


নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: প্রায় এক দশক আগে রাজ্য পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বর্জ্য ব্যবস্থাপন প্রকল্প গড়ার। পরিকল্পনা অনুযায়ী সেই প্রকল্পের আওতায় অনেকের কর্ম সংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। তার সঙ্গে বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে সার উৎপাদন করে পুরসভার আয় বাড়ারও কথা। কিন্তু সেই নির্দেশের পরও অধরা সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট। জমিজটে বারবার থমকে যাচ্ছে প্রকল্পের কাজ। নিত্যদিন রামকৃষ্ণ সেতুর নীচে জমছে জঞ্জালের স্তূপ। দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ পথচারীরা। পল্লিশ্রী এলাকায় অস্থায়ী ফাঁকা জমিতে দীর্ঘদিন ধরে ফেলা হচ্ছে শহরের জঞ্জাল। তাতে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে বলে অভিযোগ। যদিও পুর চেয়ারম্যান সমীর ভান্ডারী বলছেন, বিকল্প জমির খোঁজ চলছে। শীঘ্রই এই ব্যাপারে পদক্ষেপ করা হবে। তবে বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল পরিচালিত পুরসভার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধীরা। বিজেপি নেতা বিমান ঘোষ বলেন, পুরসভার নির্দিষ্ট কোনও পরিকল্পনা না থাকার ফলে এখনও শহরে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প হয়নি। মানুষের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করে কাজ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাই বাধা পাচ্ছে। আদতে পুরসভার সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। বিজেপির অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছে পুরসভা। উল্লেখ্য, হাওড়ায় ডাম্পিং গ্রাউন্ড নিয়ে দুর্ঘটনার জেরে আরামবাগে এই ব্যাপারে অনেকেই সরব হয়েছেন। অভিযোগ, শহরে ডাম্পিং গ্রাউন্ড গড়তে একাধিক জমি চিহ্নিত করেছে পুরসভা। কিন্তু কোথাও কাজ শুরু করা যায়নি। জমিজটের কারণে বাধার মুখে পড়ে পিছিয়ে আসতে হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে আরামবাগ শহরের জঞ্জাল ফেলা হচ্ছে পল্লিশ্রীতে দ্বারকেশ্বর নদের গা ঘেঁষে। অস্থায়ী সেই ডাম্পিং গ্রাউন্ডের পাশেই রামকৃষ্ণ সেতু। সেটিও দীর্ঘদিনের প্রাচীন। ওই সেতু আরামবাগের সঙ্গে যুক্ত করেছে মেদিনীপুর ও বাঁকুড়াকে। বাস সহ অন্যান্য যান চলাচল করে সেতু দিয়ে। সেতুতে ওঠার আগেই দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠতে হচ্ছে পথচারীদের। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রত্যেক দিন বিপুল পরিমাণ জঞ্জাল ফেলা হচ্ছে সেতুর নীচে। বর্ষায় দ্বারকেশ্বরে জল বাড়লে সেইসব জঞ্জালের একাংশ ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে নদী। তাতেও পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। তাই বর্জ্য ব্যবস্থাপন প্রকল্প গড়া অত্যন্ত জরুরি। এরজন্য দ্রুত জমি চিহ্নিত করা হোক।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক মাস আগে নির্দেশমতো পল্লিশ্রীর অস্থায়ী ডাম্পিং গ্রাউন্ড থেকে কিছু জঞ্জাল অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আপাতত সেই কাজ থমকে। জঞ্জালের স্তূপ ফের বাড়ছে। পুরসভা পরিচালিত আরামবাগ উৎসবের ভার্চুয়াল উদ্বোধনে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এই ব্যাপারে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিলেন। পুরসভা তারপর প্রশাসনকে চিঠি দেয়। কিন্তু তাতেও প্রকল্পের কাজ এগয়নি বলে অভিযোগ। নিজস্ব চিত্র