবির নিয়ে গর্ভগৃহে প্রবেশ করবেন না। গর্ভগৃহের বাইরে দেবীর চরণে ভেষজ আবির নিবেদন করে ভিতরে প্রবেশ করে দেবী দর্শন ও পুজো দিন আপনারা। এতে যেমন বিগ্রহ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকছে না, তেমনি পর্যটক ও সেবাইত সকলেই সুরক্ষিত থাকবেন। তারাময়বাবুর দাবি, পরপর তিনদিন ছুটি থাকায় আজ থেকে রবিবার পর্যন্ত ভিড় থাকবে পর্যটকদের।
এদিন সকলে দেবীর চরণে আবির নিবেদন করে রঙের উৎসবে মেতে উঠবেন। বিকেলে বিভিন্ন কীর্তনের দল আবির নিয়ে তারাপীঠ পরিক্রমা করবেন। দেবী তারাকে রাধাকৃষ্ণের সঙ্গে অভেদ কল্পনা করে মন্দির ও শ্মশান চত্বর মাতিয়ে তোলেন তাঁরা। প্রতি বছর দোল পূর্ণিমার দিন ভক্তদের দেওয়া নানা রঙের আবিরে ভরে ওঠে দোলমঞ্চ। তবে মন্দিরে দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের উন্নয়নমূলক কাজ চলায় সেই দোল মঞ্চ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আরও আকর্ষণীয় করতে নতুন করে দোল মঞ্চ নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছে টিআরডিএ।
উল্লেখ্য, তারাপীঠ থেকে পাঁচ কিমি দূরত্বে নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর জন্মস্থান ময়ূরেশ্বরের বীরচন্দ্রপুর। ফিবছর এখানে ধূমধাম করে দোল উৎসব পালন করা হয়। সেখানে বিদেশি পর্যটকদেরও ভিড় জমে। তারাপীঠে আসা বহু পর্যটক উৎসব দেখতে সেখানে হাজির হন। কিন্তু সেখানে রাত্রিবাসের তেমন কোনও ব্যবস্থা না থাকায় পর্যটকরা তারাপীঠের হোটেলকেই বেছে নেন। এদিকে পর্যটক টানতে লজ ভাড়ার উপর বিশেষ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। লজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুনীল গিরি বলেন, ৬০ শতাংশ লজের রুম বুকিং হয়েছে। অনেক পর্যটকই বৃহস্পতিবার থেকে আসতে শুরু করেছেন। দোল উৎসব উপলক্ষ্যে রুম ভাড়ার উপর ২০-৩০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। ফলে দোল উৎসব তারাপীঠের হোটেল ব্যবসায়ীদের
কাছে কার্যত পৌষমাস হয়ে উঠতে চলেছে। তারাপীঠ মন্দিরে ভক্তদের ভিড়।