শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা:
শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা:
বড়সড় পথ দুর্ঘটনার কবলে পড়লে পরিবারের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। কারও মৃত্যু ঘটলে প্রিয়জনকে অকালে হারানোর কষ্ট তো থাকেই। কেউ গুরুতর জখম হলেও যথাযথ চিকিৎসা সহ নানা ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের বিস্তর দুর্ভোগে পড়তে হয়। আচমকা ঘটে যাওয়া বিপদের সঙ্গে কীভাবে লড়বেন, বুঝে উঠতে পারেন না তাঁরা। সিংহভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, বিপদগ্রস্ত পরিবারগুলি জানেই না এক্ষেত্রে পুলিশের কাছে তারা কী কী সহযোগিতা পেতে পারে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট কীভাবে হাতে পাওয়া যাবে, এফআইআরের কপি সংগ্রহ, তা বিমা অফিসে জমা দেওয়ার পদ্ধতি—এসবের বিন্দুবিসর্গ জানেন না অনেকে। অনেক সময় দেখা যায়, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এলেও জখমকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যাচ্ছে না। এসব কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার শেষ পর্যন্ত তাদের ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হয়। দেশজুড়ে কমবেশি এই চিত্র বিদ্যমান। সেই কথা মাথায় রেখে এবার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও হাইওয়ে মন্ত্রক। দুর্ঘটনা পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সবরকম সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা (এনজিও)-কে কাজে লাগানো হবে। পাশাপাশি, পথ নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রচারের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে তাদের। মূলত হাসপাতাল, পুলিশ ও জখম বা মৃতের পরিবারের সঙ্গে সমন্বয় গড়ে তোলার কাজটি করবে এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলি। দুর্ঘটনাস্থলে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে, এমন এনজিওগুলিকে আবেদন করতে বলা হয়েছে। প্রতিটি রাজ্যের কাছে সেই তালিকা পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
রাজ্য পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কোথাও দুর্ঘটনা ঘটলে তারা তালিকাভুক্ত এনজিওর সঙ্গে যোগাযোগ করবে। পাশাপাশি বিভিন্ন হাইওয়ে বা দুর্ঘটনাপ্রবণ ও গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় সংশ্লিষ্ট এনজিওর সঙ্গে যোগাযোগের নম্বর দেওয়া থাকবে। আহতদের উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থাও করবে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলি। পথ দুর্ঘটনায় জখমদের জন্য সরকার নির্দিষ্ট যে হাসপাতাল রয়েছে, তাদের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করে চলবে সংস্থাগুলি, যাতে বেড খালি রয়েছে, এমন হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যায় আহতদের। এরপর থানায় অভিযোগ করানো, এফআইআরের কপি সংগ্রহ সহ বিভিন্ন ধাপে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে তারা। রোডস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে কোনও ত্রুটি তাদের নজরে এলে তা পুলিশ ও সড়ক বিভাগের নজরে আনতে পারবে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলি। সেই সঙ্গে চালক ও পথচারীদের পথ নিরাপত্তার পাঠও দেবে তারা। স্কুলে গিয়ে ছাত্রদের মধ্যে পথ নিরাপত্তা নিয়ে সেমিনারের আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাদের। রাজ্য পুলিশের এক অফিসারের কথায়, ‘থানা বা ট্রাফিক গার্ডের পক্ষে ট্রাফিক নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর ক্ষেত্রে সমস্যা হয়। এনজিওগুলিকে এই দায়িত্ব দেওয়া হলে সারা বছর কাজ চালানো যাবে। এতে দুর্ঘটনা কমবে বলেই আমাদের আশা।’