হাতেকলমে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষানিরীক্ষা করতে কার না ভালো লাগে! শুধু বই মুখস্থ করে বিজ্ঞান শিক্ষা সম্পূর্ণ হয় না। সহজ-সরল এমন কিছু পরীক্ষা যা তোমরা নিজেরাই করতে পার, শেখাচ্ছেন সুশান্ত লাহা।
একটি পাত্র নাও এবং ছবিতে দেখানো একটি ছোট্ট কাগজের টুকরো অথবা ওই জাতীয় শক্ত কাগজ নাও। এখন কাগজটিকে ফাঁকা পাত্রের এক পাশে রেখে অপরপ্রান্তে মানে বাইরের দিকের প্রান্তে একটি কয়েন চাপিয়ে দাও। যখনই পয়সাটি চাপাবে, তখনই এক দিকের ভার বেশি হয়ে যাওয়ার কারণে কাগজটি পড়ে যাবে বাইরের দিকে (১ নং ছবিতে যেমন দেখাচ্ছে)।
কেন এমনটা হয়?
কাগজের একদিকে রাখা কয়েনের ভার বেশি, তাই কাগজের ব্যালান্স নষ্ট হয়ে যায়।
কিন্তু আমরা যদি এই এক্সপেরিমেন্টে জল ঢেলে দিই! হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছ! তবে জল ঢালা মানে পরীক্ষাটি নষ্ট করে দেওয়া নয়, আমরা সত্যি করেই কিছুটা জল পাত্রের মধ্যে ঢেলে দিলাম। এখন জলপূর্ণ পাত্রটির ওপরে, ঠিক আগের মতনই কাগজটিকে রেখে দাও। ব্যস! কাজ শেষ! এবার একে একে কয়েন চাপাতে থাক। দেখবে আগের মতো কাগজটি পড়ে যাচ্ছে না!
কেন এমনটা হচ্ছে?
জলের উপরিতলে থাকা প্রত্যেকটি কণা একে অপরকে টেনে ধরে রাখতে চায়। এর ফলে জলের উপরিতল সংকুচিত হয়ে যায়। ঠিক যেমন একটি জলের ফোটার উপরিতল গোলাকার হয়। জলের উপরিতলে থাকা কণা কর্তৃক তৈরি হওয়া এই টানটিকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় পৃষ্ঠটান। এখন একটি কয়েন রাখা সত্ত্বেও কাগজটি যদি পড়ে যেত তার মানে কিছুটা জলও নড়ে যেত। তাহলে জলের উপরিভাগে তৈরি হওয়া পৃষ্ঠটানও নষ্ট হয়ে যেত। কিন্তু জলের ওপরের তলে থাকা কণাগুলি সেটি কোনোভাবেই চায় না। তাই তারা কাগজটিকে শক্ত করে ধরে রেখেছে। এর ফলস্বরূপ অপরদিকে তুমি পয়সা চাপাতে থাকা সত্ত্বেও কাগজ নড়ছে না এবং পড়ছে না।
এই পরীক্ষার প্রাসঙ্গিক এবং বাস্তব উদাহরণ
আমরা কোথায় দেখি?
এক ধরনের মাকড়সার মতো জলজ পোকা রয়েছে, যারা জলের ওপরে তৈরি হওয়া এই পৃষ্ঠটানকে কাজে লাগিয়ে অনায়াসে চলাফেরা করতে পারে। এই পোকাগুলির নাম ওয়াটার স্ট্রাইডার। এরা মূলত Gerridae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। ওয়াটার স্ট্রাইডার জলের উপর হাঁটতে পারে মূলত জলের পৃষ্ঠটানের কারণে। আর তার বিশেষ জলবিকর্ষী পা এই পৃষ্ঠটানের সুবিধা নিতে সাহায্য করে।



