Bartaman Logo
১২ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘বানভাসি’ কলকাতায় জল থইথই মঙ্গলবার সকালেও, ২ ঘণ্টার তুমুল বৃষ্টি, বন্ধ লক গেটও

মাত্র দেড় থেকে দু’ঘণ্টার মুষলধারে বৃষ্টি। তাতেই লণ্ডভণ্ড শহর কলকাতা ও বিস্তীর্ণ শহরতলি। সোমবার রাতের ভারী বর্ষণে ডুবেছে উত্তর-মধ্য কলকাতার বিরাট এলাকা।

‘বানভাসি’ কলকাতায় জল থইথই মঙ্গলবার সকালেও, ২ ঘণ্টার তুমুল বৃষ্টি, বন্ধ লক গেটও
  • ১২ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মাত্র দেড় থেকে দু’ঘণ্টার মুষলধারে বৃষ্টি। তাতেই লণ্ডভণ্ড শহর কলকাতা ও বিস্তীর্ণ শহরতলি। সোমবার রাতের ভারী বর্ষণে ডুবেছে উত্তর-মধ্য কলকাতার বিরাট এলাকা। সেই সঙ্গে দমদম, পাতিপুকুর, বরানগরের বহু এলাকায় জলমগ্ন হয়ে পড়ে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, প্রচণ্ড গরম এবং বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকার কারণে উত্তর কলকাতা ও লাগোয়া এলাকায় বজ্রগর্ভ মেঘের সৃষ্টি হয়। তা থেকেই স্বল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে। 

Advertisement

কলকাতা পুরসভার দাবি, এদিন রাত ৯টার পর থেকে গঙ্গায় জোয়ার থাকায় সমস্ত লকগেট বন্ধ ছিল। সেই সময় তুমুল বৃষ্টির কারণে বিশেষ করে উত্তর ও মধ্য কলকাতায় বহু অংশে গভীর রাত পর্যন্ত জল দাঁড়িয়েছিল। মঙ্গলবার সকালেও মধ্য কলকাতার বিভিন্ন রাস্তায় জল জমে থাকার চিত্র ধরা পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে পুর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে নাগরিক মহল। তাদের দাবি, সঠিকভাবে ম্যানহোলের পলি তোলা হচ্ছে না। পুরসভা সূত্রে খবর, বিধানসভা নির্বাচন থাকায় চলতি বছরের শুরুতে অনেকটা সময় নষ্ট হয়েছে। পালাবদল পরবর্তী সময়েও পুরসভার নানা কাজ আটকে গিয়েছে বিভিন্ন জটিলতায়। ফলে সর্বত্র নিকাশিনালার পলি ঠিকমতো তোলা সম্ভব হয়নি। প্রশাসনিক জটিলতার কারণেই সময়মতো সব জায়গায় অস্থায়ী পাম্প মোতায়েন করা যায়নি। ঠনঠনিয়া, রাজাবাজারের মতো জায়গায় নিকাশির কাজের জন্যই ভূগর্ভস্থ নালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে এই ঘেঁটে ঘ পরিস্থিতি! তবে পুরসভা জানিয়েছে, তারা দ্রুত জল নামাতে মোট ৫০টি গাড়ি ও মেশিন ব্যবহার করেছে। 
আলিপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দমদমে বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ১০১.৪ মিমি ও আলিপুরে ৬২.৮ মিমি। এটা সোমবারের ২৪ ঘণ্টার হিসাব হলেও মূলত রাত সাড়ে ৮টা থেকে পরবর্তী দেড়-দু’ঘণ্টাই সর্বাধিক বৃষ্টি হয়েছে। ফলে রাতেই কলকাতার সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, মুক্তারামবাবু স্ট্রিট, কলেজ স্ট্রিট, আমহার্স্ট স্ট্রিট, বিবেকানন্দ রোডের একাংশ, মানিকতলা, শিয়ালদহ, ঠনঠনিয়া, বড়বাজার, বউবাজারসহ উত্তর ও মধ্য কলকাতার বহু এলাকা হাঁটুসমান জলের তলায় চলে যায়। উল্টোডাঙা, পাতিপুকুর, দমদম, বি টি রোডের নানা অংশও জলমগ্ন হয়ে পড়ে। পাতিপুকুর আন্ডারপাসে গাড়ি ডুবে যায়। জল থেকে সেই গাড়ি তুলে আনতে হিমশিম খেয়ে হয় গাড়ির চালক ও পুলিশকে। উল্টোডাঙা আন্ডারপাস, হাডকো মোড়ও জলমগ্ন ছিল। কলকাতা পুরসভার হিসাব বলছে, সোমবার রাতে সর্বাধিক বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে বেলগাছিয়া পাম্পিং স্টেশন জোনে ( ২০১ মিমি)। 
কম সময়ে বিপুল বৃষ্টি, আর রাত প্রায় দেড়টা পর্যন্ত জোয়ার থাকায় গঙ্গার লকগেট বন্ধ থাকায় জমা জলের ভোগান্তি বেড়েছে কয়েক গুন। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, কলকাতা পুরসভার বোর্ড ভেঙে গিয়েছে। মেয়র-কাউন্সিলার নেই। প্রশাসক চালাচ্ছেন এত বড়ো পুরসভা। সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে প্রাক্তন কাউন্সিলারদের কোনো যোগাযোগ বা সমন্বয়ও থাকছে না। বর্ষায় সময় জমা জলের সমস্যাসহ নানা জটিলতা সামাল দিতে জনপ্রতিনিধি ও অফিসারদের সুসমন্বয় প্রয়োজন হয়। সেটাই না থাকায় পরিস্থিতি এতটা ঘোরালো হয়ে উঠেছিল। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ