শ্রীকান্ত পড়্যা, নন্দীগ্রাম: আজ, মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে নন্দীগ্রামে ভোটগ্রহণ শুরু হচ্ছে। তার আগে প্রচুর বিজেপি কর্মী সমর্থক জড়ো করা হয়েছে বলে বিরোধীদের অভিযোগ। সোমবার বিকাল থেকেই খেজুরি, চণ্ডীপুর, ভগবানপুর, হলদিয়া, এমনকি পাঁশকুড়া থেকেও বহিরাগতরা নন্দীগ্রামে পৌঁছতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন কমিশনের কাছে মস্তবড় চ্যালেঞ্জ। সোমবার রেয়াপাড়ায় ডিসিআরসি থেকে ভোটকর্মীরা ইভিএম সহ অন্যান্য ভোট সরঞ্জাম নিয়ে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের পথে রওনা দিয়েছেন। প্রত্যেক বুথে আধা সেনা পৌঁছে গিয়েছে। ভোটের আগের দিনই কমিশন নন্দীগ্রাম থানার আইসি অজয়কুমার মিশ্রকে সরিয়ে দিয়েছে। মোট ৩২৩টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। মোট ভোটার ২লক্ষ ৬৬হাজার ৪১৯জন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ৭৯টি বুথকে ‘ক্রিটিক্যাল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মোট ৩৭কোম্পানি আধা সেনা এবং ৭০০রাজ্য পুলিশ মোতায়েন থাকবে। এছাড়াও ভোট চলাকালীন ক্যুইক রেসপন্স টিম(কিউআরটি), হেভি রেডিও ফ্লাইং স্কোয়াড, স্ট্যাটিক সার্ভিলেন্স টিম এবং মুভেবল সার্ভেল্যান্স টিম থাকবে। জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনি অফিসার নিরঞ্জন কুমার বলেন, গণতন্ত্রের এই উৎসবে সকলে শামিল হন। আমরা অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য সবধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ভোটকর্মীরা বুথে চলে গিয়েছেন। সব বুথে আধা সেনা থাকবে। ওয়েবকাস্টিং হবে। মাইক্রো অবজার্ভার থাকবে। কারও কোনও অসুবিধা হবে না। প্রত্যেকে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করুন।
সোমবার থেকেই বিরোধীদের শায়েস্তা করার কাজ শুরু হয়েছে বলে একযোগে অভিযোগে সরব কংগ্রেস, বাম এবং আইএসএফ। বিরোধী দলের পোলিং এজেন্টদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শাসানো হচ্ছে বলে আইএসএফ প্রার্থী সবে মিরাজ খান ও কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান এদিন সরব হন। তাঁদের আরও অভিযোগ, বাইরে থেকে প্রচুর লোকজন জড়ো করা হচ্ছে। বিরোধী ভোটারদের আটকে তাঁদের জায়গায় প্রক্সি ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তাঁদের অভিযোগ। ভোটদানে অনুপস্থিত থাকা ভোটারদের হয়ে প্রক্সি ভোট দেওয়ার জন্য বহিরাগতদের ঢাল করা হবে বলে অভিযোগ।
বিজেপির রাজ্যে ক্ষমতায় আসার ছ’মাসের ব্যবধানে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপ নির্বাচন হচ্ছে। বিরোধীরা এই ভোটে প্রাসঙ্গিক হওয়ার জোর লড়াই করছে। আবার, বিজেপির লক্ষ্য, শুধু ১নম্বর নয়, বিরাট মার্জিন বৃদ্ধি। এই সমীকরণকে সামনে রেখে নন্দীগ্রামে আজ ভোট। সকাল ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। তার আগে বিশেষ বার্তা রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রেজিনগর এবং নন্দীগ্রাম বিধানসভার মানুষের প্রত্যাশা, স্বপ্ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করাই ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের মূল লক্ষ্য বলে ঘোষণা করেছেন।
আইএসএফ প্রার্থী মিরাজ সাহেব বলেন, পুলিশ নির্লজ্জ, দলদাসের ভূমিকা পালন করছে। তারা আধা সেনাকে সঙ্গে নিয়ে বিরোধী দলের সম্ভাব্য পোলিং এজেন্টদের বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হুমকি দিচ্ছে। এভাবে ভোট করার কী দরকার ছিল?
বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল বলেন, আমাদের দল কোনও বহিরাগত আনেনি। বিরোধীরা ছন্নছাড়া। তারা জামানত খোয়ানোর আশঙ্কায় এখন প্রলাপ বকছে। তাই বিজেপির বিরুদ্ধে মনগড়া অভিযোগ তুলছে।
কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান বলেন, বিজেপি বিরোধীদের ভোট দিতে না যাওয়ার জন্য শাসানি চলছে। নন্দীগ্রামীর কাছে আবেদন, গণতন্ত্রকে রক্ষা করুন।