সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: উন্নয়নের দাবি বনাম রাজনৈতিক ক্ষোভের জাঁতাকলে ফের বাকযুদ্ধ জঙ্গিপুর পুরসভার প্রাক্তন ও বর্তমান চেয়ারম্যানের। শনিবার দুপুরে এক সাংবাদিক বৈঠকে বর্তমান পুরবোর্ড তথা পুরসভার চেয়ারম্যান সন্তোষ চৌধুরীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন জঙ্গিপুর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম। সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে মফিজুল সাহেব মন্তব্য করেন, দশ বছরেও ২০ নম্বর ওয়ার্ডের এই নর্দমার সমস্যা মিটবে না। আর যারা আমাকে পিছন থেকে ছুরি মেরেছে, আমি তাদের সঙ্গে কখনও বসব না। পুরসভার জায়গায় তাঁর কোনো দোকান বা বিল্ডিং নেই বলেও দাবি করেন প্রাক্তন চেয়ারম্যান। তাঁর এই বিস্ফোরক মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। যদিও শীঘ্রই নোটিস করা হবে বলে জানান বর্তমান চেয়ারম্যান।
জানা গিয়েছে, দ্বন্দ্বর সূত্রপাত শুক্রবার সকালে। ওইদিন পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ড যা প্রাক্তন চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলামের ওয়ার্ড হিসেবে পরিচিত। সেখানে আলের উপরে নিকাশি নালা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন বর্তমান চেয়ারম্যান সন্তোষ চৌধুরী। বেশ কয়েকবছর ধরে ওই এলাকায় নিকাশিনালা মজে থাকায় ওই নোংরা জল সাধারণ মানুষের ঘরে ঢুকছে বলে ক্ষোভ দেখান এলাকাবাসী। এলাকা পরিদর্শনের সময় সন্তোষবাবুর অভিযোগ, ওয়ার্ডের নিকাশির সমস্যার কথা প্রাক্তন চেয়ারম্যান পুরসভাকে আগে জানাননি। পাশাপাশি, বর্তমান চেয়ারম্যানের আরও অভিযোগ, নিকাশি নালার ঠিক ওপরেই প্রাক্তন চেয়ারম্যানের ছেলের দোকানঘর এবং একটি বহুতল ভবন রয়েছে। ফলে নালার স্বাভাবিক জলপ্রবাহ মারাত্মকভাবে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। সন্তোষবাবু স্পষ্ট জানান, সরকারি জায়গা দখল করে যাঁরা নর্দমার উপর নির্মাণকাজ চালিয়েছেন, তাঁদের শীঘ্রই নোটিস পাঠানো হবে।
শনিবার তারই কড়া জবাব দেন প্রাক্তন চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, যে জায়গার কথা বলা হচ্ছে সেটা পুরসভার নয়, বরং তা জেলা পরিষদের জমি এবং সেখানে নিয়মতান্ত্রিকভাবে কর দিয়ে দোকানঘর তৈরি হয়েছে। মফিজুল সাহেবের ক্ষোভ, এনিয়ে পুরসভার কিছু বলার এক্তিয়ার নেই। এটা পুরসভার জমি নয়, জেলা পরিষদের জায়গায় দোকান রয়েছে এবং আমি রীতিমতো ট্যাক্স দিই।
অন্যদিকে, নিজের অবস্থানে অনড় বর্তমান চেয়ারম্যান সন্তোষ চৌধুরী। তিনি জানান, শহরের নিকাশি নালা সাফাইয়ের কাজ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে করা হবে। নর্দমা জবরদখলকারীদের খুব শীঘ্রই আইনি নোটিস পাঠানো হবে। সন্তোষবাবুর প্রশ্ন, জেলা পরিষদের জায়গা হলেও সরকারি জমি দখল করে মফিজুল সাহেব কি ঠিক করেছেন? তাছাড়া ওঁকে জনগণ ভোট দিয়ে প্রতিনিধি করেছিলেন, অথচ এলাকার এই গুরুতর সমস্যার কথা উনি চেপে গিয়েছেন। পুরসভাকেও জানাননি।



