Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চক্রান্ত ফাঁসের হুঁশিয়ারি, মমতা মুর্শিদাবাদ যাবেন মে’র গোড়ায়

কেন্দ্রের নয়া ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান। ঘরবাড়ি দোকানপাট ভাঙচুর থেকে শুরু করে সরকারি সম্পত্তি নষ্টের সাক্ষী থেকেছে মুর্শিদাবাদ।

চক্রান্ত ফাঁসের হুঁশিয়ারি, মমতা মুর্শিদাবাদ যাবেন মে’র গোড়ায়
  • ২৩ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: কেন্দ্রের নয়া ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান। ঘরবাড়ি দোকানপাট ভাঙচুর থেকে শুরু করে সরকারি সম্পত্তি নষ্টের সাক্ষী থেকেছে মুর্শিদাবাদ। এই অশান্তি কেড়েছে একাধিক প্রাণও। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে ওই এলাকায় পরিদর্শনে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই এলাকায় রাজ্যপালের যাওয়া নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী ওই সমস্ত মানুষের পাশে গিয়ে তাঁর দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা জানান আগেই। তবে পরিস্থিতির উপর নবান্ন থেকেই নিয়মিত নজর রেখে গিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন প্রশাসনের সাহায্যে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার উপরই। বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। 

Advertisement

এদিন মেদিনীপুরের পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠান মঞ্চেও মুখ্যমন্ত্রীর গলায় শোনা গেল চক্রান্ত ফাঁস করার হুঁশিয়ারি। বহিরাগতদের সাহায্যে এই অশান্তি সৃষ্টি করা হয় বলেই তাঁর অভিযোগ। এদিন ফের একবার একতার বার্তা দিলেন তিনি। পাশাপাশি, রাজ্যের ঐক্যে আঘাত হানতে চাওয়ার বিরুদ্ধেও দিয়েছেন হুঙ্কার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মনে রাখবেন একটা দাঙ্গা হয়েছে। সেটা দুঃখজনক। আমরা কেউ দাঙ্গা চাই না। ধুলিয়ানে দুটো ওয়ার্ডে হয়েছে। সেটাও বহিরাগতরা কিছু লোককে সঙ্গে নিয়ে কীভাবে করেছে, সেই চক্রান্ত আমরা ফাঁস করে দেব।’ 
এই অশান্তিতে যারা আক্রান্ত, তাঁদের পাশে সবরকমভাবে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যাঁরা মারা গিয়েছেন তাঁদের পরিবারকে আমরা কথা দিয়েছি ১০ লক্ষ টাকা করে দেব। প্রয়োজনে তাঁদের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার দায়িত্বও সরকার নেবে। তাঁদের বাড়ি করে দেওয়া হবে। দোকানদারদের ক্ষতিপূরণ দিতে সমীক্ষা করা হচ্ছে। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে আমি যাব। আমি গিয়ে দেখে বাকিটা করে দিয়ে আসব।’ 
অন্যদিকে, মঙ্গলবার মেদিনীপুর কলেজ মাঠে পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠান চলাকালে অসুস্থ হয়ে পড়েন গড়বেতার শহিদ পরিবারের সদস্য মতিউর মণ্ডল। তৎক্ষণাৎ ভাষণ থামিয়ে সেই ব্যক্তির সুস্থতার লক্ষ্যে পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর নির্দেশ, রোগীকে প্রয়োজনে তাঁরই গাড়িতে করে হাসপতালে নিয়ে যাওয়া হবে। সমানে মাইকেই আধিকারিকদের নির্দেশ দিতে শোনা যায় তাঁকে। প্রাথমিকভাবে ওআরএস দেওয়া থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া, সমস্তটার তদারকি করেন মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং। এই ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সভা শেষ করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। 
এদিন মেদিনীপুরের তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রচণ্ড গরমে মিটিংয়ে আসা মানুষজনের কথা মাথায় রেখে ছাউনি বা হ্যাঙ্গার তৈরি করা হয়েছিল। বিশাল সাইজের এবং অনেকগুলি অত্যাধুনিক স্ট্যান্ডফ্যানেরও ব্যবস্থা করা হয়। তবে বেজায় ভিড়ের মধ্যে গরমের কারণেই খড়কুশমা এলাকার মাঝবয়সি ওই ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তড়িঘড়ি তাঁকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। মতিউরকে হাসপাতালে দেখতে যান মন্ত্রী শিউলি সাহা এবং সাংসদ জুন মালিয়া।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ