সংবাদদাতা, বোলপুর: কালীপুজো ও ছট উপলক্ষ্যে শান্তিনিকেতনের লালবাঁধে কাপড় কাচা এবং নোংরা-আবর্জনা ফেলার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। রবিবার থেকে ১৬নভেম্বর পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। শনিবার বিশ্বভারতীর নিরাপত্তাকর্মীরা লালবাঁধ সংলগ্ন এলাকায় মাইকিং করে বিষয়টি জানিয়ে দেন। জলাশয়ের পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্বভারতীর এই সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছেন লালবাঁধে দীর্ঘদিন ধরে ধোপার কাজের সঙ্গে যুক্ত মানুষজন। তাঁদের আশঙ্কা, টানা ন’দিন কাজ বন্ধ থাকলে গ্রাহকদের সময়মতো জামাকাপড় ফেরত দেওয়া সম্ভব হবে না। রোজগারও বন্ধ হয়ে যাবে। এত আগে থেকে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। বিকল্প ব্যবস্থারও দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় ধোপা টুটুল রজক ও বাবুল রজক বলেন, আমরা এখানে বহু বছর ধরে কাজ করি। আগে কখনও এধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পুজোর পর বর্জ্য ফেলার কারণেই জলাশয়ের এমন অবস্থা হয়েছে। আমরা নিজেদের উদ্যোগেই জলাশয় পরিষ্কার করি। হঠাৎ করে কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছি। প্রতি বছর ছটপুজোর সময় আমরা নিজেরাই কাজ বন্ধ রাখি। তাঁদের আরও দাবি, বিশ্বভারতীর বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরের সামগ্রীও তাঁরা পরিষ্কার করেন।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে পালাবদলের পর জেলা প্রশাসনের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে লালবাঁধ ও ভুবনডাঙা বাঁধের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের। তবে উৎসবের মরশুমে জলাশয় পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও তার জেরে জীবিকা সংকটে পড়া ধোপাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা কী হবে সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠেছে।



