Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ, প্রতিবাদের ভোট: অভিষেক

এবারের বিধানসভা নির্বাচন বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, প্রতিরোধের ভোট। বিজেপিকে উৎখাত করা ও শিক্ষা দেওয়ার ভোট। নিজের প্রথম নির্বাচনি সভা থেকে এভাবেই লড়াইয়ের রোড-ম্যাপ ঠিক করে দিলেন তৃণমূল সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ, প্রতিবাদের ভোট: অভিষেক
  • ২৫ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রাহুল চক্রবর্তী, পাথরপ্রতিমা: এবারের বিধানসভা নির্বাচন বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, প্রতিরোধের ভোট। বিজেপিকে উৎখাত করা ও শিক্ষা দেওয়ার ভোট। নিজের প্রথম নির্বাচনি সভা থেকে এভাবেই লড়াইয়ের রোড-ম্যাপ ঠিক করে দিলেন তৃণমূল সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, বিজেপিকে জবাব দিতে কেন তৃণমূলকে ভোট দিতে হবে, তাও খোলসা করে দিয়েছেন দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড। তিনি বলেন, ‘বিজেপি বাংলার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে। মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়ে হয়রানির মুখে ঠেলে দিয়েছে। বাংলাকে বঞ্চনা করেছে। এবার ওদের যোগ্য জবাব দেওয়ার পালা। ইভিএমে বোতাম টিপে বিজেপিকে উৎখাত করতে হবে।’ 

Advertisement

মঙ্গলবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচার শুরু করলেন অভিষেক। এদিন তাঁর সভা ছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমায়। তৃণমূল প্রার্থী সমীরকুমার জানার সমর্থনে পাথরপ্রতিমা কলেজ মাঠের সভা ছিল ভিড়ে ঠাসা। সুন্দরবনের প্রান্তিক এই অঞ্চলে অভিষেকের সভা ঘিরে সোমবার থেকেই উন্মাদনা তুঙ্গে ছিল। ভরদুপুরে মহিলাদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি জানান দিয়েছে, তাঁরা আছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই। পাথরপ্রতিমার উত্তর গোপালনগরের সুচিত্রা সামন্ত, সরস্বতী মান্নারা সাফ বললেন, ‘দিদি আছেন, আমাদের চিন্তা নেই। দিদির প্রতিনিধি অভিষেকের সভায় আসব না! ঘরের কাজকর্ম, খাওয়াদাওয়া সেরে চলে এসেছি।’ সভাস্থল ছাপিয়ে মাঠের আলে দাঁড়িয়েই বহু মানুষ সভা শুনেছেন। জনগণের এই সমর্থন পুঁজি করে বিজেপিকে আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়িয়ে দেন অভিষেক। তৃণমূল সরকারের আমলে বিধানসভা ভিত্তিক কী কী উন্নয়ন হয়েছে, তার রিপোর্ট কার্ড পেশ করেন তিনি। মানুষের কাছে তাঁর আবেদন, ‘বিজেপি ভোট চাইতে এলে তাদের কাছে রিপোর্ট কার্ড চাইবেন। ওরা বাংলার মানুষের জন্য কী করেছে, সেই তথ্য আগে দেবে। তারপর ভোট চাইবে।’ আরও বলেন, ‘বিজেপি ধর্মকে ঢাল করে রাজনীতি করছে। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য ভেদাভেদ নয়, উন্নয়ন। গত বিধানসভা ভোটে বিজেপিকে ৭৭টি আসনে জয়ী করেছিলেন বাংলার মানুষ। যে আসনগুলিতে ওরা জিতেছে, সেখানেও ১০০ দিনের টাকা বন্ধ। আবাসের টাকা দেয়নি। আবার এসআইআরের নামে ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছে। তাই বিজেপিকে ভোট দেওয়া মানে খাল কেটে কুমির ডেকে আনা। পদ্মফুলে ভোট দিলে কেউটে সাপ ঘরে ঢুকবে। মোদি সরকার মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়ে হয়রান করছে। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার মানুষের দুয়ারে পরিষেবা পৌঁছে দিচ্ছে। যুবসাথী দিচ্ছে।’ এসআইআরে যাঁদের নাম বাদ পড়ছে, তাঁদের অভয় দিয়ে অভিষেক বলেন, ‘ভয় পাবেন না। আপনার অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা আমরা রুখব।’ ‘দুয়ারে চিকিৎসা’ সহ যেসব প্রতিশ্রুতি তৃণমূল দিয়েছে, তা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে নিশ্চিতভাবে পূরণ হবে বলে দাবি করেন তিনি। বাংলায় জিতে দিল্লির পথে পাড়ি দেওয়ার বার্তাও দিয়েছেন অভিষেক। খোলা মঞ্চ থেকে তাঁর আহ্বান, ‘জোড়াফুলে বোতাম টিপবেন, খেলা শেষ হবে বিজেপির। বাংলা থেকে দেশে পরিবর্তনের চাকা ঘুরবে আগামী তিন মাসের মধ্যে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ