নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: নিম্নচাপের জেরে টানা বৃষ্টি। বিনপুর-২ ব্লকের রামপুর খালের জল কজওয়ের উপর দিয়ে বইছে। ব্লক সদরের সঙ্গে বাঁশপাহাড়ী গ্ৰাম পঞ্চায়েত এলাকার আমলাশোল, ছুরিমার, মনিয়ারডি, বগডুবার মতো ১৫টি গ্ৰামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে, গ্ৰামবাসীরা ব্যাপক সমস্যায় পড়েছেন।
ঝাড়গ্রাম জেলার বেলপাহাড়ী অন্যতম পর্যটনস্থল। বর্ষার মরশুমে পর্যটকরা এখানে বেড়াতে আসছেন। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার দিনভর বৃষ্টি হয়েছে। প্রবল বৃষ্টিতে তারফেনি নদীর জলস্তর বেড়েছে। ছোট ছোট পাহাড়ী নদীগুলি প্রবল বেগে বইছে। রামপুর খালের জল সোমবার রাত থেকেই কজওয়ের উপর দিয়ে বইছে। বেলপাহাড়ী সদরের সঙ্গে বাঁশপাহাড়ীর গ্ৰামগুলির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। ফলে পরুলিয়া, বান্দোয়ান সহ পড়শী রাজ্য ঝাড়খণ্ডের সঙ্গে সড়কপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গ্ৰামগুলির বাসিন্দারা বাজার হাট, স্কুল, কলেজ , হাসপাতাল ও ব্লক অফিসে নানা কাজে আসেন। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় তাঁরা বিপাকে পড়েছেন।
অনেকে ঝুঁকি নিয়ে কজওয়ে পার করছেন। রামপুর খালের উপর কজওয়েটি উঁচু করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো হচ্ছে। জেলার ব্যবসায়ীরাও ছোট নদী, খালের উপর থাকা একাধিক নিচু কজওয়ে উঁচু করার দাবিতে সরব হয়েছেন। বেলপাহাড়ীর ডাহুকখোলা নদীর হড়পা বানে নির্মীয়মাণ কজওয়ে পার হতে গিয়ে কিছুদিন আগে পর্যটকদের একটি গাড়ি ডুবে যায়। রামপুর কজওয়ে ডুবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।
মনিয়ারডি গ্ৰামের বাসিন্দা পেশায় শিক্ষক প্রেমানন্দ মুর্মু বলেন, রামপুর খালের উপর থাকা কজওয়ে দিয়ে প্রবল বেগে জল বইছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় গ্ৰামের মানুষ ব্লক সদরে আসতে পারছেন না। বর্ষায় প্রতিবছর সমস্যায় পড়তে হয়। আমরা চাই, কজওয়েগুলি উঁচু করা হোক। জাবালো গ্ৰামের বাসিন্দা মধুসূদন মাহাত বলেন, বাজার হাট, প্রশাসনি দপ্তর থেকে চিকিৎসা সব কিছুর জন্য ব্লক সদরে যেতে হয়। যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কাজে যেতে পারিনি।
বেলপাহাড়ীর এক ব্যবসায়ী বলেন, বর্ষায় বহু পর্যটক এখানে বেড়াতে আসছেন। পাহাড় ও অরণ্যেঘেরা পর্যটন স্থলগুলিতে ঘুরছেন। পাহাড়ী নদীগুলি থেকে হড়পা বান নেমে আসছে। যেকোনও মুহূর্তে বড় বিপদ ঘটে যেতে পারে। জেলা ও ব্লক প্রশাসনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। বাঁশপাহাড়ী গ্ৰাম পঞ্চায়েতের উপ প্রধান করুণাপ্রসাদ মান্ডি বলেন, চাকাডোবা থেকে কাকড়াঝোর যাওয়ার পথে কজওয়েটি রয়েছে। রামপুর খালের উপর থাকা কজওয়ে খুবই নীচু। টানা বৃষ্টি হলেই কজওয়ের উপর দিয়ে জল বইতে শুরু করে। ফলে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। একাধিক গ্ৰামের মানুষ যাতায়াতে সমস্যায় পড়েন। বিনপুর-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিকাশচন্দ্র সর্দার বলেন, বর্ষায় এলাকার বাসিন্দারা যাতায়াতের সমস্যায় পড়েন। রাস্তাটি পূর্ত দপ্তরের। রাস্তাটি সম্প্রসারণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। বেলপাহাড়ীর রামপুর খালের উপর কজওয়ে জলের তলায়।-নিজস্ব চিত্র