নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: এবার শিলিগুড়ি শহরে আরও ৮০০ কিমি এলাকায় বসবে পানীয় জলের পাইপ লাইন। সোমবার পুরসভায় বৈঠকের পর এ কথা জানান মেয়র গৌতম দেব। একইসঙ্গে তাঁর অভিযোগ, ম্যাপ না থাকায় পুরনো পাইপ লাইন বদল করতে গিয়ে সমস্যা হচ্ছে। এ ব্যাপারে তিনি সমস্ত কাউন্সিলারের সহযোগিতা চেয়েছেন। অন্যদিকে, গজলডোবায় মেগা জল প্রকল্পের ইনটেক ওয়েলের একাংশ বন্যপ্রাণীর জলপানের করিডরের অধীনে। এজন্য দিল্লির বন্যপ্রাণ বোর্ডের কাছে সংশ্লিষ্ট এলাকা ব্যবহার করার অনুমোদন চেয়েছে পুরসভা।
মেগা জল প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের নির্মাণ কাজে হাত দিয়েছে পুরসভা। আগামী ২১ মার্চ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজে হাত দেওয়া হবে। এই অবস্থায় প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ের পরিকল্পনার প্রস্তুতি পুরসভা শুরু করেছে। এজন্য এদিন পুরভবনে প্রশাসনের আধিকারিক সহ বিরোধী দলের কাউন্সিলাদের নিয়ে মেয়র বৈঠক করেন।
পরে মেয়র বলেন, শহরে প্রায় ২৯৩ কিমি এলাকায় পানীয় জলের পাইপ লাইন পাতা রয়েছে। নতুন করে পাইপ পাতা নিয়ে ন্যাপকন নামে একটি সংস্থা সমীক্ষা শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে শহরে আরও ৭০০ থেকে ৮০০ কিমি এলাকায় পাইপ পাতা হবে। তবে পানীয় জলের পুরনো পাইপ লাইনের অধিকাংশ জায়গায় অ্যাসবেস্টসের পাইপ লাইন রয়েছে। তা পরিবর্তন করে লোহার পাইপ বসানো হবে। কিন্তু পুরনো পাইপ লাইনের কোনও মানচিত্র নেই। এতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি ওয়ার্ডে সমীক্ষা হয়েছে। তা করতে যাতে কোথাও সমস্যা না হয়, সেজন্য কাউন্সিলারদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
পুরসভার প্রাক্তন মেয়র তথা সিপিএমের বর্তমান কাউন্সিলার মুন্সি নুরুল ইসলাম অবশ্য বলেন, শহরের জল প্রকল্প তৈরি করেছিল জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তর। কাজেই তাদের কাছে পুরনো প্রকল্পের পাইপ লাইনের ম্যাপ থাকবে। এজন্য মেয়রকে বলেছি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে চিঠি দিতে। আর জল প্রকল্প নিয়ে অতীতের মতো রাজনীতি করতে চাই না। এ ব্যাপারে পুরসভাকে সহযোগিতা করব।
এদিকে, মেগা জল প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের নির্মাণ কাজের অগ্রগতিও এদিনের সভায় তুলে ধরেন মেয়র। পরে তিনি বলেন, মেগা জল প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে গজলডোবায় তিস্তা নদীতে ইনটেক ওয়েল তৈরি করা হবে। সেখান থেকে অপরিস্রুত জল পাইপের মাধ্যমে ফুলবাড়ি প্লান্টে নিয়ে যাওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট এলাকার দূরত্ব প্রায় ২৭ কিমি। এরমধ্যে ১১ কিমি এলাকায় পাতা হয়েছে পাইপ। সবমিলিয়ে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই প্রথম পর্যায়ে প্রকল্পের ৪২.৭ শতাংশ নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। এজন্য সেচ ও বনদপ্তরের এবং রেলমন্ত্রকের কাছ থেকে ছাড়পত্র নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় জমি দেওয়ার জন্য বনদপ্তরকে আলিপুরদুয়ারে দেওয়া হবে পাঁচ একর জমি।
প্রসঙ্গত, গজলডোবায় যেখানে প্রকল্পের ইনটেক ওয়েল তৈরি করা হচ্ছে, তা বন্যপ্রাণীদের করিডর। তিস্তার জল পানের জন্য সেখানে আসে হাতি সহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী। মেয়র বলেন, সেই এলাকায় ইনটেক ওয়েল তৈরির জন্য দিল্লির বন্যপ্রাণ বোর্ডের কাছে অনুমতি চাওয়া হচ্ছে। তবে আগামী ২১ মার্চ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজের শিলান্যাস করা হবে। প্রকল্পের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য বরাদ্দের পরিমাণ ৫১৮ কোটি টাকা।