Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তাপমাত্রার হেরফেরে ‘শূন্যতা’  বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্পের অনুপ্রবেশ, হঠাৎ ঠান্ডা-ঝোড়ো হাওয়ায় বেসামাল শহর

রবিবার সকাল থেকেই শহর ও শহরতলিতে আকাশের মুখ কালো। পাশাপাশি বয়েছে ঝোড়ো হাওয়া

তাপমাত্রার হেরফেরে ‘শূন্যতা’  বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্পের অনুপ্রবেশ, হঠাৎ ঠান্ডা-ঝোড়ো হাওয়ায় বেসামাল শহর
  • ১৬ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও চুঁচুড়া: রবিবার সকাল থেকেই শহর ও শহরতলিতে আকাশের মুখ কালো। পাশাপাশি বয়েছে ঝোড়ো হাওয়া। রাত বাড়ার পর হুগলি, সোদপুর, দমদম, বরানগর সহ কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতও হয়। সকাল থেকে হাওয়ার বেগে কার্যত বেসামাল শহর। বাইক চালাতে গিয়ে টলমল করেছেন কেউ। কারও টুপি গিয়েছে হাওয়ায় উড়ে।

Advertisement

দুপুরের দিকে হালকা রোদের দেখা মেলে। কিন্তু তা বেশিক্ষণ স্থির ছিল না। তারপরই শুরু হয় দমকা বাতাস। আচমকা কেন এমন খামখেয়ালি আচরণ? আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল ঘেঁষা রাজ্যগুলিতে অর্থাৎ, বিহার, ঝাড়খণ্ডের ভূপ্রকৃতি হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে গিয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের তাপমাত্রা তেমন বাড়েনি। ফলে উত্তাপজনিত তারতম্যে বেসামাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পরিবর্তন আবহাওয়ার। বইছে ঝোড়ো হাওয়া। এর পাশাপাশি আরও একটি কারণ আছে। বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্প এই রাজ্যে হু হু করে ঢুকছে। এই সমস্ত পরিস্থিতিই বজ্রগর্ভ মেঘ সৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে এখানে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস, সোমবার হুগলি, বর্ধমান ও বীরভূমে ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা। দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া। দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস। 
উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বজ্রবিদ্যুত্ সহ বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস। আলিপুর হাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ২১ তারিখ পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলার আবহাওয়া কমবেশি এরকমই থাকবে। অর্থাত্, মার্চের শেষের দিকেও খুব একটা গরমের পূর্বাভাস নেই। রবিবার সন্ধ্যা থেকে হুগলিতে বজ্রবিদ্যুত্ সহ তুমুল ঝড়বৃষ্টি হয়েছে। তার সঙ্গী ছিল লোডশেডিং। এছাড়া সোদপুর, দমদম, বরানগরে হালকা ও মাঝারি বৃষ্টিপাত। ইএম বাইপাস সংলগ্ন এলাকায় সন্ধ্যার পর ঝোড়ো হাওয়া ও হালকা বৃষ্টিপাত। সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ হুগলিতে বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড়বৃষ্টি হয়েছে। এখড় আমের মুকুল এসেছে গাছে। তা পড়েছে ক্ষতির মুখে।
রবিবার সকাল থেকেই আকাশের মুখ ভার। তার সঙ্গে দমকা হাওয়া। মা ফ্লাইওভার দিয়ে বাইক চালাতে গিয়ে রীতিমতো বেগ পেতে হয়েছে চালকদের। মানিক সরকার নামে সোদপুরের এক বাসিন্দা বললেন, ‘সকাল থেকে হাওয়া দিচ্ছিল। মা ফ্লাইওভার দিয়ে যাওয়ার সময় প্রচণ্ড হাওয়া টের পাই। বাইক চালানো কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। এমন দমকা হাওয়া যে, বাইক হেলে যাচ্ছিল।’ রবিবার বলে শহরের রাস্তাঘাট ছিল ফাঁকা। অনেকে হাঁটতে গিয়ে দমকা হাওয়ার ঠেলায় বেসামাল হয়ে পড়েন। পার্ক স্ট্রিট, ধর্মতলা, ময়দান চত্বরে বিকেলের দিকে ধুলোর ঝড় হয়। তবে দমকা হাওয়া থাকলেও কলকাতার তাপমাত্রা খুব কমেনি। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে ছিল ৩ ডিগ্রি বেশি, ২৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বোচ্চ ৩০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।  হাওড়ায় তোলা নিজস্ব চিত্র।

সম্পর্কিত সংবাদ