সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: এ যেন মেঘ না চাইতেই জল! আসানসোলের ঘরের মেয়ে পুরমন্ত্রী। কুলটির ডাক্তারবাবু রাজ্যের পূর্ত ও জনস্বাস্থ্য-কারিগরি দপ্তরের মন্ত্রী। বুধবার বিজেপি সরকারের মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন করা হয়। সেখানেই কুলটির বিধায়ক অজয় পোদ্দারকে দু’টি দপ্তরের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দশকের পর দশক ধরে শিল্পাঞ্চলের মানুষ পানীয় জলের সংকটে নাজেহাল। তাই এলাকার বিধায়ক দপ্তরের মন্ত্রী হওয়ায় আশায় বুক বাঁধছেন জেলাবাসী। পাশাপাশি, কুলটির অজয়বাবু পূর্তমন্ত্রী হওয়ায় দীর্ঘদিনের মানুষের চাহিদা মেনে দামোদরের উপর সেতু তৈরির সম্ভাবনাও আরও উজ্জ্বল হল মনে করা হচ্ছে। মন্ত্রী হয়েই দু’টি বিষয় নিয়েই ‘বর্তমান’কে ফোনে তাঁর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন অজয়বাবু।
তিনি বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের ঠিকাদারদের বিপুল টাকা বকেয়া রয়েছে। সেই টাকা মিটিয়ে কাজের গতি আনব। ২০২৭ সালের মার্চ মাসের মধ্যে শিল্পাঞ্চলে পানীয় জলের সংকট মেটাব। পুরমন্ত্রীও সচেষ্ট হয়েছেন। জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরও তাঁদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে জেলাবাসীর কয়েক দশকের সংকট নির্মূল করবে।’ পূর্তদপ্তর নিয়েও পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সংঘ ঘনিষ্ঠ বিজেপি বিধায়ক। তিনি বলেন, ‘গোটা রাজ্যের রাস্তা ভেঙে পড়েছে। অন্যান্য রাজ্যে যে ভাবে উন্নত সড়ক গড়ে উঠেছে। আমাদের রাজ্যেও তা করতে হবে।’ তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, নিয়ামতপুর থেকে দিসেরগড় হয়ে পুরুলিয়া যাওয়া রাজ্য সড়কের কথা। বলেন, ‘ওই রাস্তা উন্নতমানের করে গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হীরাপুর ও বাঁকুড়ার জেলার মাঝে দামোদরের সেতুর বিষয়টিও আমাদের নজরে রয়েছে। এটা আমাদের প্রতিশ্রুতি ছিল। সেখানে সেতু নির্মাণ হবে।’
নিরবচ্ছিন্ন ৩৪ বছরের বামশাসন থেকে তৃণমূলের ১৫ বছর—পর্যাপ্ত পানীয় জলের জন্য চাতক পাখির মতো চেয়ে থেকেছে শিল্পাঞ্চলবাসী। জলসংকট মেটেনি। উল্টে, এক বছর আগে দামোদরে কালাঝরিয়ায় জল প্রকল্পের ব্রিজ ভেঙে পড়ায় পানীয় জলের সংকট আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে জল জীবন মিশন প্রকল্পেও টাকা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নতুন জলপ্রকল্প গড়ার পরিকল্পনা থমকে গিয়েছিল। পানীয় জল না পেয়ে সাধারণ মানুষ দফায় দফায় রাস্তা অবরোধ করছেন। এই অবস্থায় দপ্তরের দায়িত্বে এলেন অজয় পোদ্দার। চার দশকের মানুষের চিকিৎসা করার পর অজয়বাবু এবার জল সমস্যা মেটাতে পারেন কি না, সেদিকেই সাধারণ মানুষের নজর। তবে, জেলার বিধায়ক এই দপ্তর পাওয়ায় খুশি এলাকাবাসী। তাঁরা মনে করেন, কুলটির বাসিন্দা হওয়ার জন্য জল সংকটের সমস্যা অজয়বাবুর নখদর্পণে। তিনি প্রথম থেকেই এই সমস্যা মেটাতে যাবতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন।