নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: চণ্ডীতলা এক নম্বর ব্লকের অধিকাংশ পঞ্চায়েতেই পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প হয়নি। এবার চণ্ডীতলা এক নম্বর পঞ্চায়েত সমিতি আর্থিক সাহায্য দিয়ে প্রকল্প তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি যাচাই করে আগেই একটি পাইলট প্রকল্প পঞ্চায়েত সমিতি করেছিল। তাতে সাফল্য এসেছে। তারপর সমিতির অর্থ স্থায়ী সমিতি পঞ্চায়েত ভিত্তিক পরিকল্পনা অনুমোদন করে দিয়েছে। সমিতি সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্লকের সমস্ত পঞ্চায়েতকে অর্থসাহায্য দিয়ে দু’রকম বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প গড়ে তোলা হবে। সামগ্রিকভাবে পরিবেশ নিরাপদ রাখতে এবং পরিচ্ছন্নতার স্বার্থে এই পরিকল্পনা সমিতির। দফায় দফায় সমস্ত পঞ্চায়েতকে সাহায্য দিয়ে দু’রকম বর্জ্য ইউনিট গড়ে তোলার কাজ হবে।
চণ্ডীতলা এক নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মলয় খাঁ বলেন, জেলাজুড়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার তৎপরতা শুরু হয়েছে। ব্লকের মানুষের স্বার্থে আমরাও ওই পরিকল্পনার অংশীদার হতে চাইছি। এই সমিতির অধিকাংশ পঞ্চায়েতেই অপচনশীল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প হলেও পচনশীল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা হয়নি। তার একটি বড় কারণ টাকার সমস্যা। সেই কারণে আমরা পঞ্চায়েত ধরে ধরে অর্থসাহায্য ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে উভয়রকম বর্জ্যকেই রূপান্তরিত ও ব্যবহার উপযোগী করে তুলব। চলতি বছরেই সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েতে এই প্রকল্প হবে।
পঞ্চায়েত সমিতি সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছরের মাঝামাঝি সময় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সমস্যার বিষয়টি আধিকারিকদের নজরে আসে। তারপর ব্লকের ন’টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে কৃষ্ণরামপুর ও ভগবতীপুরকে বেছে নেওয়া হয়। সেখানে সমিতির অর্থ সাহায্যে একটি প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছে। সাফল্যের নিরিখে চমকে দিয়েছে কৃষ্ণরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েত। সেখানকার প্রকল্পে উচ্চমানের সার তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। বর্জ্যকে সারে রূপান্তরির করার কাজকে ইতিমধ্যেই শংসাপত্র দিয়েছে কল্যাণীর কৃষি গবেষণা কেন্দ্র। কৃষ্ণরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পাশাপাশি চণ্ডীতলা এক নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির তরফেও সার বিক্রির কাজ শুরু হয়েছে। কৃষ্ণরামপুরের সাফল্যই পঞ্চায়েত সমিতির আধিকারিকদের পথ দেখায়। তারপর সমিতির অর্থ স্থায়ী সমিতি পঞ্চায়েত ধরে আর্থিক সাহায্য এবং পরিকাঠামো গড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
চণ্ডীতলা এক নম্বর ব্লকের মশাট গ্রাম পঞ্চায়েতকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের জন্য অর্থ সাহায্য করেছে পঞ্চায়েত সমিতি। সেখানে প্রকল্প গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হুগলি জেলা পরিষদের এক কর্তা বলেন, একদিকে স্থায়ী সম্পদ তৈরি এবং পরিবেশের সুরক্ষা, দু’টি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ একসঙ্গে হচ্ছে। গ্রাম পঞ্চায়েতের মতো ছোট সংস্থার মাথায় থাকা পঞ্চায়েত সমিতি নেতৃত্ব দিচ্ছে। সামগ্রিক ব্লক উন্নয়নের নিরিখে বিষয়টি একটি দৃষ্টান্ত। নিজস্ব চিত্র