সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: মৃত ব্যক্তিকে বাবা দেখিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তোলার অভিযোগ উঠল ভাই ও বোনের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে কাকদ্বীপের প্রতাপাদিত্যনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৮৬ নম্বর বুথে। জানা গিয়েছে, প্রায় সাত বছর আগে এই গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা বিমল দাসের মৃত্যু হয়। তাঁর এপিক নম্বর ব্যবহার করে এই গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা রনি দাস ও রুমা সানা দাস ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন। এসআইআরের কাজ শুরু হতেই বিষয়টি সামনে এসেছে। এরপরই বিমল দাসের পরিবার বিডিওর কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
বিমল দাসের মা রণতরী দাস বলেন, ‘ছেলে প্রায় সাত বছর আগে মারা গিয়েছে। কিন্তু ওর ভোটার কার্ডের নম্বর ব্যবহার করে রনি ও রুমা নামে দুজন ভোটার তালিকায় নাম তুলেছে। এমনকি ইনিউমারেশন ফর্মেও ওই দুজন বাবা হিসেবে ছেলের এপিক নম্বর ব্যবহার করেছে। বিষয়টি জানার পরই বিডিওর কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।’ তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রনি ও রুমার বাবার নামও বিমল দাস। তিনি ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করেন। কিন্তু তাঁর নিজের কোনও ভোটার কার্ড নেই। তিনি এই কথা নিজের মুখে স্বীকারও করেছেন। রনি ও রুমার বাবা বিমল দাস বলেন, ‘আমি ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করি। আমার নিজের কোনও ভোটার কার্ড নেই। কিন্তু ছেলে ও মেয়ে কীভাবে ভোটার কার্ড বানিয়েছে আমার জানা নেই।’
অন্যদিকে, স্বামী বিবেকানন্দ গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৪২ নম্বর বুথের বাসিন্দা সুমন দাস অন্যকে বাবা দেখিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন বলে অভিযোগ। তিনি এই বুথের বাসিন্দা লালমোহন দাসের ভোটার কার্ডের এপিক নম্বর ব্যবহার করে ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন। ইনিউমারেশন ফর্মেও তিনি লালমোহন দাসকে বাবা হিসেবে দেখিয়েছেন। কিন্তু লালমোহন দাস জানিয়েছেন, তাঁর দুটি ছেলে রয়েছে। একজনের নাম রবীন্দ্রনাথ দাস ও অন্যজন হলেন রথীন দাস। সুমন দাস বলে তাঁর কোনও সন্তান নেই। তাঁর এপিক নম্বর ব্যবহার করে অন্য ব্যক্তি ভোটার কার্ড বানিয়েছেন। এবিষয়ে তিনি বিএলও এবং বিডিওর কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। এই বুথের বিএলও পলাশ গায়েন বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করেছিলাম। প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছি বিষয়টি সত্যি। তাই সুমনকে হিয়ারিংয়ে ডাকা হয়েছে।’ কাকদ্বীপের মহকুমা শাসক প্রীতম সাহা বলেন, ‘বেশ কিছু অভিযোগ জমা পড়েছে। তাঁদের সবাইকেই হিয়ারিংয়ে ডাকা হয়েছে।’ নিজস্ব চিত্র