সংবাদদাতা, চাঁচল: মালদহের রতুয়ায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বরং শুক্রবারের তুলনায় বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে শনিবার। পাশাপাশি কয়েকটি এলাকায় ফের ভাঙন শুরু হয়েছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতি ও ভাঙনে দিশাহারা রতুয়া ১ ব্লকের দুটি গ্রাম পঞ্চায়তের ১০টি এলাকার মানুষ। বাড়িতে জল ঢোকার পাশাপাশি এলাকার সমস্ত রাস্তাঘাট জলের তলায়। যাতায়াতের জন্য পঞ্চায়েতের তরফে নৌকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুর্গতদের জন্য কমিউনিটি কিচেন করা হয়েছে। তাঁদের খিচুড়ি খাওয়ানো হচ্ছে। শনিবার এলাকা পরিদর্শনে যান চাঁচলের মহকুমাশাসক শৌভিক মুখোপাধ্যায় সহ প্রশাসনের আধিকারিকরা। এলাকায় ঘাঁটি গেঁড়ে রয়েছেন রতুয়ার বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়ও।
প্রশাসন ও সেচদপ্তর সূত্রে জানা যায়, শনিবারও গঙ্গা চরম বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। শুক্রবারের তুলনায় নদীর জল এদিন আরও বেড়েছে। ফলে শ্রীকান্তটোলা, বঙ্কুটোলা, ভাসারামটোলা, চৈতুটোলা, রাজকিশোরটোলা সহ ১০টি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জল ঢুকেছে বাড়িতেও। রাস্তা চলে গিয়েছে জলের তলায়। জরুরি প্রয়োজনে নৌকায় চেপে যাতায়াত করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।
পশ্চিম রতনপুরে ভাঙন শুরু হওয়ায় অনেকে ঘর ভেঙে জিনিসপত্র ট্রাক্টরে করে নিরাপদে নিয়ে যাচ্ছেন। দুর্গতদের জন্য মালিরামটোলা প্রাথমিক স্কুলে কমিউনিটি কিটেন খোলা হয়েছে। সেখানে প্রশাসন খিচুড়ি দিলেও এখনও পর্যাপ্ত ত্রাণ মেলেনি বলে অভিযোগ। মহকুমাশাসক শৌভিক মুখোপাধ্যায় বলেন, দুর্গতদের সকলকেই ত্রাণ দেওয়া হবে। আমরা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছি। দুর্গত লালচাঁদ মণ্ডল বলেন, ঘরে জল ঢুকেছে। সন্তানদের নিয়ে রাতে ঘুম হয় না। প্রশাসনের তরফে ত্রাণ দেওয়া হোক। আরেক বধূ পুতুল দেবী বলেন, ঘরে জল ঢুকেছে। আসবাবপত্র সব প্রাইমারি স্কুলের শিবিরে নিয়ে যাচ্ছি।