Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভুল ম্যাপিংয়ে আপলোড হচ্ছে না ফর্ম, উদ্বেগে ভোটাররা

২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে। ইনিউমারেশন ফর্মে সেই সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যও লিখেছেন ভোটার। অথচ তাঁর ফর্ম জমা পড়ছে না।

ভুল ম্যাপিংয়ে আপলোড হচ্ছে না ফর্ম, উদ্বেগে ভোটাররা
  • ২৬ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভঙ্কর বসু, কলকাতা: ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে। ইনিউমারেশন ফর্মে সেই সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যও লিখেছেন ভোটার। অথচ তাঁর ফর্ম জমা পড়ছে না। শুধু তা-ই নয়, ২০০২ সালের তথ্য লিখে ইনিউমারেশন ফর্ম ডিজিটাইজ করার সময় বিএলও দেখতে পাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ফর্ম ইতিমধ্যেই জমা পড়ে গিয়েছে। এমন ভূরি ভূরি অভিযোগ আসছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিকের (সিইও) দপ্তরে। ফলে এসআইআর নিয়ে তৈরি হয়েছে নয়া বিভ্রান্তি। উদ্বেগ বাড়ছে ভোটারদেরও।

Advertisement

জানা যাচ্ছে, ম্যাপিংয়ের (বর্তমান ভোটার তালিকার সঙ্গে ২০০২ সালের তথ্য যাচাই প্রক্রিয়ায়) গণ্ডগোলের জেরেই এমন ভোগান্তি। কমিশন সূত্রে খবর, শেষ এসআইআর অর্থাৎ ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে ২০২৫ সালের ভোটার তালিকার ম্যাপিং করে বা মিলিয়ে দেখে যাবতীয় তথ্য তুলে দেওয়া হয়েছে বিএলও অ্যাপে। আর এখানেই হয়েছে বিপত্তি। সঠিকভাবে সেই তথ্য অ্যাপে না তোলার ফলে হয়রানির শিকার হচ্ছেন ভোটাররা। রাজ্যের একাধিক জায়গায় এমন ঘটনা ঘটছে। দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুর কেন্দ্রের এক ভোটারের নাম ২০০২ সালের তালিকায় ছিল। এবং সেই তালিকা অনুযায়ী তিনি ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণ করে বিএলও-র কাছে জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বুথের বিএলও প্রশান্ত চৌধুরীর দাবি, তালিকা অনুযায়ী সঠিক তথ্য লিখে ফর্ম জমা দিয়েছিলেন ওই ভোটার। কিন্তু সেই তথ্য আপলোডের সময় অ্যাপে তাঁকে ‘নট ফাউন্ড’ বলে দেখাচ্ছে। অর্থাৎ ওই ব্যক্তি তালিকা অনুযায়ী নিজের বিধানসভা ক্ষেত্র, অংশ নম্বর ও ক্রমিক সংখ্যা সঠিকভাবে লিখে থাকলেও অ্যাপে তা মিলছে না। বিশেষজ্ঞদের দাবি, ম্যাপিংয়ের তথ্য অ্যাপে আপলোডের সময় ওই ব্যক্তির ক্রমিক নম্বরে ভুল করে অন্য কোনও ব্যক্তিকে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এর জেরেই এত বড়ো বিপত্তি। রাজ্যের সর্বত্র এমন ঘটনা ঘটছে। 
পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা বিধানসভার ভোটার শরৎ চন্দর আবার অভিযোগ অন্য। তিনি নিয়ম মেনে ফর্ম জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু বিএলও যখন সেটি অ্যাপে আপলোড করতে চাইছেন, তখন দেখা যাচ্ছে শরৎবাবুর তথ্য সম্বলিত ফর্মটি দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ইতিমধ্যেই জমা পড়ে গিয়েছে। ঘটনা হল, সোনারপুরের ওই বিএলও এখন চাইলেও সেই ফর্মটি সংশোধন করতে পারবেন না। কারণ, অ্যাপ থেকে সেই অপশনই তুলে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। অর্থাৎ ম্যাপিংয়ের ভুলের মাশুল দিতে হবে ভোটারকেই। 
গোটা বিষয়টি ইআরওদের জানানো হলেও সমাধানসূত্র মেলেনি। আপাতত এই ধরনের ফর্মগুলি বিএলওদের কাছে রেখে দিতে বলা হচ্ছে। ৪ ডিসেম্বরের পর এব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কী সেই সিদ্ধান্ত? আতঙ্ক বাড়ছে ভুক্তভোগী ভোটারদের মধ্যে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ