সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: গরম পড়তেই মেদিনীপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় মাটির নীচের জলস্তর নামতে শুরু করেছে। এর ফলে বেশকিছু এলাকায় পানীয় জলের সঙ্কট শুরু হয়ে গিয়েছে। দিন দিন সঙ্কট আরও বাড়তে পারে। তাই সঙ্কট মোকাবিলায় তৎপর হল মেদিনীপুর পুরসভা। ঠিক হয়েছে, বিভিন্ন ওয়ার্ডের ডিপটিউবওয়েলগুলির পাম্প এবার থেকে দু’বারের জায়গায় তিনবার চালানো হবে। উল্লেখ্য, মেদিনীপুর শহরে কাঁসাই নদীর জল প্রকল্প বাদেও বিভিন্ন ওয়ার্ডে একাধিক ডিপটিউবওয়েল আছে। সেখান থেকেও জল সরবরাহ করা হয়। এছাড়াও শহরে আম্রুত প্রকল্পের কাজ চলছে। তবে এখনও অনেক কাজ বাকি রয়েছে। এই গ্রীষ্মে সেই প্রকল্প থেকে পানীয় জল পাওয়া যাবে কি না, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না পুরকর্তৃপক্ষও।
পুরসভা সূত্রের খবর, শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে এরকম ১৪৫টি ডিপটিউবওয়েল রয়েছে। মাটির নীচ থেকে পাম্পের সাহায্যে জল উত্তোলন করে সরাসরি পাইপ লাইনে যুক্ত করে দেওয়া হয়। পাইপ লাইন থেকে রাস্তার ট্যাপকলে এবং বাড়িতে জল সরবরাহ করা হয়। কাঁসাই নদীর জল প্রকল্প থেকেও পাইপ লাইনের মাধ্যমে শহরে জল সরবরাহ করা হয়। পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খান বলেন, শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডই কাঁসাই নদী জল প্রকল্প ও ডিপটিউবওয়েলের উপর নির্ভরশীল। জলস্তর নেমে গেলে সর্বত্রই জলসঙ্কট দেখা দেবে।
তিনি আরও বলেন, জলস্তর নামতে শুরু করেছে। স্বাভাবিকভাবেই যত দিন যাবে জলের টান পড়বে। এখন ডিপটিউবওয়েলের পাম্পগুলি দিনে দু’বার চারঘণ্টা করে চালানো হয়। বাসিন্দারা সকাল-বিকেল দু’বেলা জল পান। তবে, জলস্তর নেমে যাওয়ায় এবার পাম্পগুলি সকাল ও বিকেল টানা চার ঘণ্টার পরিবর্তে তিন ঘণ্টা করে চালানো হবে। মাঝে একবার দু’ঘণ্টা চালানো হবে। দু’বারের জায়গায় তিনবার জল সরবরাহ করা হবে। এদিকে গরম পড়তেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় ট্যাপকলে ঘোলা জল আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাসিন্দারা বলেন, প্রথমদিকে বেশকিছুটা সময় ট্যাপকলে ঘোলা জল আসছে। সেই জল ব্যবহারের যোগ্য নয়। পরে যখন ভালো জল আসছে, তখন চাপ কমে যাচ্ছে। পর্যাপ্ত জল পাওয়া যাচ্ছে না। চেয়ারম্যান বলেন, বিভিন্ন জায়গায় মাটির নীচের পাইপে নোংরা জমে গিয়েছে। ফলে অনেক জায়গায় ঘোলা জল আসছে। কোথাও আবার পর্যাপ্ত জল আসছে না। এখন সেই পাইপগুলি পরিষ্কার করা হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।