Bartaman Logo
১৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জল থইথই বারুইপুর, সেতু ভাঙল নামখানায়, চাষে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা

কোথাও হাঁটু সমান, কোথাও বাড়ির উঠোনে উঠে এসেছে জল। সোনারপুর, বারুইপুর থেকে জয়নগর, ক্যানিং, ডায়মন্ডহারবার সর্বত্র কমবেশি একই হাল।

জল থইথই বারুইপুর, সেতু ভাঙল নামখানায়, চাষে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা
  • ১৪ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: কোথাও হাঁটু সমান, কোথাও বাড়ির উঠোনে উঠে এসেছে জল। সোনারপুর, বারুইপুর থেকে জয়নগর, ক্যানিং, ডায়মন্ডহারবার সর্বত্র কমবেশি একই হাল। গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত) জেলার মধ্যে সর্বাধিক বৃষ্টি হয়েছে ক্যানিংয়ে। আবহাওয়া অফিস থেকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখানে ১৪৯.৮ মিলি মিটার বৃষ্টি হয়েছে। এখানে একাধিক এলাকার অলিগলিতে, স্কুলের মাঠে জল জমে থাকলেও কিছু মূল রাস্তায় জল নেমে যায়। তবে বারুইপুর পুরসভা এলাকার হাল অত্যন্ত খারাপ ছিল দিনভর। একাধিক ওয়ার্ড ডুবে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েন এলাকার মানুষ। এদিকে, টানা বৃষ্টির জেরে নীচের মাটি ধস নিতেই ভেঙে পড়ল নামখানা ব্লকের বুধাখালি গ্রাম পঞ্চায়েতের কাঠের তৈরি বিবেকানন্দ সেতু। এছাড়া কাকদ্বীপ মহকুমা এলাকায় যাঁরা জমিতে ধানের চারা রোপণ করেছিলেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও সেসব নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিঘের পর বিঘে জমি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। চিন্তায় রয়েছেন বহু কৃষক।

Advertisement

জানা গিয়েছে, এদিন বারইপুর পুরসভার বেহাল নিকাশি ব্যবস্থার জেরে ভুগতে হল বাসিন্দাদের। পুরসভার ১৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৮, ১০, ১১, ১৩, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে সবথেকে বেশি জল জমেছে। সেখানে বাসিন্দাদের ঘরে ঘরে জল ঢুকেছে। এই পরিস্থিতিতে কোনোমতে মাত্র তিনটি পাম্প চালানো সম্ভব হয় বলে অভিযোগ। পুরসভার কাউন্সিলারদের দেখা নেই। এলাকায় নেই ভাইস চেয়ারম্যান গৌতম দাস। চেয়ারম্যান শক্তি রায়চৌধুরীর ফোন সুইচড অফ। অন্যদিকে, মদারাট, কল্যাণপুর, হরিহরপুর, চম্পাহাটি পঞ্চায়েতের বহু জায়গা জলমগ্ন। জয়নগর মজিলপুর পুরসভার কিছু ওয়ার্ডে জল জমেছে। জলমগ্ন রায়দিঘি বাজার এলাকাও। মন্দিরবাজারের লক্ষ্মীকান্তপুর স্টেশন সংলগ্ন এলাকাতেও জমা জলে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। রাজপুর সোনারপুর পুরসভা এলাকায় ১৫টি পাম্প চালিয়ে জমা জল নামানোর ব্যবস্থা করা হয়। এখানে, ৩, ৪, ১২, ১৫, ২৭, ২৯, ৩০, ৩১, ৩৪ ও ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে জল নামাতে এই ব্যবস্থা করে পুরসভা। অনেক জায়গায় নেমেও গিয়েছে বলে খবর। ডায়মন্ডহারবার পুর এলাকায় জল জমলেও সেটা নেমে যায়।
এদিকে, সাগরে উপকূলবর্তী এলাকায় বিপর্যয় মোকাবিলা বিভাগের কর্মীরা মাইকিং করেন। দুর্বল নদীবাঁধের আশপাশে যাতে কেউ না আশ্রয় নেন তার জন্য সতর্ক করা হয়। জেলার মধ্যে দ্বিতীয় সর্বাধিক বৃষ্টি হয়েছে সাগরে (১০৭.৮ মিলি মিটার)। তবে নামখানার  বিবেকানন্দ সেতু ভেঙে যাওয়ায় গ্রামবাসীরা সেতুর পাটাতনের উপরে কয়েকটি বাঁশ জুড়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত শুরু করেছেন। গ্রামের মহিলারা ও স্কুলের পড়ুয়াদের সমস্যা বেশি। জানা গিয়েছে, রাজনগর ও ফটিকপুর গ্রামের মাঝখান থেকে বয়ে গিয়েছে চুনকুড়ি নদী। ওই নদীর উপরে প্রায় ৩০ বছর আগে পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে একটি কাঠের সেতু তৈরি করা হয়েছিল। এখন সেটি ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা এক প্রকার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ