নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পাঁশকুড়ায় ফের বিপদসীমা ছাড়াল কংসাবতীর জল। বৃষ্টি ও ব্যারাজের ছাড়া জলে নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় গত কয়েকদিনে পাঁশকুড়া ও ময়নার অন্তত পাঁচ জায়গায় নদীবাঁধে ধস নেমেছে। সেচদপ্তর এনিয়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে। নিম্নচাপের জেরে গত কয়েকদিন ভারী বৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি কংসাবতী ব্যারেজ থেকে ১৫ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া হচ্ছে। বৃষ্টি ও ব্যারেজের ছাড়া জলে রবিবার রাতে পাঁশকুড়ায় কংসাবতীতে জলস্তর চূড়ান্ত বিপদসীমা অতিক্রম করে। জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় পাঁশকুড়ার পশ্চিম চিল্কা, ময়নার শ্রীকণ্ঠা, পিঠালিতলা, নারকেলদা, ঢেউভাঙা সহ মোট পাঁচ জায়গায় নদীবাঁধে ধস নেমেছে। প্রত্যেকটি জায়গাতেই জোরকদমে কাজ শুরু হয়েছে।
সেচদপ্তরের তমলুকের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার দেবব্রত সরকার বলেন, রবিবার রাত থেকে কংসাবতীতে জলস্তর চূড়ান্ত বিপদসীমা ছুঁয়েছে। গত কয়েকদিনে মোট পাঁচ জায়গায় নদীবাঁধে ধস নেমেছে। আমাদের টিম কাজ করছে। জলস্তর বেড়ে যাওয়ার কারণে নদীবাঁধ বরাবর নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ পাঁশকুড়ার পশ্চিম চিল্কার কংসবতী নদীবাঁধে ধস নামে। প্রায় ২৫ মিটার নদীবাঁধ বসে যায়। সেচদপ্তরের পক্ষ থেকে এলাকায় ক্যাম্প করে গাছে গুড়ি পুঁতে প্রায় একশো মিটার এলাকাজুড়ে বাঁধ মেরামতের কাজ চলছে। দপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা রুটিন ভিজিট করছেন। একইভাবে ময়নার চার জায়গায় নদীবাঁধে জরুরিভিত্তিতে কাজ চলছে। ক্যাম্প করে ঠিকাদার সংস্থা ওই কাজ করছে। নদীতে জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় মেরামতের কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
চলতি মরশুমে এই নিয়ে তিনবার পাঁশকুড়ায় জলস্তর চূড়ান্ত বিপদসীমা পার করল। এর আগে ১৬ জুলাই পাঁশকুড়ার নওয়াপাড়া এলাকায় নদীবাঁধে ধস নামায় জরুরিভিত্তিতে কাজ হয়েছিল। ফের নিম্নচাপের জেরে ভারী বৃষ্টিতে আবারও জলস্তর অনেকটা বেড়েছে।
এরফলে নদীবাঁধের উপর চাপ বাড়ায় মোট পাঁচ জায়গায় ধস নামে। পাঁশকুড়া পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি সুজিত রায় বলেন, পশ্চিম চিল্কা ও মাগুরীতে ধস নেমেছিল। মাগুরী এলাকায় মেরামতের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। পশ্চিম চিল্কার নদীবাঁধ মেরামতের কাজ চলছে। সোমবার দিনের বেলায় জলস্তর কিছুটা কমেছে।
জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী বলেন, ভারী বৃষ্টির জন্য নদীতে জলস্তর আবার বেড়েছে। ব্যারেজ থেকে জল ছাড়া হচ্ছে। এই অবস্থায় পাঁশকুড়ায় কংসাবতীতে জলস্তর বেড়েছে। মোট পাঁচ জায়গায় নদীবাঁধে ধস নেমেছে। সেচদপ্তরকে প্রতি মুহূর্তে নজরদারি চালাতে বলা হয়েছে। প্রতিটি জায়গায় কাজ চলছে।