ভয়েজার  গোল্ডেন  রেকর্ড
  • ১ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সোমা চক্রবর্তী: বৈচিত্রময় পৃথিবীর কত না রহস্য! ঠিক তেমনই রহস্যপূর্ণ মহাকাশ। এবং সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে থাকা গ্রহগুলো। পৃথিবী ছাড়াও অন্য গ্রহে কী আছে, কী আছে এই মহাকাশে—  সেই রহস্য উন্মোচনের জন্য মানুষ বার বার পাড়ি দিয়েছে আকাশ পানে। পৃথিবীর বাইরে সত্যিই কি ভিনগ্রহীদেরও আলাদা জগৎ আছে? তারা কি চায় মানুষের কথা জানতে? এসব নিয়ে যেমন নানা  তর্ক-বিতর্ক আছে, তেমনই আছে নিরন্তর গবেষণাও। কেউ কেউ বলেন এসবই কল্পবিজ্ঞানের গল্প। কিন্তু এসব কাল্পনিক গল্পও যদি কখনো সত্যি হয়ে যায় তাহলে কী হবে! যদি কখনো ভিনগ্রহের প্রাণীরা আমাদের সন্ধান পায়! তাদের কাছে আমাদের পরিচয় কীভাবে পৌঁছাবে? এই ভাবনা থেকেই ১৯৭৭ সালে নাসার ভয়েজার-১ ও ভয়েজার-২ মহাকাশযানে পাঠানো হয়েছিল দু’টি বিশেষ রেকর্ড। রেকর্ডটির নাম ‘ভয়েজার গোল্ডেন রেকর্ড’।

Advertisement

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী কার্ল সেগান ও তাঁর কয়েকজন সহযোগীর একটি দল মিলে তৈরি করেছিলেন এই রেকর্ড। সোনার প্রলেপ দেওয়া ১২ ইঞ্চির এই তামার ডিস্কে আছে মনুষ্য সমাজের জীবন ও সংস্কৃতির গল্প। যদি সত্যিই ভিনগ্রহীদের অস্তিত্ব থাকে, তাহলে এই রেকর্ড হবে আমাদের পরিচয়পত্র স্বরূপ। পৃথিবীর ছবি, ৫৫টি  প্রাচীন ও আধুনিক ভাষায় শুভেচ্ছা বার্তা, সমুদ্রের ঢেউ ও বজ্রপাতের শব্দ, পাখির কূজন সহ বিভিন্ন রকম প্রাকৃতিক শব্দ। মোর্সকোডে রচিত অনুপ্রেরণামূলক বার্তা, বিভিন্ন সংগীত ও সংস্কৃতির সংকলন— যে সংগীতগুলির মধ্যে বেঠোভেন ও চাকবেরি বিশেষ উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও এই রেকর্ডে মুদ্রিত আছে  মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের একটি বার্তা। গাণিতিক ও ভৌত রাশি, সৌরজগৎ, মানুষের ডিএনএ, পশু-পাখি, পোকামাকড় ও উদ্ভিদ সহ পৃথিবীর জীববৈচিত্রের রঙিন ও সাদা কালো ছবিও অতি যত্ন সহকারে সজ্জিত হয়েছে এই রেকর্ডে। আর আছে মানুষের মস্তিষ্কের তরঙ্গের দীর্ঘ এক ঘণ্টার রেকর্ড, যা এক মিনিটে সংকুচিত করা হয়েছে।
বর্তমানে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে অবস্থানকারী মানব সৃষ্ট বস্তু ভয়েজার ওয়ান। আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাকাশে যেখানে আছে গ্যালাকটিক প্লাজমা, সেখানে অবস্থান করছে এই গোল্ডেন রেকর্ড দু’টি। মহাকাশের অদ্ভুত পরিবেশে যেকোনো চৌম্বকীয় টেপের থেকে অনেক বেশি টেকসই এই টাইম ক্যাপসুল। কোটি কোটি বছর পরে কোনো বুদ্ধিমান বহির্জাগতিক প্রাণীদের হাতে যদি আসে এই টাইম ক্যাপসুল, সেদিন কি সেখানেও লিখবে তারা আমাদের পৃথিবীলোকের গল্প? সময় বলবে‌।