সংবাদদাতা, বোলপুর: প্রবীরকুমার ঘোষ উপাচার্য হিসেবে যোগদানের পর শান্তিনিকেতনের হেরিটেজ সংক্রান্ত বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে প্রথম বৈঠক করল বিশ্বভারতী। প্রাক্তন বিতর্কিত উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর আমলে জেলা ও রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে বিশ্বভারতীর সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছিল। নজিরবিহীনভাবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করায় জেলা প্রশাসনের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছিল বিশ্বভারতীর। তার প্রেক্ষিতে এদিনের বৈঠক ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বৈঠকে মূলত উপাসনা গৃহ সংলগ্ন রাজ্য সরকারের অধীনে থাকা রাস্তাটি চেয়ে আবেদন করে বিশ্বভারতী। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা পাঁচিল তৈরিতে পাশে থাকার অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া, শান্তিনিকেতনের হেরিটেজ কোর ও বাফার এরিয়ার মানচিত্রের স্পষ্ট ধারণা প্রশাসনকে দিয়েছে বিশ্বভারতী। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতার আশ্বাসে আপ্লুত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
প্রসঙ্গত, শান্তিনিকেতনের সুবর্ণরেখার মোড় থেকে উপাসনা গৃহ হয়ে কালীসায়র পর্যন্ত ৩.৪ কিমি রাস্তা রাজ্য সরকারের অধীনে ছিল। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা স্বার্থে ২০১৭ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা বিশ্বভারতীর হাতে তুলে দেন। তবে, তৎকালীন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে ২০২০ সালে সেই রাস্তা রাজ্য ফের নিজেদের দখলে নেয়। এদিকে, রবীন্দ্রনাথের আশ্রম ভাবনা ও শান্তিনিকেতনের শিক্ষা-সংস্কৃতির বিশেষত্বকে বিশ্ব দরবারে স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো। তার প্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত ৪৫তম অধিবেশনে শান্তিনিকেতন পায় ওয়ার্ল্ড লিভিং হেরিটেজ সাইটের মর্যাদা। তবে এর কৃতিত্ব পাওয়া নিয়ে প্রাক্তন উপাচার্য রাজ্য সরকারের সঙ্গে দড়ি টানাটানি শুরু করেন। এছাড়া অভিযোগ, কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে খুশি করতে গিয়ে উপাসনা গৃহ সংলগ্ন রাজ্য সরকারের রাস্তা ও অমর্ত্য সেনের জমিকাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সংঘাতে জড়ান বিদ্যুৎবাবু। যার জেরে রাজ্য সরকারের সঙ্গে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের দূরত্ব তৈরি হয়। তবে এর মাঝে পৌষমেলা হোক বা বসন্ত উৎসব প্রতিক্ষেত্রেই সহযোগিতার হাত বাড়াতে কার্পণ্য করেনি জেলা ও রাজ্য প্রশাসন। তবে অতীত দূরে ঠেলে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে নতুন উপাচার্য উদ্যোগী হলেন। তার প্রেক্ষিতে সোমবার শান্তিনিকেতনের হেরিটেজ রক্ষার্থে আয়োজিত বৈঠকে প্রশাসনকে আমন্ত্রণ জানায় বিশ্বভারতী। উপাচার্যের আহ্বানে এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা, বীরভূমের জেলাশাসক বিধান রায়, বোলপুরের এসডিপিও রিকি আগরওয়াল সহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্তারা। ঘন্টা দেড়েক ধরে চলে সেই বৈঠক। এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, শান্তিনিকেতনের হেরিটেজ মর্যাদা বীরভূমেরও গর্ব। এই স্বীকৃতির রক্ষার্থে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রশাসন, বিশেষত জেলাশাসক যেভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন তাতে আমরা অভিভূত। মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যে ভুল বোঝাবুঝি ছিল তা এদিনের বৈঠকে মিটেছে। আমরা চাই বোলপুরকে সঙ্গে নিয়ে বিশ্বভারতী নিজের গতিতে চলুক। নতুন উপাচার্য বিশ্বভারতীর উন্নয়নের চেষ্টা করছেন। মানুষকে সঙ্গে নিয়ে করলে আমরা পাশে থাকব বলে জানিয়েছি। রাস্তা ফেরতের বিষয়ে বিশ্বভারতী আবেদন করলে আমরা রাজ্য প্রশাসনকে জানাতে বলেছি। বৈঠক প্রসঙ্গে জেলাশাসক বলেন, শান্তিনিকেতনের হেরিটেজ স্বীকৃতি জেলার গর্ব। এই স্বীকৃতি রক্ষার্থে বিশ্বভারতীর সব ইতিবাচক কাজে প্রশাসন পাশে থাকবে।