Bartaman Logo
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দালালদের দাপট, মুরারই গ্রামীণ হাসপাতালে সতর্কীকরণ বোর্ড

বিনামূল্যে সরকারি পরিষেবা পাওয়ার আশায় এসে চরম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ ও অসহায় রোগীদের

দালালদের দাপট, মুরারই গ্রামীণ হাসপাতালে সতর্কীকরণ বোর্ড
  • ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট : বিনামূল্যে সরকারি পরিষেবা পাওয়ার আশায় এসে চরম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ ও অসহায় রোগীদের। আউটডোরের টিকিট কাটা, জরুরি প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা, রিপোর্ট পাওয়ার অপেক্ষা কিংবা হাসপাতালে বেড পাওয়া—সবক্ষেত্রেই জাঁকিয়ে বসেছিল দালাল চক্র। অবশেষে মুরারই গ্রামীণ হাসপাতালের এই বেআইনি ‘দালালরাজ’ উপড়ে ফেলতে কঠোর অবস্থান নিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল চত্বরজুড়ে টাঙানো হয়েছে সতর্কীকরণ বোর্ড এবং বাড়ানো হয়েছে সিসি ক্যামেরার নজরদারি।

Advertisement

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জারি করা বিশেষ নোটিসে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, অ্যাম্বুলেন্স বা প্রাইভেট গাড়ির চালক, অননুমোদিত ল্যাবরেটরির কর্মী কিংবা দালালচক্রের কোনো সদস্য হাসপাতাল চত্বরে ঢুকে রোগী বা তাঁদের পরিজনদের প্রলোভন দেখালে, বেআইনিভাবে যোগাযোগ করলে কিংবা প্রতারণার চেষ্টা করলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মুরারই ছাড়াও সীমানা পেরিয়ে প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডের বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ চিকিৎসার তাগিদে এখানে আসেন। ভাষাগত সমস্যার কারণে ভিনরাজ্যের এই অসহায় রোগীরাই প্রধানত দালালদের সহজ টার্গেটে পরিণত হন। স্থানীয়দের অভিযোগ, চিকিৎসকদের একাংশের গাফিলতি ও আউটডোরে দেরিতে আসার সুযোগ নিয়েই শক্তিশালী হয়ে উঠেছে এই চক্র। দালালরা রোগীর আত্মীয় সেজে ওয়ার্ডে ঢুকে ভর্তি থাকা রোগীদের বিভ্রান্ত করে এবং নির্দিষ্ট চিকিৎসকদের প্রাইভেট চেম্বারে নিয়ে গিয়ে মোটা অঙ্কের কমিশন পকেটে পুরছে।
এর পাশাপাশি হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় গজিয়ে ওঠা প্রাইভেট ল্যাবরেটরিগুলির দৌরাত্ম্যও চরমে পৌঁছেছে। দ্রুত প্যাথলজিক্যাল টেস্টের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের থেকে বিপুল টাকা হাতানো হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, এই প্রাইভেট ল্যাবগুলির অধিকাংশেরই কোনো বৈধ রেজিস্ট্রেশন নেই এবং তাদের রিপোর্টেরও কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। এ প্রসঙ্গে সিরাজুল হক নামে এক রোগীর পরিজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রেজিস্ট্রেশন না থাকা সত্ত্বেও স্বাস্থ্য দপ্তর কেন এগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না? ভুল রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে ভুল ওষুধ দেওয়া হলে রোগীর চিরতরে শারীরিক ক্ষতি বা মৃত্যুও হতে পারে।
তবে স্বাস্থ্য দপ্তরের কড়া নির্দেশিকার পর সম্প্রতি তৎপরতা অনেকটাই বেড়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরায় নজরদারি চলাকালীন সম্প্রতি এক চিকিৎসকের সঙ্গে হাসপাতালের ভেতরেই এক দালালকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই পদক্ষেপ নিয়ে বিএমওএইচ অভিজিৎ মণ্ডল জানান, রোগী ও তাঁদের পরিবারের ক্ষোভ ও অভিযোগের ভিত্তিতেই দালালরাজ নির্মূল করতে এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সতর্কীকরণ বোর্ডের মাধ্যমে দালালদের বার্তা দেওয়া হয়েছে যে ছাড় মিলবে না। প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপে বর্তমানে হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে বলে দাবি তাঁর। অন্যদিকে খুব শীঘ্রই ওই ল্যাবরেটরিগুলিতে অভিযান চালানো হবে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য জেলার কর্তারা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ