সংবাদদাতা, বজবজ: পুজালি পুরসভায় নতুন পাঁচটি ওভারহেড জলাধার তৈরির কাজ সম্পূর্ণ। কাল, বুধবার ওই পাঁচটি জলাধারে পরীক্ষামূলকভাবে জল সরবরাহ চালু করা হবে। তবে এখনও নাগরিকদের এই জলাধারগুলি জল দেওয়া হবে না। কারণ প্রশাসন দেখতে চাইছে, জল সরবরাহকারী পাইপের কোথাও লিকেজ আছে কি না, পাইপের কোথাও মাটি কিংবা বাইরের কিছু ঢুকছে কি না। পাশাপাশি জল ওই জলাধারে পৌঁছনোর পর তার শুদ্ধতা বজায় রাখা যাচ্ছে কি না, তাও দেখা হবে। জলাধারের ভিতরের দেওয়ালে চোরা লিকেজ আছে কি না, যাচাই হচ্ছে সেটিও।
চেয়ারম্যান তাপস বিশ্বাস বলেন, এইসব পরীক্ষার ফল সব ঠিকঠাক থাকলে, নাগরিকদের বাড়ি বাড়ি জল দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। ইতিপূর্বে আকড়া সন্তোষপুর ট্রিটমেন্ট প্লান্ট থেকে মহেশতলা পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে
জল সরবরাহ করা হয়েছিল। তখন এমন পরীক্ষা ছাড়াই জল সরবরাহ শুরু হয়। কিন্তু এরপর মাঝপথে জল দেওয়া বন্ধ করে দিতে হয়েছে। কারণ দেখা গিয়েছে, কোথাও পাইপ ফেটে জল বেরিয়ে যাচ্ছে, আবার কোথাও পাইপে মাটি ঢুকে থাকায় কাদাগোলা জল পেয়েছেন নাগরিকরা। এই অভিজ্ঞতার নিরিখেই এবার নতুন তৈরি পাঁচটি জলাধার থেকে পরীক্ষা ছাড়া জল সরবরাহ করতে চাইছে না পুরসভা। চেয়ারম্যান তথা পুজালি পুরসভার প্রশাসক তাপস বিশ্বাস বলেন, আমাদের নিজস্ব ট্রিটমেন্ট প্লান্ট আছে। সেখানে নয় মিলিয়ন গ্যালন জল তৈরি হয়। কিন্ত তার সবটা নাগরিকদের সরবরাহ করা যাচ্ছে না। কারণ জল ধরে রাখার জন্য এখন আমাদের রয়েছে একটি ওভারহেড এবং একটি ভূগর্ভস্থ– এই দু’টি মাত্র জলাধার। জলাধার কম থাকায় ১৬টি ওয়ার্ডে চল্লিশ হাজার নাগরিককে পর্যাপ্ত জল দেওয়া যাচ্ছে না। যাঁরা জল পাচ্ছেন, তাঁদের অনেকেই খুব কম জলের প্রেসার বা চাপ নিয়ে অভিযোগ করছেন। তাই পুরসভার তরফে কেএমডিএর কাছে তদ্বিরের পর ২০২২ সালে ১, ৪, ১১, ১৫ এবং ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝে পাঁচটি জলাধার তৈরি করা শুরু হয়। কিছুদিন আগেই তা শেষ হয়েছে। এবার ওই পাঁচটি জলাধার থেকে জল দেওয়া শুরু হলে প্রেসার পর্যাপ্ত থাকবে বলে আশা করছি।