নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: আজ রেজিনগরে দু’ লক্ষ ৫৬ হাজার ভোটার ১৪ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করবে। গোটা বিধানসভাজুড়ে কড়া নিরাপত্তায় ৩১৫টি বুথে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। মোট ৩৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কার্যত প্রতিটি বুথেই সশস্ত্র কেন্দ্রীয় জওয়ানরা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন। পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের ১৪৪ আধিকারিক ও ৬৭৫ কনস্টেবল মিলিয়ে মোট ৮১৯ পুলিশকর্মী নির্বাচনের দিন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন। ১৯টি স্পর্শকাতর এলাকায় ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়ে রুট মার্চ করানো হয়েছে। মোট ২২৯টি বুথকে সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে বাড়তি নজরদারি চলবে। পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের আধিকারিকরা এই ক্রিটিক্যাল বুথগুলিতে নজরদারি করবেন।
সার্বিকভাবে উপনির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে ব্যাপক নিরাপত্তার আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, নির্বাচনের প্রচার শেষের পর থেকে সমস্ত এলাকায় শান্তি বজায় রয়েছে। জাতীয় সড়ক ও রাজ্য সড়কে লাগাতার নাকা তল্লাশি চলছে। নাকা তল্লাশিতে কোনো আপত্তিকর জিনিস পাওয়া যায়নি। সমস্ত গাড়িতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পাশের থানার বর্ডারেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন হোটেলেও নজরদারি চলছে।
জেলাশাসক আগেই জানিয়েছেন, রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৩১৫। যার মধ্যে ২৮২টি মূল ভোটগ্রহণ কেন্দ্র এবং ৩৩টি সহায়ক কেন্দ্র। সর্বত্র কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকছে। সব মিলিয়ে মোট ৩৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকছে। দু’টি ভোট কেন্দ্র সম্পূর্ণ মহিলা পরিচালিত হবে। এছাড়া ভোটারদের সবরকম আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত দু’টি ‘মডেল বুথ’ করা হয়েছে। ভোটারদের যে কোনো তাৎক্ষণিক সহায়তার জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে থাকছে ‘ভোটার অ্যাসিস্ট্যান্স বুথ’। নিরাপত্তাজনিত কারণে বুথে প্রবেশের মুখে ভোটারদের মোবাইল ফোন জমা রাখার নিরাপদ ব্যবস্থার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
রেজিনগরে মোট দু’ লক্ষ ৫৬ হাজার ভোটারের মধ্যে মহিলা ভোটারের সংখ্যা ১ লক্ষ ২২ হাজার ৬১৬। ১ লক্ষ ৩৩ হাজার ৯২৫ পুরুষ ভোটার। পাঁচজন ট্রান্সজেন্ডার ভোটার আছেন।
৮৫ বছরের ঊর্ধ্বে প্রবীণ ভোটার রয়েছেন ১৬৯৭ জন। ৮৫-ঊর্ধ্ব ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ভোটারদের জন্য ‘হোম ভোটিং’-এর মাধ্যমে বাড়ি থেকে ভোট নেওয়ার বিশেষ সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত ১৪৫ জনের মধ্যে ইতিমধ্যেই ১৪৪ জন নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
জানা গিয়েছে, নির্বাচন সংক্রান্ত অভিযোগ জানানোর জন্য ২৪ ঘণ্টা খোলা রয়েছে একটি হেল্প লাইন, যেখানে সর্বক্ষণ চারজন কর্মী নিযুক্ত রয়েছেন। হেল্প লাইনে জমা পড়া সব অভিযোগেরই দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে। এলাকায় কড়া নজরদারির জন্য বর্তমানে ১২টি এসএসটি এবং ৯টি এফএসটি দল মাঠে নেমে কাজ করছে। নির্বাচনের দিন আরও বাড়ানো হবে কিউআরটি। -নিজস্ব চিত্র