নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: গত দু’দিনের বৃষ্টিতে সাঁতরাগাছি আন্ডারপাসে জল-যন্ত্রণা বেড়েছে কয়েকগুণ। আন্ডারপাসের একধারে স্ল্যাব পাতা থাকলেও তার উপর দিয়ে হেঁটে পারাপার করারও উপায় নেই এখন। জল প্রায় কোমর সমান। জমা জলে চরম ভোগান্তির খবর প্রকাশিত হয়েছিল ‘বর্তমান’-এ। এরপর সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হয় হাওড়া পুরসভা ও হাওড়া সিটি পুলিস। মঙ্গলবার সাঁতরাগাছি আন্ডারপাস যৌথ পরিদর্শন করে তারা। নিত্যযাত্রীদের রাস্তা পারাপারের জন্য বিকল্প চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি জমা জল সরাতে অস্থায়ীভাবে একটি খাল কাটার কাজ শুরু করেছে পুরসভা।
সাঁতরাগাছি স্টেশনের সামনে একইসঙ্গে রেলের উন্নয়ন ও জাতীয় সড়কে এলিভেটেড করিডরের কাজ চলছে। সেই কাজের জন্য সাঁতরাগাছি স্টেশন রোডের সমস্ত নিকাশি আউটলেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে গত তিন মাস ধরেই সামান্য বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ছিল সাঁতরাগাছি আন্ডারপাস। খটখটে রোদেও আন্ডারপাসের জল বের করার কোনও উপায় ছিল না। বর্ষায় জমা জলের ভোগান্তি চরমে উঠবে বলে তখনই সিঁদুরে মেঘ দেখেছিলেন নিত্যযাত্রীরা। হয়েছেও তাই! বর্ষা শুরু হতেই সাঁতরাগাছি আন্ডারপাস সম্পূর্ণ জলের তলায় চলে গিয়েছে। গত তিনদিনে আন্ডারপাস থেকে সাবওয়ে পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে জল। ধার ঘেঁষেও আন্ডারপাস হতে পারছেন না সাধারণ মানুষ। অভিযোগ, এমন অবস্থায় সাধারণ মানুষের রাস্তা পারাপারের বিষয়টি জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের ভেবে দেখার কথা থাকলেও তাদের বিন্দুমাত্র হেলদোল নেই।
সম্প্রতি সাঁতরাগাছি আন্ডারপাসে নিত্যযাত্রীদের ভোগান্তি নিয়ে খবর প্রকাশ করে ‘বর্তমান’। এরপরেই তৎপর হয়ে ওঠে হাওড়া পুরসভা ও পুলিস। জানা গিয়েছে, এদিন দুপুরে ওই এলাকা পরিদর্শন করেন হাওড়া পুরসভার আধিকারিক ও ইঞ্জিনিয়াররা। সঙ্গে ছিলেন হাওড়া সিটি পুলিসের কর্তারা।
অস্থায়ীভাবে আন্ডারপাস বন্ধ রেখে সেখান থেকে খানিকটা আগে একটি জেব্রা ক্রসিং তৈরি করে আপাতত নিত্যযাত্রীদের রাস্তা পারাপার করানো যায় কি না, তা পর্যালোচনা করছে পুলিস। পাশাপাশি প্রায় কোমর সমান জল সরাতে স্টেশন রোডের পাশ থেকে ঝিল পর্যন্ত খাল কাটার কাজ শুরু করেছে হাওড়া পুরসভা। পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘আন্ডারপাসের জমা জল জগাছা স্টেশন রোড পর্যন্ত চলে যাচ্ছে। সে কারণেই আপাতত ঝিল পর্যন্ত খাল কেটে জমা জল সরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’