নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ভারত-পাক যুদ্ধ আবহে প্রতিপক্ষর আক্রমণ হলে কীভাবে রক্ষা পাওয়া যাবে? কতটা ক্ষতি থেকে বাঁচা যাবে? সেসব নিয়ে প্রস্তুতি তুঙ্গে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, শিল্পাঞ্চলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন, কারখানা, হাসপাতাল, বিমান বন্দর সহ ১০০টি প্রতিষ্ঠানকে ‘ভাইটাল ইস্টলেশন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। ব্যবহার করা হচ্ছে প্রযুক্তি। চিত্তরঞ্জনের স্কুলে বুধবার মক ড্রিল হয়েছিল। এবার মক ড্রিল হল অণ্ডালের বড় একটি বেসরকারি স্কুলে। আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ানরা পড়ুয়াদের এই মক ড্রিল করান। পাশাপাশি, দুর্গাপুর স্টিল টাউনশিপে সন্ধ্যায় কিছুক্ষণের জন্য ব্ল্যাক আউট করা হয়। যারফলে শহরের একাংশ অন্ধকারে ঢাকে।
১৯৭১ সালের যুদ্ধেও শিল্পাঞ্চলের প্রতি বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছিল। প্রবীণ নাগরিকরা জানান, সেই সময় ডিএসপি, এএসপির মতো কারখানার বৃহৎ ওয়ার্কশপগুলিকে কালো ত্রিপলে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল। টাউনশিপের কোয়ার্টারের কাচের জানলাগুলি কালো কাগজে ঢেকে দিতে হয়েছিল। দুর্গাপুরের প্রাক্তন শ্রমিক রণজিৎ গুহ বলেন, একাত্তরের যুদ্ধের তুলনায় প্রকাশ্যে যুদ্ধের প্রস্তুতি অনেক কম দেখছি। বিভিন্ন স্কুলে হলেও সামগ্রিকভাবে নাগরিকদের মক ড্রিলে অংশগ্রহণ করানো হয়নি। তবে এখন যুদ্ধ অনেক আধুনিক। প্রযুক্তির মাধ্যমে সতর্কতা নেওয়া হলেও আমরা বুঝতে পারব না।
রণজিৎবাবুর কথারই প্রতিধ্বনি শোনা গিয়েছে এক গোয়েন্দা অফিসারের মুখেও। তিনি জানান, শিল্পাঞ্চলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যা শত্রু দেশের টার্গেট হতে পারে। তার তালিকা শীর্ষ প্রশাসনিক মহলে পাঠানো হয়েছে। আসানসোল-দুর্গাপুর শুধুই শিল্পাঞ্চল নয়, ভারতের বিরাট অংশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লার জোগান দেয় এই এলাকাই। এক্ষেত্রেও এলাকার বাড়তি গুরুত্ব রয়েছে। ইসিএলের অন্যতম অধিকর্তা নীলাদ্রি রায় বলেন, এখনও স্বাভাবিক গতিতে আমরা কয়লা উত্তোলন ও পরিবহণ করছি। কেন্দ্রীয় সরকার কোনও গাইডলাইন দিলে আমরা সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেব। উৎপাদনের নিরিখে বিশ্বের বৃহত্তম রেল ইঞ্জিন তৈরির কারখানা সিএলডব্লুও পশ্চিম বর্ধমান জেলায় রয়েছে। সেখানকার মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক উত্তমকুমার মাইতি বলেন, আরপিএফের আইজি পদমর্যাদার অফিসারের নেতৃত্বে কারখানার নিরাপত্তার দিকটি নিয়মিত দেখা হয়। বুধবার থেকে রেল স্টেশন ও রেললাইনের উপর বাড়তি নজরদারি শুরু হয়েছে। বুধবার বার্নপুর স্টেশনে যৌথ তল্লাশি করে রাজ্য পুলিস ও আরপিএফ। বৃহস্পতিবারআসানসোল স্টেশনেও বিশেষ তল্লাশি চলে। অণ্ডালের একটি স্কুলে মক ড্রিল আধাসামরিক বাহিনীর। নিজস্ব চিত্র