Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শ্রেণিকক্ষে জল থইথই, রাস্তাতেই ক্লাস! প্রশাসনের নির্দেশে দু’দিনে অস্থায়ী স্কুল

তিস্তার জলে থইথই ক্লাসরুম। ফলে বাধ্য হয়ে রাস্তাতেই চলছিল ক্লাস। ‘বর্তমান’-এ সেই খবর প্রকাশিত হতেই জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসনের নির্দেশে মাত্র দু’দিনে তৈরি হল অস্থায়ী স্কুল!

শ্রেণিকক্ষে জল থইথই, রাস্তাতেই ক্লাস! প্রশাসনের নির্দেশে দু’দিনে অস্থায়ী স্কুল
  • ২৬ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: তিস্তার জলে থইথই ক্লাসরুম। ফলে বাধ্য হয়ে রাস্তাতেই চলছিল ক্লাস। ‘বর্তমান’-এ সেই খবর প্রকাশিত হতেই জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসনের নির্দেশে মাত্র দু’দিনে তৈরি হল অস্থায়ী স্কুল! টিনের শেড দেওয়া সেই অস্থায়ী স্কুলে সোমবার ক্লাস করল ক্রান্তির উত্তর বাসুসুবা হাবিরুদ্দিন স্মৃতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। সেখানে বসেই হল পরীক্ষাও। প্রশাসনের এই উদ্যোগে খুশি ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকদের পাশাপাশি শিক্ষকরা।

Advertisement

জলপাইগুড়ির অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) ধীমান বাড়ই বলেন, নদীর জল ঢুকে স্কুল জলমগ্ন হয়ে পড়ায় উত্তর বাসুসুবার ওই প্রাথমিকের পড়ুয়াদের রাস্তার উপর খোলা জায়গায় বসে পড়াশোনা করতে হচ্ছিল। সেখানে বসেই মিড ডে মিল খেতে হচ্ছিল তাদের। বিষয়টি নজরে আসামাত্র ক্রান্তির বিডিওকে অস্থায়ী স্কুল বানিয়ে দিতে বলা হয়। মাত্র দু’দিনের মধ্যে ওই এলাকাতেই উঁচু জায়গায় টিনের শেড দিয়ে অস্থায়ীভাবে স্কুল বানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ক্রান্তির বিডিও রিমিল সোরেন বলেন, তিস্তায় জল বাড়লেই উত্তর বাসুসুবার বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। হাবিরুদ্দিন স্মৃতি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নিচু জমিতে অবস্থিত। ফলে স্কুলের ভিতর নদীর জল ঢুকে যাওয়ায় সেখানে ক্লাস করানো সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে ক্লাস করাচ্ছিলেন শিক্ষকরা। এনিয়ে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে নির্দেশ পেয়েই গত শুক্রবার আমি বিকল্প কী ব্যবস্থা করা যায় তা দেখতে ওই এলাকায় যাই। বাসিন্দারা একটি উঁচু জায়গা চিহ্নিত করে দিতেই সেখানে টিনের শেড দিয়ে দু’দিনের মধ্যে অস্থায়ী স্কুল বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে এদিন ক্লাস হয়েছে। পড়ুয়াদের জন্য পরিস্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা করতে পিএইচই’র সঙ্গে কথা হয়েছে। আশাকরি, মঙ্গলবার থেকেই ওই স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের জন্য পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহ করবে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর।
ক্রান্তি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পঞ্চানন রায় বলেন, আমিও ওই স্কুলটি পরিদর্শন করেছি। এখনও যতটা জল রয়েছে তা নামতে বেশ কয়েকদিন সময় লাগবে। সেকারণে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট এলাকাতেই অস্থায়ী স্কুল তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। জল নামলেই পড়ুয়ারা যাতে স্থায়ী স্কুলে ক্লাস করতে পারে, তার ব্যবস্থা করা হবে। সেইসঙ্গে ওই স্কুলে যাতে নদীর জল ঢুকতে না পারে, সেব্যাপারেও ভাবনাচিন্তা চলছে।  অস্থায়ী স্কুলে চলছে ক্লাস। - নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ