আঠারো ভাটির দেশ সুন্দরবন স্থান/দুখের ক্রন্দন শুনে মা দিলেন কান... এটি বনবিবির পাঁচালি বা জহুরিনামার চরণ। সুন্দরবনের জঙ্গলে বাঘের হাত থেকে বাঁচতে মৎসজীবী এবং বাসিন্দারা বনবিবির পুজো করেন। সুন্দরবনের মানুষ যে দেবীকে সবচেয়ে বেশি মান্যিগন্যি করেন তিনি হলেন বনবিবি। তাঁর প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী দক্ষিণরায়ও সুন্দরবনের একজন বিখ্যাত দেবতা। এত কথার বলার কারণ, একদা দক্ষিণের যাদবপুর, গড়িয়া বা উত্তর-পূর্বের লবণহ্রদ, বাগুইআটি, দমদম যে সুন্দরবনের অন্তর্গত ছিল তার দস্তুরমতো প্রমাণ হচ্ছে বনবিবি ও দক্ষিণরায়ের মন্দিরগুলি। এখন যেখানে রাজ্যের অন্যতম শিল্পতালুক, সল্টলেকের সেই পাঁচ নম্বর সেক্টরে যেখানে দেশবিদেশের টেক জায়েন্টদের অফিস, সেখানে বনবিবির মন্দির দাঁড়িয়ে ভেড়ির পাশে একটি নির্জন জায়গায়। সে মন্দির দিনদুপুরেও নিঃঝুম থাকে। একটি চকচকে কালো রঙের সাপ কুণ্ডলী পাকিয়ে বিশ্রাম নেয় দিনভর। মন্দির আরও আছে। চিংড়িঘাটায় বাইপাস থেকে দেড় কিমি মাত্র দূরে ছয়নাভি। সেখানেও বনবিবির মন্দির। ভিআইপি রোড থেকে কেষ্টপুরের পাশের যে রাস্তাটি নিউটাউন যাচ্ছে। সেখানে মৃধা মার্কেটের কাছে রয়েছে দক্ষিণরায়ের মন্দির। আর দক্ষিণের দিকে যদি যাওয়া যায় তাহলে টালিগঞ্জে নানুবাবুর বাজারের কাছে গিয়ে কাউকে একটু জিজ্ঞেস করলে বনবিবি মন্দিরটি দেখিয়ে দেবে। তার থেকে একটু এগলে সোনারপুর। সেখানে কামরাবাদেও রয়েছে বনবিবির মন্দির। এই মন্দিরগুলিই কলকাতায় বাঘ ঘোরাফেরার হাতেগরম প্রমাণ হাজির করে এই আধুনিক ইন্টারনেটের যুগেও। কলকাতায় বাঘ এখন চিড়িয়াখানা বই অন্য কোথাও নেই বটে। তবে বাঘ থাকার প্রমাণ শরীরে জড়িয়ে পাশাপাশি শুয়ে থাকে পুরানো কলকাতার কিছু খণ্ডাংশ আর আকাশ ছুঁতে চাওয়া আধুনিক চকচকে কলকাতা।



