Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

১০ লাখ তোলা চেয়ে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞকে হুমকি চিঠি! অসম থেকে গ্রেপ্তার ব্যবসায়ী

বিধানসভা ভোটের মুখে শহরের এক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে স্পিড পোস্টে হুমকি চিঠি পাঠানো হয়। মতলব ছিল ১০ লক্ষ টাকা তোলা আদায়।

১০ লাখ তোলা চেয়ে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞকে হুমকি চিঠি!  অসম থেকে গ্রেপ্তার ব্যবসায়ী
  • ২ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিধানসভা ভোটের মুখে শহরের এক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে স্পিড পোস্টে হুমকি চিঠি পাঠানো হয়। মতলব ছিল ১০ লক্ষ টাকা তোলা আদায়। এই অভিযোগে অসমের লামডিং থেকে এক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে লালবাজার। লালবাজারের গুন্ডাদমন শাখার গোয়েন্দারা ররিবার ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেন। ধৃতের নাম শিবতোষ দেবরায়। তাঁকে ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় আনা হচ্ছে। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান সোমা দাস মিত্র এই খবর জানিয়েছেন।  

Advertisement

পঞ্চসায়রের নামী বেসরকারি হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ তথা বিভাগীয় প্রধান উত্তমকুমার সাহা। পূর্ব যাদবপুর থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে পুলিশকে জানান, ২২ এপ্রিল তাঁর মুকুন্দপুরের চেম্বারে ওই হুমকি চিঠি আসে। তাতে বলা হয়, ৫০০ টাকার নোটে ১০ লাখ টাকা পেমেন্ট করতে হবে। টাকা না দিলে, ‘সাইলেন্ট কিলার দল’ তাঁর পরিবারের সদস্যদের একে একে গুলি করে খুন করবে! বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে তাঁর বিপদ বাড়বে বলেও সতর্ক করা হয়। কারণ, সংশ্লিষ্ট দুষ্কৃতীরা গেরিলা যুদ্ধে প্রশিক্ষিত এবং অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলা-বারুদে সুসজ্জিত বলেই দাবি করা হয় ওই চিঠিতে।
এই হুমকি চিঠি পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন উত্তমবাবুসহ পূর্ব যাদবপুর থানা এলাকার একদল চিকিৎসক। কারণ, অন্তত ১০-১২ জন ডাক্তার এমন হুমকি চিঠি পেয়েছেন। উত্তমবাবু তড়িঘড়ি বিষয়টি নিয়ে পূর্ব যাদবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে মামলা দায়ের করে তদন্তে নামে লালবাজারের গুন্ডাদমন শাখা।
লালবাজারের এক সূত্র জানাচ্ছে, তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা লক্ষ করেন, স্পিডপোস্ট বুক করা হয়েছিল জিপিও থেকে। এরপর জিপিওর সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। পাশাপাশি, টাওয়ার ডাম্প প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে শিবতোষ দেবরায়কে গ্রেপ্তার করা হয় অসমের লামডিং থেকে। এদিকে, ধৃতকে প্রাথমিক জেরায় গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, একসময়ের হোটেল ব্যবসায়ী শিবতোষ দেবরায়ের ব্যবসায় ভরাডুবি হয়। তারপর নিজের কিডনি বেচেই ব্যবসা বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি। শেষমেশ কলকাতায় এসে চিকিৎসদের হুমকি চিঠি পাঠিয়ে টাকা হাতানোর মতলব ফেঁদেছিলেন। কিন্তু লালবাজারের তৎপরতায় সেই কাণ্ড ভেস্তে গেল। 

সম্পর্কিত সংবাদ