Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হয়রানির জবাব ভোটে: মমতা

এসআইআর পর্বের শুরু থেকেই তিনি রুখে দাঁড়িয়েছেন বিজেপি-নির্বাচন কমিশনের চক্রান্তের বিরুদ্ধে। মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা করতে নিজে ছুটে গিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টেও।

হয়রানির জবাব ভোটে: মমতা
  • ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও হাওড়া: এসআইআর পর্বের শুরু থেকেই তিনি রুখে দাঁড়িয়েছেন বিজেপি-নির্বাচন কমিশনের চক্রান্তের বিরুদ্ধে। মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা করতে নিজে ছুটে গিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টেও। কিন্তু নির্বাচন আসতেই মানুষকে ভুল বুঝিয়ে ভোট পাওয়ার খেলায় নেমেছে ‘নাম-কাটারি’রা। আর তাই দ্বিতীয় দফার ভোটের চারদিন আগে গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে সুর সপ্তমে তুললেন বাংলার অগ্নিকন্যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বেনাগরিক হয়ে যাওয়ার আতঙ্ক সৃষ্টিকারী পদ্মশিবিরকে দ্বিতীয় দফার ভোটেও যোগ্য জবাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শুক্রবার মমতা বলেন, ‘যাঁরা ভোট কেটেছে, তাঁরাই আজকে এসেছে ভোট চাইতে। আর এই অত্যাচারের জবাব ওরা পেয়েছে প্রথম দফার ভোটে। বৃহস্পতিবারের ভোটে আলিপুরদুয়ার, দক্ষিণ দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ সহ সমস্ত জায়গায় ওরা গোল্লা হয়ে গিয়েছে। দ্বিতীয় দফাতেও বিজেপিকে একটিও ভোট না দিয়ে চরম হয়রানির বিরুদ্ধে জবাব দিন!’ আত্মবিশ্বাসী মমতার বার্তা, ‘বৃহস্পতিবারের ভোটে আমরা অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছি। আর বিজেপির আগেরবার যা আসন ছিল, তার থেকে অনেকটা কমেছে। মানুষ বুঝিয়ে দিয়েছে, তাদের এই ভোট হয়রানির বিরুদ্ধে। আগামী দফাতেও সেটাই হবে।’

Advertisement

প্রথম দফার ভোটে বিজেপি নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে বলে বৃহস্পতিবারই জানিয়ে দিয়েছিলেন মমতা। তারই রেশ ধরেই এদিন হাওড়া, কলকাতা বন্দর এবং ভবানীপুরের সভা থেকে দ্বিতীয় দফার ১৪২টি কেন্দ্রের ভোটারদের কাছে তাঁর আরজি, ‘এসআইআরের জেরে মৃত্যু হয়েছে ২৫০-র বেশি মানুষের। যোগ্য ভোটারদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার কারণে মানুষের প্রাণ গিয়েছে। এর জবাব কে দেবে? ওরা (বিজেপি) দেবে? মানুষের জীবন ফেরত দিতে পারবে দুর্যোধন-দুঃশাসনরা? পারবে না! এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে ভোট দিন। ওরা শুধু নির্বাচন আসলে কোকিলের মতো বাংলায় এসে ক্যা ক্যা করবে। বাংলায় আগুন জ্বালানোর চেষ্টা করবে। ফলাফল বেরোলেই দেখবেন ওদের সব গর্জন ফুস হয়ে গিয়েছে।’
নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী সরব হন বিজেপি-কমিশনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে। মমতা বলেন, ‘মনে রাখবেন প্রথম দফার ভোটে যেখানে আমরা আশাও করিনি, সেখানেও আমরা জিতব। এটা এসআইআরের অত্যাচারের ফল।’ একইসঙ্গে ইভিএম নিয়ে দলের প্রার্থী এবং কর্মীদের সতর্ক করেছেন তিনি। বলেছেন, ‘আমি রাত সাড়ে তিনটে পর্যন্ত মনিটরিং করেছি। মালদহে ইভিএম পৌঁছেছে সাড়ে তিনটেয়। ফলে সতর্ক থাকতে হবে।’ 
বাংলা দখলের লক্ষ্যে কয়েকদিন ধরে সব কাজ ছেড়ে বাংলায় এসে পড়ে আছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এখানে এসে তাঁরা মানুষকে উত্তেজিত করে তোলার চেষ্টা করছে বলেই মমতার অভিযোগ। তিনি আরও বলেন, ‘মিস্টার হোম মিনিস্টার গাছে বেঁধে উলটো করে ঝুলিয়ে দেওয়ার কথা বলছেন। একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমন কথা বলতে পারেন? এটা ক্রিমিনাল অফেন্স! কিন্তু, এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন একেবারে নীরব।’ বাংলায় বিভেদের রাজনীতি করার অভিযোগ তুলেও এদিন গেরুয়া শিবিরকে তৃণমূলনেত্রী। তিনি বলেছেন, ‘বাংলায় এসে আগুন লাগানোর চেষ্টা করবেন না। আমাকে ধর্মের পাঠ পড়ানোরও চেষ্টা করবেন না। মনে রাখবেন, বাংলার মানুষ এত বোকা নয়।’ এদিন আবারও মহিলা সংরক্ষণের আড়ালে ডিলিমিটেশন বিল পাশ করাতে গিয়ে লোকসভায় বিজেপির হারের কথা উল্লেখ করেন মমতা। তাঁর সাফ কথা, ‘বিজেপির রাজনৈতিক বিনাশ শুরু হয়ে গিয়েছে।’ একে গেরুয়া শিবিরের পতনের শুরু বলে তোপ দেগে মমতার প্রতিজ্ঞা, ‘দিল্লি যদি দখল করতে না পারি, তখন আপনারা বলবেন!’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ