নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: গণতন্ত্রের উৎসব যেন এবার পৌঁছে গেল মানুষের দোরগোড়ায়। বুথে যাওয়ার সামর্থ্য না থাকলেও ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত নন কেউ এমন বার্তাই সামনে রেখে পশ্চিম মেদিনীপুর জুড়ে শুরু হল ‘হোম ভোটিং’ প্রক্রিয়া। কমিশনের এই বিশেষ উদ্যোগে মূলত ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিক ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ভোটাররা অংশ নিচ্ছেন। আগামী ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত জেলার মোট ৭ হাজার ৮৬৬ জন ভোটার এই ব্যবস্থার আওতায় ভোট দেবেন বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। সোমবার সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্তে চোখে পড়ে কমিশনের তৎপরতা। নির্দিষ্ট প্রোটোকল মেনে নির্বাচন আধিকারিকরা প্রবীণ ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ভোটারদের বাড়ি পৌঁছে যান। সঙ্গে রয়েছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা। পুরো প্রক্রিয়াই সম্পন্ন হচ্ছে স্বচ্ছতা ও কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে।
এদিন মেদিনীপুর শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের লালদিঘি এলাকায় এমনই এক আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী রইল প্রশাসন। প্রায় শতবর্ষ ছুঁইছুঁই ঝাড়েশ্বর দাস নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন বাড়ি বসেই। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শরীর, বাকশক্তিও প্রায় লোপ পেয়েছে তবুও ভোট দেওয়ার পর তাঁর চোখেমুখে ফুটে ওঠে এক অদ্ভুত তৃপ্তির ছাপ। যেন নিঃশব্দেই বলে উঠলেন আমিও শামিল হয়েছি গণতন্ত্রের উৎসবে।
ঝাড়েশ্বরবাবুর পরিবারের সদস্য শ্রীকান্ত দাস জানান, উনি আর হাঁটাচলা করতে পারেন না। আমরা স্থানীয় কাউন্সিলরকে বিষয়টি জানাই। উনি সব ব্যবস্থা করে দেন। দাদু ভোট দিতে পেরেছেন—এটাই আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় আনন্দ। ঘরের ভিতরেই অস্থায়ী বুথ তৈরি করে ভোট নেওয়া হয়। পরিসংখ্যান বলছে, এই ‘হোম ভোটিং’-এ অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে জেলায় প্রবীণ ভোটারের সংখ্যা ৬ হাজার ৪৪২জন ও প্রতিবন্ধী ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ৪২৪ জন। পশ্চিম মেদিনীপুরের ১৫টি বিধানসভা জুড়ে এই প্রক্রিয়া চলছে। প্রবীণ ভোটারের সংখ্যায় এগিয়ে রয়েছে সবং বিধানসভা। এই বিধানসভায় ৮১০ জন প্রবীণ নাগরিক বাড়িতে বসেই ভোট দেবেন। এছাড়া নারায়ণগড়ে ৫৫৬ জন, ঘাটাল বিধানসভায় ৪৯২ জন, মেদিনীপুর বিধানসভায় ৩৯৭ জন, গড়বেতা বিধানসভায় ৩৩৬ জন ও কেশপুরে ৩৬৫জন প্রবীণ ভোটার রয়েছেন। অন্যদিকে, প্রতিবন্ধী ভোটারদের মধ্যে সবংয়ে ২৪১ জন, ঘাটালে ১১৫ জন, কেশপুরে ৯৮ জন, মেদিনীপুরে ৬৭ জন, দাঁতনে ৯৫ জন এবং ডেবরায় ১১৬ জন ভোটার এই ব্যবস্থার সুবিধা নিচ্ছেন। আবেদন অনুযায়ী প্রত্যেকের বাড়ি গিয়ে ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। মেদিনীপুরের বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর গুছাইত বলেন, নির্বাচন কমিশন দারুণ ব্যবস্থা করেছে। নিরাপত্তাও যথেষ্ট কড়া। এবার আর ছাপ্পা ভোট সম্ভব হবে না। অন্যদিকে, তৃণমূল প্রার্থী সুজয় হাজরা বলেন, আমরা চাই জেলার প্রত্যেকে এই গণতান্ত্রিক উৎসবে অংশ নিন। তবে মনে রাখতে হবে, এই প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী মানুষদের আগে লাইনে দাঁড় করিয়ে কষ্ট দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল সবসময় তাঁদের পাশে থেকেছে। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে তাঁরা উপকৃত হচ্ছেন। ঘাটালে বাড়িতেই ভোট দিচ্ছেন ৮৭ বছরের বৃদ্ধা গীতা দে।-নিজস্ব চিত্র