সৌম্যজিৎ সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সোনারপুরের রমেশ পাসোয়ান, শ্রীরামপুরের রবি ওঝাকে (নাম পরিবর্তিত) শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। বিএলও তাঁদের যাবতীয় নথিপত্রই নিয়ে যেতে বলেছিলেন। কিন্তু শুনানি কেন্দ্রে ঢুকে আধিকারিকরা যখন তাঁদের নথি দেখতে চাইলেন, দু’জনেই একটি সার্টিফিকেট বের করে তুলে দেন তাঁদের হাতে। তা দেখে হকচকিয়ে যান সংশ্লিষ্ট এইআরও থেকে শুরু করে মাইক্রো অবজার্ভাররা। কারণ, সার্টিফিকেটটি ছিল কোভিড টিকাকরণের! কমিশনের প্রতিনিধিরা সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের জানিয়ে দেন, এই নথি চলবে না। প্রধানমন্ত্রীর ছবি আছে। সরকারি জায়গা থেকেই ইস্যু হয়েছে এই শংসাপত্র। তাহলে কেন নেওয়া হবে না? পাল্টা প্রশ্ন করেন ওই ভোটাররা। পরে অবশ্য দু’জনকে বুঝিয়েসুঝিয়ে বলার পর তাঁরা বুঝতে পেরে চলে যান। কারণ, তাঁদের কাছে নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত নথির একটিও ছিল না।
অর্জিত ভোটাধিকার রক্ষা নিয়ে এখন রাজ্যের একটা বড় অংশের মানুষ ব্যতিব্যস্ত হয়ে রয়েছেন। শুনানির ডাক এলেই যে যেমন পারছেন, নথি জোগাড় করে হাজির হচ্ছেন শুনানি কেন্দ্রে। কোন নথি কমিশনের কাছে গ্রাহ্য হবে, তা ভালোমতো না জেনেই অনেকে যাবতীয় নথি হাতড়ে চলেছেন। এতদিন যেসব কাগজপত্র দেখিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন তাঁরা, সেগুলি এখন আর গ্রাহ্য করছে না নির্বাচন কমিশন। যেমন আধার বা মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণযোগ্য নথি বলে বিবেচিত হচ্ছে না। ফলে বহু মানুষ বিপাকে পড়েছেন। আর এই খোঁজাখুঁজি করতে গিয়েই নানা ধরনের কাগজপত্র নিয়ে শুনানি কেন্দ্রে হাজির হচ্ছেন বহু ভোটার। যেমন, একাধিক জেলায় ভারত-পাকিস্তান পাসপোর্ট নিয়ে এসেছেন কেউ কেউ। ক’দিন আগে হুগলির শেখর সেনগুপ্ত নামে (নাম পরিবর্তিত) হাঁটাচলায় অক্ষম এক নবতিপর বৃদ্ধের হিয়ারিংয়ের ডাক এসেছিল। তবে তাঁর ছেলে বাবার হয়ে শুনানি কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। নথি হিসেবে একটি পুরনো পাসপোর্ট তুলে দেন তিনি। সেটা খুলতেই থ হয়ে যান কমিশনের প্রতিনিধিরা। কারণ, সেটি ভারত-পাকিস্তান নামাঙ্কিত পাসপোর্ট, যা রীতিমতো বিরল এখন। ওই ভোটার পাসপোর্টটি পেয়েছিলেন ১৯৬১ সালে। শুনানিতে উপস্থিত সব আধিকারিক সেই পাসপোর্টের ছবি তুলে রাখেন। আর হিয়ারিং সংক্রান্ত কাজ শেষ করেন সেই নথির ভিত্তিতে। অনেকে আবার ১৯৬৭, ১৯৮০ সালের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের পাসবই নিয়ে হাজির হচ্ছেন। এসব কাগজ দেখে অবাক হচ্ছেন আধিকারিকরাও। তাঁদের কথায়, ‘এমন সব বিরল নথি কতজনই বা দেখেছেন বা শুনেছেন! তবে নথির মধ্যে কোভিড টিকাকরণের সার্টিফিকেট আনাটাও বেশ চমকপ্রদ।’