Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর আমলের অব্যবস্থাকে কটাক্ষ প্রবীরের

বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর আমলের অব্যবস্থাকে কটাক্ষ প্রবীরের
  • ১৬ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: অতীতের খর্বতা ও স্থবিরতা কাটিয়ে বিশ্বভারতীকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমি বদ্ধপরিকর। মঙ্গলবার, এইভাবেই নাম না করে বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর আমলের অব্যবস্থাকে কটাক্ষ করলেন নতুন উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ।‌ নববর্ষের প্রথম দিনে‌ শান্তিনিকেতন কর্মিমণ্ডলী আয়োজিত বর্ষবরণ উৎসবে উপাচার্যের এই বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে। বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিয়ে যেতে সকলের সহযোগিতা প্রার্থনা করেন তিনি। পাশাপাশি, এদিন পাঠভবন, শিক্ষাসত্রের ভূয়সী প্রশংসা করেন।‌ পাঠভবনকে শান্তিনিকেতনের মেরুদণ্ড বলেও মন্তব্য করেন। তাঁর এই মনোভাবকে ইতিবাচক বলে মনে করছেন প্রাক্তনী ও আশ্রমিকরা।

Advertisement

বিশ্বভারতী দু’ বছর অভিভাবকহীন থাকার পর গত ১৯ মার্চ স্থায়ী উপাচার্যের পদে বসেন প্রবীরবাবু। আগের উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর একাধিক পদক্ষেপ ও মন্তব্য কবিগুরুর স্মৃতি বিজড়িত বিশ্বভারতীকে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এনে ফেলেছিল। শিক্ষা ব্যবস্থাও বেহাল হয়ে পড়ে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউশনাল র‍্যাঙ্ককিং ফ্রেমওয়ার্ক (এনআইআরএফ) ও ন্যাশনাল অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিলের (সংক্ষেপে ন্যাক) গ্রেডে নামতে নামতে কার্যত তলানিতে ঠেকে। পাঁচ বছর উপাচার্য পদে থেকেও বিশ্বভারতীর গুরুত্বপূর্ণ পদগুলি পূরণ করার উদ্যোগ নেননি বলে অভিযোগ। পরিবর্তে একের পর এক বিতর্ক সৃষ্টি করে ঐতিহ্যবাহী বিশ্বভারতীর মান একেবারে নামিয়ে দিয়েছিলেন বলে প্রাক্তনী ও আশ্রমিকদের অভিযোগ। সেই মান পুনরুদ্ধার করতে মরিয়া নতুন উপাচার্য। যোগদানের পর প্রতিটা বিভাগে পরিদর্শন করে সে কথায় তিনি জানিয়েছেন।‌
মঙ্গলবার বর্ষবরণ উৎসব উপলক্ষ্যে সকালে শান্তিনিকেতনের উপাসনা গৃহে বিশেষ প্রার্থনা আয়োজন করা হয়। এরপর মূল উৎসবটি পাঠভবনের মাধবী বিতানে আয়োজন করা হয়। এখানে নিজের বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, যেখান থেকে আমার পথচলা শুরু, সেই বিশ্বভারতীতে প্রত্যাবর্তিত হয়েছি। ছাত্রাবস্থা থেকে আজ হয়তো আমার ভূমিকা অনেকটাই পরিবর্তিত, কিন্তু দায়িত্বভারের গুরুত্ব অনেক বেশি। যে কোনও নতুন সূচনাই আনন্দময়। তেমনই, তা কঠিন পরীক্ষার মুখে দাঁড় করায়। এরপরেই তিনি অতীতের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সেই পরীক্ষা অতীতের খর্বতাগুলির উত্তরণের পরীক্ষা, সামগ্রিক উন্নতি সাধনের পরীক্ষা। গুরুদেবের অনুপ্রেরণায় নতুন বছরের আরম্ভে, অতীতের স্থবিরতা কাটিয়ে উঠে, আপনাদের সকলকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে চলতে আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমার এই প্রয়াসে সকলকে সহযোগিতার হাত বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করি। শান্তিনিকেতনের সামগ্রিক উন্নতি সাধনই আমাদের আগামী দিনের যাত্রাপথের আনন্দ গান হয়ে উঠুক। 
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, বিদ্যুৎ চক্রবর্তী উপাচার্য পদে থাকাকালীন পাঠভবন ও শিক্ষাসত্রের শিক্ষকদের প্রতিপদে হেনস্তা, দুর্ব্যবহার ও অপমানজনক কথা বলতেন বলে অভিযোগ। কিন্তু এদিন নতুন উপাচার্যকে ব্যতিক্রমী ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়। নিজের বক্তব্যে এদিন তিনি পাঠভবন ও শিক্ষাসত্রকে প্রশংসায় ভরিয়ে দেন। দুই বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের অনুষ্ঠান দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি বলেন, আমরা সবাই জানি গুরুদেবের আমল থেকেই পাঠভবন শান্তিনিকেতনের মেরুদণ্ড। এই অনন্য শিক্ষাব্যবস্থা সারা বিশ্বে আর কোথাও নেই। এমনকী, আমাদের দেশেও কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই এটা আমাদের কর্তব্য এদের অবহেলা না করা। তাদের যথেষ্ট মর্যাদা দেওয়া।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ