সংবাদদাতা, বোলপুর: প্রায় পাঁচ বছর পর নির্বাচন। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশও হয়েছিল। ২২ নভেম্বর ভোটের দিনও ঠিক হয়েছিল। কিন্তু পুজোর মুখে ফের স্থগিত হল বিশ্বভারতী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটির নির্বাচন প্রক্রিয়া। ভোটার তালিকা থেকে মৃত সদস্যদের নাম বাদ দেওয়া এবং তালিকা সংশোধনের দাবিতে কয়েকজন সদস্যের আবেদনের পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সমবায় দপ্তর। বুধবার এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘদিন আন্দোলন করা সদস্যরা।
মঙ্গলবার বীরভূম রেঞ্জের ডেপুটি রেজিস্ট্রার অব কো-অপারেটিভ সোসাইটিজ তথা রিটার্নিং অফিসার নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশ দেন। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সদস্যদের আবেদনের ভিত্তিতে মৃত সদস্যদের নাম বাদ দিয়ে ভোটার তালিকা নতুন করে সংশোধন করা হবে। পুজোর ছুটির পর যে পর্যায়ে নির্বাচন প্রক্রিয়া থেমেছে, সেখান থেকেই ফের শুরু হবে। আগে মঙ্গলবার খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। সমিতিতে বিশ্বভারতীর কর্মী, অধ্যাপক ও পেনশনভোগীরা মিলিয়ে প্রায় ১২০০ সদস্য রয়েছেন। মোট ৫৯ জন প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার কথা ছিল। ২২ নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টে পর্যন্ত ভোটগ্রহণের সূচি ঠিক হয়েছিল। খসড়া তালিকা নিয়ে দাবি ও আপত্তি জানানোর শেষ দিন ছিল গত রবিবার। সোম ও মঙ্গলবার শুনানি হয়। এরপর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে বলে জানা গিয়েছিল। বুধ ও বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমার কথা ছিল। শনিবার যাচাই এবং রবিবার মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের কথা ছিল। এরপর ২২ নভেম্বর ভোট ও গণনার সূচি ছিল।
প্রায় পাঁচ বছর ধরে নির্বাচন হয়নি সমিতিতে। ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই ভোট হওয়ার কথা থাকলেও প্রয়োজনীয় পুলিশ না পাওয়ায় ২৩ জুলাই নির্বাচন স্থগিত হয়। পরে আর ভোট হয়নি। পুরানো ভোটার তালিকায় থাকা ৮৬ জন সদস্য অবসর নিয়েছেন। আগের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা দু’জন প্রার্থীও অবসর নিয়েছেন। তাই নতুন করে ভোটার তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ায় দ্রুত ভোট, নতুন পরিচালন পর্ষদ এবং বকেয়া লভ্যাংশ মেটানোর দাবি উঠেছিল। বুধবার নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘদিন আন্দোলনে থাকা সদস্য ভ্রমর ভান্ডারী বলেন, প্রায় পাঁচ বছর পর নির্বাচন ঘোষণা হওয়ায় আমরা আশাবাদী ছিলাম। অংশীদাররা লভ্যাংশ পাবেন বলে আশা করেছিলাম। এখন নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় আমরা মর্মাহত। যাঁরা আপত্তি জানালেন, তাঁরা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তা জানাননি কেন? আমরা অবিলম্বে নির্বাচন চাই। তা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামব।
সমবায় দপ্তরের নির্দেশে অবশ্য নির্বাচন বাতিল হচ্ছে না। আপাতত প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে। পুজোর ছুটি মিটলেই ফের নির্বাচনের কাজ শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে।