Bartaman Logo
২৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অন্নপূর্ণা যোজনা: কাজে গতি আনতে নামানো হল পুর-শিক্ষকদের, ময়দানে পদস্থ কর্তারাও

শুরু হয়েছে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র উপভোক্তা তালিকায় নাম তোলার পালা।

অন্নপূর্ণা যোজনা: কাজে গতি আনতে নামানো হল পুর-শিক্ষকদের, ময়দানে পদস্থ কর্তারাও
  • ২ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শুরু হয়েছে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র উপভোক্তা তালিকায় নাম তোলার পালা। চলছে আবেদনপত্র বিলির কাজ। রীতিমতো আদা-জল খেয়ে সেই কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন কলকাতা পুরসভার অফিসাররা। তাঁদের টার্গেট, কাল বুধবারের মধ্যে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রাপকদের মধ্য থেকে অন্তত ৯৬ হাজার মহিলাকে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র আওতায় নিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি চলছে নতুন ফর্ম বিলি ও সংগ্রহের কাজও। পুরসভা সূত্রে খবর, এই কাজে সাধারণ কর্মী থেকে শুরু করে পদস্থ পুরকর্তাদেরও নামানো হয়েছে। সব মিলিয়ে সংখ্যাটা প্রায় ১৪০০। এর মধ্যে রয়েছেন প্রায় ৩০০ জন পুর-শিক্ষক। পুরসভার পরিচালিত স্কুলগুলিতে শিক্ষকতা করেন তাঁরা। তাঁদের এই কাজে নামানো নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্কও। কারণ, সোমবার থেকে খুলে গিয়েছে সরকারি স্কুল। সেক্ষেত্রে পুর-শিক্ষকরা ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র কাজে লেগে গেলে পুরসভার স্কুলগুলি চলবে কীভাবে? উঠছে প্রশ্ন।

Advertisement

রবিবার থেকে শুরু হয়েছে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র কাজ। কলকাতা পুরসভার বিভিন্ন বরো অফিস থেকে ফর্ম দেওয়া হচ্ছে এবং জমা নেওয়া হচ্ছে। আশা কর্মী থেকে শুরু করে পুরসভার অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদেরও নামানো হয়েছে এর জন্য। তাঁরা বাড়ি বাড়ি ফর্ম বিলি করছেন। এমনকি, নির্বাচনের সময় যাঁরা বিএলও হিসাবে কাজ করেছেন, তাঁদেরও এই কাজে লাগানো হচ্ছে। যদিও গত দু’দিনে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’য় নাম তোলার হার কলকাতার নিরিখে আশানুরূপ নয় বলেই পুরসভা সূত্রে খবর। পুরসভার ১৬টি বরোর জন্য পৃথক পৃথক দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। স্পেশাল কমিশনার, জয়েন্ট কমিশনার, অর্থবিভাগের দায়িত্বে থাকা সিএমএফএ সহ একাধিক বিভাগীয় প্রধানদের তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কাজ নজরদারি চালাচ্ছেন। পুরসভা সূত্রে খবর, শহরের বিভিন্ন সংখ্যালঘু অধ্যুষিত অঞ্চলে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র আবেদনপত্র তোলার ক্ষেত্রে উৎসাহে ঘাটতি দেখা গিয়েছে। ১২ পাতার ফর্মে নানা ধরনের পারিবারিক ঠিকুজি-কোষ্ঠি দিতে হচ্ছে। এতসব তথ্য দিতে নারাজ অনেকেই। 
আপাতত কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো ক্যাম্প না হলেও স্থানীয় স্তরে শিবির করা হচ্ছে। পুরসভার কমিশনার স্মিতা পান্ডে বলেন, ‘আপাতত বিভিন্ন বস্তি অঞ্চল ও নিম্নবিত্ত প্রধান কলোনি অঞ্চলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আমাদের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। আবেদনপত্র পূরণ করে নিয়ে আসছেন। বরো অফিস থেকেও আবেদনপত্র পাওয়া যাচ্ছে। এটা চলতে থাকবে। আগামী দিনে ওয়ার্ডভিত্তিক পরিষেবাও চালু হবে।’
পুরসভার সূত্রে খবর, বিভিন্ন বিভাগ মিলিয়ে প্রথমে ৭২০ জন কর্মীকে এই কাজে যুক্ত করা হয়েছিল। পাশাপাশি, নতুন করে ৩০০ জন শিক্ষককে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের কাজে লাগানোর নির্দেশ জারি হয়েছে। এর বাইরেও পুরসভার সম্পত্তি কর মূল্যায়ন এবং রাজস্ব আদায় বিভাগ এবং সামাজিক সুরক্ষা বিভাগের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র কাজ সফল করতে ময়দানে নামানো হয়েছে। আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, আপাতত ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এ নাম থাকা প্রায় এক লক্ষ মহিলাকে নয়া যোজনার আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। তাঁদের বাড়িতে আবেদনপত্র পৌঁছে দেওয়া, সেগুলি সংগ্রহ করা, ব্যাংক এবং আধার সেন্টারে গিয়ে আধার সিডিং বা ডিবিটি লিংক করানোর মতো যাবতীয় কাজ করাতে হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ