নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বর্ষা এলেই যেন একই ছবি। বেলুড় স্টেশন সংলগ্ন আন্ডারপাস পরিণত হয় জলাশয়ে। এবারও তার ব্যতিক্রম হল না। টানা বৃষ্টিতে কোমর সমান জল জমায় বেলুড় আন্ডারপাসে যান ও পথচারীদের চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফলে ট্রেন ধরতে কিংবা স্টেশনে পৌঁছাতে বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়েই রেললাইন পারাপার করছেন বহু মানুষ। পড়ুয়া থেকে অফিসযাত্রী, সকলের কাছেই নিত্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে উঠেছে এই আন্ডারপাস।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টি হলেই আন্ডারপাসে জল জমে যায়। আর ভারী বৃষ্টি হলে তো কথাই নেই। পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বৃষ্টির জলের সঙ্গে নর্দমার নোংরা জল মিশে দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়। জল নামতে সময় লাগে দু’-তিনদিন। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে লাইনের দু’পাড়ের যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। স্থানীয় বাসিন্দা তথা ব্যবসায়ী সুপ্রিয় পাল বলেন, ‘গত পাঁচ বছর ধরে বেলুড় স্টেশন রোডের নিকাশি ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। নিকাশি নালা পরিষ্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অথচ এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। বেলুড় মঠে উৎসবের সময় লক্ষাধিক মানুষের ভিড় হয়। তারপরও আন্ডারপাসের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।’ প্রবীণ বাসিন্দা অশোক মুখোপাধ্যায়ের কথায়, ‘বেলুড় স্টেশন রোড ও আন্ডারপাস এখন প্রবীণদের কাছে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’ ব্যবসায়ী পার্থ ঘোষ বলেন, বর্ষাকালে ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। রাস্তা জলমগ্ন থাকায় খদ্দেররা আসতে চান না। একইসঙ্গে স্কুল পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
নিত্যযাত্রী অশোক বসাক বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টিতেই কোমরসমান জল জমে যায়। জল নামতে দু’-তিনদিন লেগে যায়। বাধ্য হয়ে রেললাইন পার হয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।’ রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই বলেন, ‘হাওড়া ও বালি পুরসভা এলাকায় দীর্ঘদিনের নিকাশি সমস্যার স্থায়ী সমাধানে একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই কাজ শুরু হয়েছে। নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতিতে একগুচ্ছ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ধাপে ধাপে সেই কাজ বাস্তবায়িত হলে বেলুড় সহ বিস্তীর্ণ এলাকার দীর্ঘদিনের জল সমস্যার সমাধান হবে।’ গুরুত্বপূর্ণ এই আন্ডারপাসের একদিকে বালি পুরসভা এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ, অন্যদিকে ডোমজুড়ের গ্রামীণ অঞ্চল। আন্ডারপাস বন্ধ থাকলে গাড়িগুলিকে ঘুরপথে লেভেল ক্রসিং ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু পথচারীদের কাছে তখন একমাত্র উপায় ঝুঁকি নিয়ে লাইন পারাপার। দীর্ঘদিনের এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। নিজস্ব চিত্র