Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

যুদ্ধের দূষণ

রামধনু রাসায়নিক! কুখ্যাত এই বিষকে এ নামেই ডাকত মার্কিন বহুজাতিক সংস্থাগুলি। এই নামেই তা পরিচিত ছিল মার্কিন সেনাদের কাছেও।

যুদ্ধের দূষণ
  • ২৬ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

মৃণালকান্তি দাস

Advertisement

রামধনু রাসায়নিক! কুখ্যাত এই বিষকে এ নামেই ডাকত মার্কিন বহুজাতিক সংস্থাগুলি। এই নামেই তা পরিচিত ছিল মার্কিন সেনাদের কাছেও। কারণ, আমেরিকা থেকে তা ভিয়েতনামে নিয়ে যাওয়া হত গোলাপি, সবুজ, লাল, সাদা, কমলা রঙের বাহারি ড্রামে। ১৯৬১ সালে এই রাসায়নিক ব্যবহারে সবুজ সংকেত মেলে। তার পরের দশ বছর ভিয়েতনামে ঢালা হয়েছিল এই সাতরঙা বিষের মধ্যে সবচেয়ে কুখ্যাত ‘এজেন্ট অরেঞ্জ’। সব মিলিয়ে মোট সাড়ে চার কোটি লিটার।
রাসায়নিক দিয়ে সবুজ ধ্বংসের পাশাপাশি গাছ জ্বালানোর অভিযানেও নেমেছিল আমেরিকা। সেই কাজে তাঁদের হাতিয়ার ছিল নাপাম বোমা। প্লাস্টিক পলিয়েস্টিরিন, হাইড্রোকার্বন বেঞ্জিন আর গ্যাসোলিন দিয়ে তৈরি এই জেলির মতো রাসায়নিক মিশ্রণ ভিয়েতনামজুড়ে ফেলেছিল মার্কিন সেনারা। কখনও স্প্রে করে, কখনও সরাসরি বোমা ফেলে জ্বালিয়ে দেওয়া হত জঙ্গল, ঘরবাড়ি। এই রাসায়নিকে আগুন লাগলে তা জ্বলতে থাকে দশ মিনিট ধরে, তাপমাত্রা পৌঁছয় ১০০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে। গোটা দুনিয়া সেই নৃশংস হামলার প্রতিবাদে পথে নামলেও পরিবেশ ধ্বংস নিয়ে অতটা মাথাব্যথা ছিল না। উষ্ণায়নেরও তেমন কোনও প্রভাব টের পায়নি গোটা বিশ্ব।
পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্যের উপর যুদ্ধের মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় ১৯৯০-৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধ। এই যুদ্ধে পারস্য উপসাগরের জলে প্রায় এক কোটি ব্যারেল কুয়েতি তেল ঢেলে দিয়েছিল ইরাক। ভয়ানক বিপর্যস্ত হয়েছিল সেখানকার জলজ বাস্তুতন্ত্র। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তেল মাখা এক বিপন্ন পানকৌড়ি পাখির অসহায়তার ছবি আজও কেউ ভুলতে পারেনি।
১৯৮৭ সালে ব্রান্টল্যান্ড কমিশন ‘আওয়ার কমন ফিউচার’ নামে এক প্রতিবেদন পেশ করে। ব্রান্টল্যান্ড প্রতিবেদনে পরিষ্কার বলা হয়েছে, যুদ্ধের বদলে দেশের নিরাপত্তার কথা ভেবে আন্তর্জাতিক চুক্তি হোক। অস্ত্রের বোঝা কমানো হোক। কেউ শোনেনি সেই কথা! ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্রগুলির মোট সামরিক কার্বন ফুটপ্রিন্ট ৩ কোটি টন বেড়েছে— যা অতিরিক্ত ৮০ লাখেরও বেশি গাড়ি থেকে দূষণ হওয়ার সমান। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ভয়াবহ হত্যালীলার পরেও, আজও যুদ্ধ নিয়ে দেশে দেশে মানুষ সক্রিয়। যুদ্ধ শুধু মৃত্যুকেই অনিবার্যভাবে আহ্বান করে না, প্রকৃতির ভারসাম্যকে চূড়ান্তভাবে ধ্বংস করে।
২০২২ সালে ‘নেচার’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়, আমেরিকার বিমানবাহিনীর এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান যখন ১০০ নটিক্যাল মাইল (১৮৫ কিলোমিটার) উড়ে যায়, তখন যত কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসারিত হয়, তা ব্রিটেনের একটি সাধারণ পেট্রোলচালিত গাড়ির এক বছরের নিঃসরণের সমান। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, শুধু মার্কিন সামরিক বাহিনীর জেট ফুয়েল ব্যবহারই প্রতি বছর ষাট লক্ষ মার্কিন যাত্রীবাহী গাড়ির সমপরিমাণ কার্বন নিঃসরণ ঘটায়।
দীপাবলির বাজির দূষণে আজ যাঁরা গেল গেল রব তোলেন, তাঁদেরই অনেকে দিনের পর দিন নীরব থাকেন এই দুনিয়ার ভয়ঙ্কর যুদ্ধক্ষেত্রের ধ্বংসলীলা দেখে। তাকিয়েও দেখেন না, আত্মরক্ষার কোনও কৌশলই যাদের জানা থাকে না, সেই রকম হাজার হাজার শিশুর রক্তে এই মুহূর্তে ভিজে যাচ্ছে গাজার মাটি। শুধু গাজা কেন, সংঘর্ষদীর্ণ ইউক্রেন, আফগানিস্তান, ইয়েমেন, সিরিয়া, ইরাক, মালি, নাইজিরিয়া, সোমালিয়া, সাউথ সুদান, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক ও কঙ্গোর মতো বিশ্বের অন্তত ১০টি দেশও কয়েক দশক ধরে রক্তস্নাত। যদিও আজ আর কোনও মৃত্যুর খবরই আমাদের তেমন আর স্পর্শ করে না। যেমন করে না বোমা বর্ষণে ধ্বংস হয়ে যাওয়া পরিবেশের খবরও।
দু’-একদিনের বাজির দূষণ নিয়ে যাঁরা বছরভর চিন্তিত, তাঁদের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের কুইন মেরি কলেজের এক গবেষণা জানাচ্ছে, গাজা যুদ্ধের প্রথম দুই মাসে ধরিত্রীর উষ্ণায়নের জন্য দায়ী ক্ষতিকর কার্বন গ্যাস যতটা নির্গত হয়েছে, তা জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা ২০টি দেশের বার্ষিক কার্বন নিঃসরণের সমান। গবেষণা প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, গাজায় বোমাবর্ষণের জন্য ওই ৬০ দিনে শুধু বিমান থেকেই কার্বন নিঃসরণ হয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৬৫০ টন। এর মধ্যে আমেরিকা থেকে সামরিক সরবরাহ পরিবহণে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৫০ এবং ইজরায়েলের বিমান অভিযানে ১ লাখ ২২ হাজার টন গ্যাস নির্গমন ঘটেছে। সঙ্গে রয়েছে স্থলবাহিনীর ৫ হাজার ৬৬৩ টন কার্বন উদ্‌গিরণও। একই সময়ে হামাসের রকেট হামলা থেকে কার্বন নিঃসরিত হয়েছে ৭১৩ টন।
ইজরায়েলি সামরিক বাহিনীর যথেচ্ছ ধ্বংসযজ্ঞের এক-তৃতীয়াংশ সময়ের খণ্ডচিত্র যদি এই হয়, তাহলে গোটা যুদ্ধে তা আরও কত গুণ ক্ষতির কারণ হয়েছে, তা অনুধাবন করা কঠিন নয়। গাজা যুদ্ধে ক্ষতির শিকার শুধু প্যালেস্তিনীয় জনগোষ্ঠী নয়, গোটা বিশ্বের মানবজাতি ও জৈবব্যবস্থা। কোনও যুদ্ধ ছাড়াই বিশ্ব উষ্ণায়নে সামরিক বাহিনীর ভূমিকা এমনিতেও বেশ উদ্বেগের। কোন দেশ কী পরিমাণে কার্বন গ্যাস তৈরি করে, তার হিসেব নিয়মিতভাবে রাষ্ট্রসংঘের সংস্থা ইউএন ফ্রেমওয়ার্ক ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ, ইউএনএফসিসির কাছে পেশ করতে হয়। কিন্তু আমেরিকার চাপে সামরিক বাহিনী কতটা কার্বন নিঃসরণ করে, তা জানানোর কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। এর তথ্য প্রকাশ একেবারেই স্বেচ্ছামূলক। তারপরও সায়েন্টিস্টস ফর গ্লোবাল রেসপন্সিবিলিটি এবং কনফ্লিক্ট অ্যান্ড গ্লোবাল অবজারভেটরির ‘কপ ২৬’-এর সময়ে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলেছে, বিশ্বে যতটা ক্ষতিকর গ্যাস নির্গমন ঘটে, তার সাড়ে ৫ শতাংশ হয় সামরিক বাহিনীর জন্য। সামরিক বাহিনীর এই গ্যাস উদ্‌গিরণের পরিমাণ বিশ্বে আকাশ ও সমুদ্রপথের পরিবহণ ব্যবস্থায় যতটা গ্যাস উদ্‌গিরণ হয় (যথাক্রমে ১.৯ ও ১.৭ শতাংশ), তার যোগফলের চেয়েও বেশি।
রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের কথাই ধরুন। ২০২২ সালে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে প্রতিদিন গড়ে ৩ হাজার ৩২০ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হচ্ছে। বিস্ফোরণ ও গোলাবারুদের কারণে সাত শতাধিক শিল্প কারখানা, তেল ডিপো ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংস হয়েছে, ফলে মারাত্মক বায়ু ও মাটিদূষণ হয়েছে। পৃথিবীজুড়ে শান্তির বার্তায় যুদ্ধ বন্ধের আওয়াজ উঠেছে। কিন্তু এই যুদ্ধ পরিবেশের উপর কী মারাত্মক প্রভাব ফেলছে, তা একবারও বলা হচ্ছে না। একদিকে রাষ্ট্রনায়করা মিলিত হয়ে বিশ্ব উষ্ণায়ন নিয়ন্ত্রণ করার কথা বলছেন, অন্যদিকে যুদ্ধ করে বা যুদ্ধের প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে ক্রমাগত উষ্ণায়ন বৃদ্ধি করছেন। নির্মম পরিবেশ সংহার বন্ধ করতেও আজ যুদ্ধ বন্ধ করা প্রয়োজন।
গ্লোবাল কার্বন প্রজেক্ট-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, সামরিক কার্যকলাপের ফলে বছরে প্রায় ২৫ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হয়। যা অনেক ছোটো দেশের মোট নির্গমনের চেয়েও বেশি। ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের প্রথম পাঁচ বছরে (২০০৩–২০০৮) শুধু মার্কিন সামরিক বাহিনীই প্রায় ১৪১ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড সমতুল্য গ্যাস নিঃসরণ করেছিল। এই পরিমাণ গ্যাস নির্গমন ২১টি ইউরোপীয় দেশের বার্ষিক নির্গমনের সমান। তেল কূপে বোমা বর্ষণ, জ্বালানির অসংযত ব্যবহার, বিশাল সামরিক যানবাহনের চলাচল এবং ধ্বংসযজ্ঞের পুনর্গঠন—সব মিলিয়ে এই নির্গমন হয়। আমেরিকার প্রতিরক্ষা বিভাগ একাই বছরে ৫৬ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড সমতুল্য গ্যাস নির্গমন করে, যা গোটা পেরুর সমপরিমাণ। গবেষকরা বলছেন, যদি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র ধরা হয়, তাহলে এটি ৪৭তম সর্বোচ্চ নির্গমনকারী দেশ হত।
গবেষণায় দেখা গেছে, কোনও দেশের এক শতাংশ সামরিক বাজেট বৃদ্ধির সঙ্গে গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমন ০.৯ থেকে ২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। পরিবেশের উপর যুদ্ধের প্রভাব কেবল গ্যাস নির্গমনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ১৯৯১ সালের পারস্য উপসাগর যুদ্ধের সময় ইরাকে ৭৩৬টি তেল কূপে আগুন লাগানো হয়। প্রতিটি কূপ থেকে প্রতিদিন ৫০০০১ কোটিরও বেশি টন কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হয় এবং কয়েক মিলিয়ন গ্যালন অপরিশোধিত তেল আশেপাশের জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়ে। এতে গঠিত হয় ২৫০ মিলিয়ন গ্যালনের ‘তেল হ্রদ’, যা কয়েক দশক পরও ভূগর্ভে জল দূষণ করছে। গাজা উপত্যকার সাম্প্রতিক সংঘাতেও ধ্বংসস্তূপ জমেছে ৩৭–৫০ মিলিয়ন টন, যা শুধু ভবন ধ্বংসের কারণে নয়— বিপুল জ্বালানি ব্যবহার, রাসায়নিক বিস্ফোরণ, জল পরিশোধন প্লান্ট ধ্বংস এবং কৃষিজমিতে সামরিক প্রবেশের কারণে মাটির উর্বরতা হারিয়ে যাচ্ছে।
অথচ, পৃথিবীর কাছে একটা নয়, দুটো বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস আছে। হিরোশিমা-নাগাসাকির উদাহরণও আছে। পরমাণু অস্ত্র প্রয়োগের ওই ভয়াবহতা এবং তার ফলাফল জানা সত্ত্বেও, পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে পরিচয় দেওয়াটা আজ যেন শ্লাঘার বিষয়। ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে ইন্টারন্যাশনাল ফিজিশিয়ানস ফর দ্য প্রিভেনশন অব নিউক্লিয়ার ওয়ার এবং ফিজিশিয়ানস ফর সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি নামে দু’টি সংস্থা একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনটিতে আশঙ্কা করা হয়েছিল, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পরমাণু যুদ্ধ হলে, তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়বে গোটা বিশ্বে। বোমার তেজস্ক্রিয়তার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পরিবেশের ভারসাম্য। ওজোন স্তরের অর্ধেক ধ্বংস হবে। তৈরি হবে প্রবল পারমাণবিক শৈত্য। বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে মৌসুমি বায়ুর গতিপথ। পারমাণবিক বিস্ফোরণের ফলে আবহাওয়া মণ্ডলে যে কার্বন এয়রোসল কণা ছড়াবে তাতে এক দশক পর্যন্ত ধান, গম সহ খাদ্যশস্য উৎপাদন সাংঘাতিক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দুর্ভিক্ষের কবলে পড়বে প্রায় ২০০ কোটি মানুষ। পরিণতির চেয়ে জিঘাংসাকে রাষ্ট্রনেতারা বেশি তৃপ্তির বলে মনে করেন। ইতিহাস বলে, একটা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ পাল্টা যুদ্ধের আশঙ্কাই তৈরি করে। নৃশংসতা জন্ম দেয় আরও ভয়াবহ নৃশংসতার। যুদ্ধে শুধু তো মানুষ মারা যায় না, ক্ষতি হয় প্রকৃতিরও। চাষের জমি নষ্ট হওয়ায় নষ্ট হয় আগামী দিনের ফসলের সম্ভাবনা। প্রভাবিত হয় বিশ্ব অর্থনীতিও। 
মনে পড়ে সেই জার্মান সেনার কথা! যখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়, সেই জার্মান সেনা বলেছিলেন, তখন ‘দাঁড়িয়ে থাকে মূক বধির কালো গাছগুলি, যার প্রতিটি সবুজ পাতা আগুনে জ্বলে গিয়েছে। প্রান্তর জুড়ে সবুজ শেষ। মাইলের পর মাইল কেবলমাত্র ধূসর ভাঙা পাথরের সারি, যারা মৃত্যুর নীরব সাক্ষী। আর এই পাথরের খাঁজে খুঁজে পাওয়া যাবে মানুষের অস্থি যারা চিরকালের মতো ঘুমিয়ে গেল এই ধূসর প্রান্তরে।’
যাঁরা বাজি দূষণ নিয়ে চিন্তিত, তাঁরা পঞ্চেন্দ্রিয় দিয়ে যে আধুনিক যুদ্ধেরও বিষ পান করছেন— তা কি জানেন? ভুলে যাবেন না, পৃথিবীটা গোল!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ