Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘শীত ঘুম ছেড়ে জেগে উঠুন, ভোট ঘোষণার পর মাঠে নামলে চলবে না’

বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হবে, তারপর প্রচার কর্মসূচিতে নামবেন, এটা হবে না। ভোট যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে। এখন বাড়িতে বসে থাকলে চলবে না। সাধারণ মানুষের পাশে থেকে লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। যাঁরা এই গুরু দায়িত্ব পালন করছেন না, দল তাঁদের কোনো অবস্থায় রেয়াত করবে না—শনিবার দলীয় বৈঠকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানিয়ে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

‘শীত ঘুম ছেড়ে জেগে উঠুন, ভোট ঘোষণার পর মাঠে নামলে চলবে না’
  • ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হবে, তারপর প্রচার কর্মসূচিতে নামবেন, এটা হবে না। ভোট যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে। এখন বাড়িতে বসে থাকলে চলবে না। সাধারণ মানুষের পাশে থেকে লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। যাঁরা এই গুরু দায়িত্ব পালন করছেন না, দল তাঁদের কোনো অবস্থায় রেয়াত করবে না—শনিবার দলীয় বৈঠকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানিয়ে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইসঙ্গে এসআইআর আবহে নির্বাচন কমিশনের উপর চাপ বাড়াতে একগুচ্ছ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তৃণমূল। আজ, রবিবার জাতীয় ভোটার দিবস। অপরিকল্পিত এসআইআরের কারণে এপর্যন্ত ১২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে তৃণমূলের দাবি। তাই আজ, রবিবার কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ব্লক ও টাউনে প্রতিবাদ সভা করবে তৃণমূল। সেইসঙ্গে আজ নির্বাচন কমিশনে যাবেন দলের প্রতিনিধিরা। ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’র তালিকা প্রকাশের জন্য নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সেই নির্দেশ মেনে কমিশন আদৌ কতটা কাজ করছে, তা নিয়ে নজরদারিতে নামছে তৃণমূল। দলের জনপ্রতিনিধি এবং বুথ স্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের নিয়ে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বৈঠক করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে ছিলেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিও। বৈঠকে সুস্পষ্ট ভাবে বার্তা দেওয়া হয়েছে, শুনানিতে যাঁদের ডাকা হচ্ছে, তাঁদের পাশে সর্বোতভাবে থাকতে হবে। ১ কোটি ৩৬ লক্ষ মানুষকে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে বলে যে তথ্য সামনে এসেছে, তাঁদের কারও নাম যেন কাটা না যায়, সেদিকে নজর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন অভিষেক। কারও কাগজপত্রজনিত কোনো প্রয়োজন পড়লে, তাঁকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার কথা বলা হয়েছে। এর জন্য বুথ স্তরে ‘ভোট রক্ষা শিবির’ আয়োজন করার নির্দেশ দিয়েছে তৃণমূল।

Advertisement

দলীয় বৈঠকে তৃণমূল সেনাপতি এটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আগামী ২০ দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশনের তরফে আয়োজিত শুনানি কেন্দ্রগুলিতে গিয়ে ভোটারদের পাশে থাকতেই হবে। স্থানীয় স্তরে নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের উপর নজরদারি ও চাপ বজায় রাখতে হবে।

অন্যদিকে সাংসদ, বিধায়ক, জেলা সভাপতি, জেলা চেয়ারম্যান, বুথ সভাপতি, বুথ লেভেল এজেন্টদের কার্যক্রমের একটি তালিকা তৈরি করে দেওয়া হয়েছে তৃণমূলের তরফে। প্রত্যেকে যেন দায়িত্ব এবং যোগ্যতার সঙ্গে কাজ করেন সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পর্বেই তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের নজরে এসেছে, বেশ কিছু নেতা সঠিকভাবে কাজ করছেন না। বিধানসভা ভিত্তিক ‘ওয়ার রুম’ তৈরির কথা বলা হয়েছিল। তথ্য এসেছে, অনেক জায়গাতেই সঠিকভাবে কাজ হচ্ছে না ওয়ার রুমে। আগামী দু’দিনের মধ্যে সেগুলি পুনরায় সক্রিয় করে সমস্ত সাংসদ, বিধায়ক, জেলা সভাপতিদের একযোগে ভোট ময়দানে নেমে পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিষেকের কড়া বার্তা, শীত ঘুম ছেড়ে নেতারা জেগে উঠুন। ভোট ঘোষণা হওয়ার পর মাঠে নামবেন, এটা হবে না। যাঁরা সিরিয়াসলি বা গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন না, দল তাঁদের রাখবে না। আগামী তিন মাস প্রত্যেক তৃণমূল কর্মীর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র বুথ লেভেল এজেন্টরা কাজ করবেন, বাকিরা বসে থাকবেন, এটা হবে না। অভিষেকের নির্দেশ, যেখানে ভোট রক্ষা শিবির করার প্রয়োজন হবে সেখানে সাংসদ, বিধায়করা নিজের টাকা খরচ করে শিবিরের আয়োজন করবেন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ