সংবাদদাতা, বোলপুর: সব গোষ্ঠী একজোট হাওয়ায় এ বছরেও বিশ্বভারতীর সমবায়ে হল না নির্বাচন। সব গোষ্ঠীর সম্মতিক্রমে বোর্ড ও প্যানেল তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার, শান্তিনিকেতনের সমবায় সমিতির কার্যালয়ে বিভিন্ন অংশীদার ও প্রতিদ্বন্দ্বীদের নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে এ কথা জানান বিদায়ী বোর্ডের সম্পাদক কালীশঙ্কর চট্টোপাধ্যায়। ২০০৮ সালে শেষ সমবায় নির্বাচন হয়েছিল। তার পর থেকে অংশীদারদের সহমতের ভিত্তিতে বোর্ড গঠন হয়ে এসেছে। তবে, এবছর নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা দেখা গিয়েছিল। তার প্রেক্ষিতে অংশীদাররা মনোনয়নপত্র দাখিলও করেন। এই মর্মে নির্বাচনী বিজ্ঞাপনও প্রকাশিত হয়। আগামী ২৮ মার্চ নির্বাচনের দিন স্থির হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে এসে সহমতের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হল। এতে বিশ্বভারতীর সমবায়ের সঙ্গে যুক্ত কর্মী ও সদস্যদের মধ্যে খুশির হাওয়া।
পশ্চিমবঙ্গ সরকার সমবায় নির্বাচন বিধি মেনে বিশ্বভারতীতেও নির্বাচনের আয়োজন হয়েছিল। নির্বাচনে মোট ১১১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে নোটিফিকেশন জারি করা হয়েছিল। কিন্তু তার আগে, সমবায় সমিতির আহবানে বুধবার মনোনয়ন দাখিলকারী অংশীদাররা একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন। সেখানেই সর্বসম্মতিতে বোর্ড ও প্যানেল তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাতে প্রাথমিকভাবে ৬৮ জন প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। বাকিদেরও আমন্ত্রিত সদস্য হিসাবে বোর্ডে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন সমবায় সমিতির বিদায়ী বোর্ডের সম্পাদক কালীশঙ্কর চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘ইলেকশনের পরিবর্তে এবারেও সিলেকশনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আলোচনার ভিত্তিতে সকলে ঐক্যবদ্ধ হতে রাজি হয়েছেন। ফলে সকলেই নির্বাচন থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেন। নতুন যে বোর্ড গঠন হবে, তা ২০২৫ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। জোটবদ্ধভাবে বিশ্বভারতীর সমবায় সমিতির বোর্ড গঠন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও ভালোভাবে গঠনমূলক কাজ করা যাবে।’ তবে, রাজ্য সরকারের আর্থিক ও প্রশাসনিক সহযোগিতা ছাড়া বিশ্বভারতীর সমবায় সমিতির উন্নয়ন সাধন সম্ভব নয় বলে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানান।