Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাংলাদেশের ভোটার! বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্যকে ঘিরে শোরগোল স্বরূপনগরে

বাংলাদেশের ভোটার তালিকায় জ্বলজ্বল করছে নাম। আবার তাঁরই নাম ভারতীয় ভোটার তালিকাতেও

বাংলাদেশের ভোটার! বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্যকে ঘিরে শোরগোল স্বরূপনগরে
  • ২১ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বাংলাদেশের ভোটার তালিকায় জ্বলজ্বল করছে নাম। আবার তাঁরই নাম ভারতীয় ভোটার তালিকাতেও। এখানেই অবশ্য কাহিনীর শেষ নয়। এপার-ওপার দু’পারের এহেন ভোটার আবার পদ্মপার্টির গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য। বিজেপির নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি! এসআইআর নিয়ে যখন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি, সেই আবহে নয়া রাজনৈতিক তরজা। ঘটনাটি উত্তর ২৪ পরগনা জেলার স্বরূপনগরের বিথারি-হাকিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের। বিতর্কিত পঞ্চায়েত সদস্যের নাম সুভাষচন্দ্র মণ্ডল। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। এনিয়ে অবশ্য মুখে কুলুপ এঁটেছেন পঞ্চায়েত সদস্য সুভাষচন্দ্র।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বিজেপি কর্মী বলে পরিচিত সুভাষচন্দ্র। দলীয় কর্মসূচিতে তিনি লম্বা-চওড়া ভাষণ দেন নাগরিকত্ব আর অনুপ্রবেশ ইস্যুতে। কিন্তু, এই নেতার কীর্তি এবার প্রকাশ্যে। বিথারি-হাকিমপুর পঞ্চায়েতের ১০০ নম্বর বুথে গত ২০২৩ পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে জয়ী হন সুভাষচন্দ্র মণ্ডল। তাঁর নাম রয়েছে বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকায়। সম্প্রতি সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশের সরকারি ভোটার তালিকায় তাঁর নাম থাকার অভিযোগ নথিসহ প্রকাশ্যে এল। সূত্রের খবর, নথি অনুযায়ী বাংলাদেশে তিনি সুভাষ মণ্ডল, বাবা রাধাকান্ত মণ্ডল। বাড়ি সাতক্ষীরার রুদ্রপুরের কলারোয়ায়। ভারতে এসে তিনি সুভাষচন্দ্র মণ্ডল, বাবার নাম রাধাপদ মণ্ডল। গ্রামে বিষয়টি জানাজানি হতেই বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, এক ব্যক্তি কীভাবে দুই দেশের ভোটার তালিকায় নাম রাখতে পারে? যদি পারে, তাহলে পঞ্চায়েত সদস্য পদে নির্বাচনের সময় এই তথ্য গোপন করা হল কেন? তাহলে কি সীমান্তে নিজের ক্ষমতা কায়েম করে বিজেপি এটা করেছে প্রশ্ন অনেকের। বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব অবশ্য এনিয়ে মন্তব্য করতে চাইছে না। এদিকে স্বরূপনগরের তৃণমূল যুব সভাপতি ইমরান গাজি বলেন, বিজেপি জেনেশুনেই সীমান্তে জোড়া পরিচয়ের লোকজনকে দলে টেনে প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে। বিজেপি অনুপ্রবেশ নিয়ে ভাষণ দেয়। আর নিজেদের স্বার্থে দুই দেশের পরিচয়ধারী ব্যক্তিকে পঞ্চায়েত সদস্য বানায়। এদের অন্তত মুখ না খোলাই ভালো। আমরা বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনকে অভিযোগ করব। এনিয়ে বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য সুভাষচন্দ্র মণ্ডলকে ফোন করা হলে তিনি অভিযোগ কার্যত স্বীকার করে বলেন, এই তথ্য পেলেন কোথায়? তবে, আমি এনিয়ে কোনও মন্তব্য করব না। একটু ব্যস্ত আছি। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল নামগুলি ঠিক তো? হ্যাঁ, বলেই ফোন কেটে দেন তিনি। এদিকে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, লিখিত কোনও অভিযোগ আসেনি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে পদক্ষেপ করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে, আইনত ব্যবস্থা হবে বলেই দাবি জেলা প্রশাসনের। স্থানীয়দের বক্তব্য, সীমান্ত এলাকায় সাধারণ মানুষ প্রতিদিন নানান নিয়মের জটিলতার মুখোমুখি হন। এসআইআর শুরু হতেই ‘চাপ’ আরও বেড়ে গিয়েছে। কিন্তু পঞ্চায়েতের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কেউ যদি দুই দেশের নথি নিয়ে সুবিধা নেয়, তাতে বলার কিছু নেই! 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ