সংবাদদাতা, কাঁথি: মন্দারমণিগামী পর্যটকদের জন্য রামনগরের চাউলখোলা বাসস্টপে দীঘা-নন্দকুমার ১১৬বি জাতীয় সড়কের পাশে কয়েকবছর আগে সরকারি উদ্যোগে নির্মাণ করা হয় প্রতীক্ষালয় কাম রেস্তরাঁ। কিন্তু আইন জটিলতায় সেটি আর চালু করা যায়নি। তা এখন বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেই সঙ্গে পর্যটকদের গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য সংলগ্ন অংশে পেভার ব্লক দিয়ে পার্কিং জোন তৈরি করা হয়। সেই অংশও অনেকটা বেদখল হয়ে গিয়েছে। এছাড়া চাউলখোলা বাসস্টপে এলইডি বাতিস্তম্ভগুলিও অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে সমস্যার মুখে পড়ছেন মন্দারমণির পর্যটকরা। অবিলম্বে সেই প্রতীক্ষালয় সহ বাকি পরিকাঠামোগুলি চালু করার দাবি তুলেছেন পর্যটকরা।
তবে এখানেই শেষ নয়, পার্কিং এরিয়া বাড়ানো সহ সংলগ্ন অংশে সৌন্দর্যায়নের জন্য ইতিপূর্বে সংশ্লিষ্ট রামনগর-২ পঞ্চায়েত সমিতি নিজস্ব তহবিল থেকে ১২ লক্ষ টাকার কাজের পরিকল্পনা করেছিল। তারজন্য দীর্ঘদিন আগে অর্থ বরাদ্দ হলেও খরচ হয়নি। সম্প্রতি বিধানসভার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের স্ট্যান্ডিং কমিটির প্রতিনিধিরা এলাকা পরিদর্শনে এলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। দ্রুত সেই অর্থ খরচ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, মন্দারমণি যেতে হলে পর্যটকদের জাতীয় সড়কে চাউলখোলায় নামতে হয়। তারপর কোনও গাড়ি ধরে মন্দারমণি যেতে হয়। পর্যটকরা গাড়িতে ওঠার আগে যাতে দাঁড়াতে বা বিশ্রাম নিতে পারেন, কিংবা খাওয়াদাওয়া করতে পারেন, তারজন্য বেশ কয়েকবছর আগে ওই পরিকাঠামোটি গড়ে তোলে দীঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন সংস্থা (ডিএসডিএ)। সেখানে একদিকে প্রতীক্ষালয়, অন্যদিকে শৌচালয় এবং মাঝখানের অংশে রেস্তরাঁ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তৈরি হওয়ার পর চালু হয়নি। কারণ হিসেবে জানা গিয়েছে, ওই ভবনের পিছনে এক ব্যক্তির বাড়ি রয়েছে। তাঁদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন। এখনও সেই মামলা চলছে এবং নির্মাণে স্থগিতাদেশ থাকায় ভবনটি চালুই হয়নি। সম্প্রতি চাউলখোলায় গিয়ে দেখা গেল, যে পার্কিং এরিয়ার পর্যটকদের গাড়ি থাকার কথা, সেখানে অনেকটা অংশজুড়ে দোকানপাট বসে গিয়েছে। প্রতীক্ষালয়ও নোংরা হয়ে রয়েছে। নেশার সামগ্রী সহ নানা জিনিসপত্র পড়ে রয়েছে। রেস্তরাঁর শাটার বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। শৌচালয়ও তালাবন্ধ। পার্কিং এরিয়ায় বাঁশ দিয়ে পুজোমণ্ডপ বাঁধার কাজ চলছে। পার্কিং এরিয়ায় না থেকে গাড়িগুলি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকে। এদিকে প্রতীক্ষালয়টি চালু না থাকায় দোকানে বসে কিংবা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করেন পর্যটকরা।
পঞ্চায়েত সমিতির স্থানীয় সদস্য তথা বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ বিজয়শঙ্কর পট্টনায়ক বলেন, সম্প্রতি স্ট্যান্ডিং কমিটি আমাদের ব্লকে এসেছিল। সেখানে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, যে টাকা পড়ে রয়েছে, তাকে কাজে লাগিয়ে আগামীদিনে জায়গাটিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হবে। পার্কিং এরিয়া বাড়ানো হবে। সামনে সৌন্দর্যায়ন করা হবে। তবে ওই ভবনটির ব্যাপারে আদালতের রায় যেভাবে আসবে, সেই অনুযায়ী আমরা এগব। ডিএসডিএ’র মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক নীলাঞ্জন মণ্ডল বলেন, সবকিছু খোঁজ নিয়ে দেখব। -নিজস্ব চিত্র