নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা: শুনানির পরও ঝুলে ভোটার ভাগ্য! নির্বাচন কমিশনের নয়া সিদ্ধান্তে এমনই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কারণ, বিপুল সংখ্যক মানুষের শুনানি প্রক্রিয়া চটজলদি সেরে ফেলতে চাইছে কমিশন। তাই তারা জানিয়েছে, এখন থেকে ভোটারদের জমা দেওয়া নথি শুনানি চলাকালীন খতিয়ে দেখবেন না এইআরও এবং ইআরও। ভোটারদের কাছ থেকে সই করিয়ে (সেলফ অ্যাটেস্টেড) স্রেফ জমা নেওয়া হবে। সেইসব যাচাই হবে পরে। অর্থাৎ, শুনানির পরও ভোটার জানতেই পারবেন না, তাঁর দেওয়া নথি গ্রহণযোগ্য হল কি না। তাঁর নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় স্থান পাবে কি না।
শনিবার রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে শুনানি পর্ব। কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্যের একাধিক জায়গায় সেই শুনানি প্রক্রিয়া সরেজমিনে খতিয়ে দেখেছেন রোল অবজার্ভাররা। শনিবার বিধাননগর এবং রাজারহাট-গোপালপুর বিধানসভা এলাকায় পরিদর্শনে গিয়েছিলেন কমিশনের এক প্রতিনিধি দল। রাজ্যের অন্যত্রও শুনানি প্রক্রিয়া তাঁরা পরিদর্শন করেছেন। আর তারপরই শুনানি চলাকালীন আধিকারিকদের সাত দফা নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে শুনানি চলাকালীন ভোটারদের নথি যাচাই না করার নির্দেশের পাশাপাশি বলা হয়েছে, মাইক্রো অবজার্ভাররা যখন সই করবেন, তার নীচে নিজের পরিচয় জানাতে বিশেষ কোনও চিহ্ন ব্যবহার করতে হবে। ভোটারদের শুনানির পর যে ছবি তোলা হবে, সেটা যেন স্পষ্ট হয়।
কেন ‘নির্দেশিকা’? অবজার্ভারদের মনে হয়েছে, ভোটারদের জমা দেওয়া নথির ফোটোকপির সঙ্গে ‘অরিজিনাল’ মিলিয়ে দেখার কাজ করতে গিয়ে শুনানির কাজে অহেতুক দেরি হচ্ছে। তাই নয়া সিদ্ধান্ত—এখন থেকে শুনানি চলাকালীন ভোটারদের জমা দেওয়া নথি খতিয়ে দেখে তাতে ‘ভেরিফায়েড’, অর্থাৎ সঠিকভাবে যাচাই করা হয়েছে, এমনটা লেখা যাবে না। কেন? পরবর্তীতে জেলা নির্বাচনী আধিকারিক বা ডিইও’রাই নথি যাচাইয়ের কাজ করবেন। তাই নথি যাচাই করে কাজে দেরি করা যাবে না।
কিন্তু কমিশনের এই সিদ্ধান্তে আখেরে ভুগবেন একবুক আতঙ্ক নিয়ে শুনানিতে আসা ভোটাররাই। কারণ, দাখিল করা নথি শুনানির সময় ‘গ্রহণযোগ্য’ হিসেবে বিবেচিত না হলে নাম বাদ যাওয়ার আতঙ্ক বজায় থাকবে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। যদিও কমিশনের দাবি, ভোটারকে যে অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ দেওয়া হবে, সেই স্লিপ দিয়ে অনুসন্ধান করলেই ভোটার পরে তাঁর ‘স্টেটাস’ জানতে পারবেন।
এর আগে কিন্তু স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করে কমিশন জানিয়েছিল, নথি যাচাইয়ের কাজ করতে হবে ইআরওদের। এখন আবার নয়া নির্দেশ। ক্ষোভ বাড়ছে আধিকারিক মহলেও। কারণ, এই বিপুল সংখ্যক নথি কবে, কীভাবে, বা কোন প্রক্রিয়ায় যাচাই হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে রাজনৈতিক মহল।
এমনিতেই শুনানি প্রক্রিয়া নিয়ে বিরক্ত ভোটাররা। নথি যাচাইয়ের পর সই, ছবি তোলা, তারপর বিএলও এবং এইআরওদের সেগুলি পৃথকভাবে আপলোড করতে হচ্ছে। তাতেই এক একজনের পুরোটা শেষ হতে সময় লেগে যাচ্ছে প্রায় ৬-৭ মিনিট। আগে বলা হয়েছিল শুধু বিএলওদের এই আপলোডিং করতে হবে। এখন দু’জনকেই এক কাজ করতে হচ্ছে। ফলে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে ভোটারদের। উপরন্তু, এদিন ফের বিএলও অ্যাপে এসেছে বদল। যুক্ত হয়েছে ‘লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সিস’ নামে একটি নতুন ট্যাব। এখানে তিন ধরনের ভোটারদের নাম পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাঁদের নিজেদের নাম ২০০২ সালের তালিকায় রয়েছে, অথচ অ্যাপ মারফত মিল হয়নি। এছাড়াও যে ভোটারদের আত্মীয়ের নাম ২০০২ সালের তালিকায় ছিল এবং তা উল্লেখ করার পরও প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে মিলকরণ হয়নি। এবং যাঁদের নামের বানানে সামান্য ভুল রয়েছে। তাঁদের নামও এই ট্যাব মারফত পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। জানা যাচ্ছে, এই ভোটারদের শুনানিতে ডাকা হবে না। সমস্যার সমাধান করতে হবে বিএলওদের।