Bartaman Logo
৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কর্মস্থল ছাড়লে নিতে হবে অনুমতি, বিশ্বভারতীর নির্দেশিকায় বিতর্ক

বিশ্বভারতীর নতুন নির্দেশিকার ফলে কর্মস্থল ছাড়তে অনুমতি নিতে হবে। অধ্যাপক সংগঠনের আপত্তি, আইনগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন। বিস্তারিত পড়ুন।

কর্মস্থল ছাড়লে নিতে হবে অনুমতি, বিশ্বভারতীর নির্দেশিকায় বিতর্ক
  • ৬ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

সংবাদদাতা, বোলপুর : সম্প্রতি বিশ্বভারতীর একটি প্রশাসনিক নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অফিস সময়ে কর্মস্থল ছাড়ার ক্ষেত্রে বিভাগীয় প্রধানের অনুমতি নেওয়ার নির্দেশ জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই নির্দেশের বিরোধিতা করে শুক্রবার একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে বিশ্বভারতী ইউনিভার্সিটি ফ্যাকাল্টি অ্যাসোসিয়েশন। সেখানে নির্দেশিকা প্রত্যাহারের দাবি তোলা হয়েছে। বিবৃতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের  উপাচার্যের কাছেও পাঠিয়েছে সংগঠন। তবে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি নতুন কোনো নিয়ম নয়। সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রচলিত নিয়মের মধ্যেই পড়ে। এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ জানান, প্রায় সব সরকারি প্রতিষ্ঠানেই অফিস সময়ে বাইরে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে যাওয়াই দস্তুর। এখানে অনুমতির বিষয়টিকে বাড়িয়ে দেখানো হচ্ছে। কর্মস্থল ছাড়ার আগে জানিয়ে যাওয়ার কথাই বলা হয়েছে।
গত বুধবার বিশ্বভারতীর কর্মসচিব একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। সেখানে বলা হয়, অধ্যাপক ও কর্মীদের উভয়কেই অফিস সময়ে সংশ্লিষ্ট ভবন, বিভাগ বা কেন্দ্রের প্রধানের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করা যাবে না। নির্দেশটি কঠোরভাবে পালন করার কথাও ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরই আপত্তি জানায় অধ্যাপক সংগঠন। সংগঠনের তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, একজন শিক্ষককে শুধু নিজের বিভাগে নয়, পাঠদান, গবেষণা, গ্রন্থাগার ব্যবহার, বৈঠক ও অন্যান্য অ্যাকাডেমিক কাজের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়। তাই তাঁদের কাজকে নির্দিষ্ট অফিসকক্ষে উপস্থিতির মধ্যে সীমাবদ্ধ করা যথাযথ নয়। অধ্যাপক সংগঠনের দাবি, এই নির্দেশ অধ্যাপকদের সততা ও দায়িত্ববোধের উপর অযথা প্রশ্ন তোলে। অধ্যাপনা ও গবেষণার মতো কাজকে ঘণ্টা ধরে মাপা যায় না বলেও মত তাঁদের। সংগঠনের সম্পাদক অধ্যাপক কৌশিক ভট্টাচার্য বলেন, ‘বিশ্বভারতীর অধ্যাপকরা দীর্ঘদিন ধরেই পঠন-পাঠন, গবেষণা ও প্রশাসনিক নানা কাজে বিশ্ববিদ্যালয়কে সহযোগিতা করে আসছেন। এই পরিস্থিতিতে এমন বিজ্ঞপ্তির প্রয়োজন ছিল বলে আমরা মনে করি না।’ সংগঠেনর দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, বিধি, ইউজিসি বা শিক্ষামন্ত্রকের কোনও নিয়মেই অধ্যাপকদের ক্ষেত্রে এ ধরনের বাধ্যবাধকতার উল্লেখ নেই। তাই নির্দেশিকার আইনগত ভিত্তি নিয়েও যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। 

Advertisement

 

সম্পর্কিত সংবাদ