নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের গ্রামীণ এলাকার প্রতিটি বাড়িতে পানীয় জলের সংযোগ দেওয়ার প্রকল্পে নয়া নজির গড়ল বাংলা। কেন্দ্রের বেঁধে দেওয়া দরের প্রায় ১৫ হাজার টাকা কমে এক একটি বাড়িতে সংযোগ সুনিশ্চিত করল রাজ্য। এক একটি বাড়িতে পানীয় জলের সংযোগ দিতে কত টাকা খরচ করা যাবে, তা বেঁধে দিয়ে প্রকল্পের শুরুতেই গাইডলাইন প্রকাশ করেছিল কেন্দ্র। মূলত, মাটির চরিত্র, কাঁচা মালের দর ইত্যাদি বিচার করেই এই দর বেঁধে দিয়েছিল নয়াদিল্লি। সেই গাইডলাইন অনুযায়ী এরাজ্যে একটি বাড়িতে জলের সংযোগ দিতে সর্বোচ্চ ৪৭ হাজার টাকা করে খরচ ধার্য করা হয়। তবে মুখ্যমন্ত্রীর নজরদারিতে স্বচ্ছতার সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে মাত্র ৩১ হাজার ৭৭৫ টাকায় একটি বাড়িতে পানীয় জলের সংযোগ দেওয়া সম্ভব করেছে রাজ্য।
সূত্রের খবর, বাংলাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে দেশের অন্যান্য রাজ্যের অতিরিক্ত খরচ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মোদি সরকারেরই অর্থমন্ত্রক। দেখা যাচ্ছে ডবল ইঞ্জিন রাজ্যে গড়ে সংযোগ পিছু খরচ ১ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ২০২৪ সালের মার্চ মাসে দেশের প্রতিটি বাড়িতে পানীয় জলের সংযোগ পৌঁছে যাওয়ার কথা ছিল। তা সম্ভব না হওয়ায়, প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৮ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী বছরগুলিতে বকেয়া কাজের জন্য বাড়তি টাকা চাওয়াতেই জলশক্তি মন্ত্রককে অর্থমন্ত্রকের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। জানতে চাওয়া হয়, ২০১৯-২০’তে যেখানে একটি বাড়িতে সংযোগ দিতে দেশের গড় খরচ ছিল ৩০ হাজার টাকা, বর্তমানে তা বেড়ে ১ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা কীভাবে হয়? বিশ্লেষকদের মতে, মহারাষ্ট্র, বিহার, অসমের মতো ডবল ইঞ্জিন রাজ্যে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার কাজের অনুমোদনই দেয়নি স্টেট লেভেল স্কিম স্যাংশনিং কমিটি। স্বচ্ছতার অভাব এবং দীর্ঘদিন কাজ না হওয়াতেই লাফিয়ে লাফিয়ে প্রকল্পের খরচ বেড়ে যায় বলেই মত সংশ্লিষ্ট মহলের। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রাজ্যের বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া নিয়েও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গত আগস্ট মাস থেকে রাজ্যগুলিকে জল জীবন মিশন (এরাজ্যে জলস্বপ্ন) প্রকল্পের নিজের অংশের (পঞ্চাশ শতাংশ হারে) টাকা দেওয়া বন্ধ রেখেছে মোদি সরকার। ২০২৫-২৬’র বাজেটে প্রকল্পের সময়সীমা বেড়ে যাওয়ায়, এবার টাকা ছাড়া হবে বলেই আশাবাদী রাজ্যগুলি। এমন পরিস্থিতিতে কার্যত নিজের কোষাগার থেকে খরচ করেই বাড়ি বাড়ি জলের সংযোগ দেওয়ার কাজ চালাচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। এখনও পর্যন্ত এই প্রকল্পে বাংলায় খরচ হয়েছে ২৯,৭৬১.৫১ কোটি টাকা। সংযোগ পৌঁছেছে ৯৫ লক্ষ বাড়িতে। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রের বেঁধে দেওয়া একটি সংযোগের জন্য ৪৭ হাজার টাকা করে খরচ হলে, সংযোগ পৌঁছনোর কথা ছিল মাত্র ৬২ লক্ষ ৩২ হাজার বাড়িতে।