সন্দীপন দত্ত, কোচবিহার: খসে পড়েছে ছাদের চাঙড়। বেরিয়ে এসেছে মরচে ধরা লোহার রড। ভিতরে-বাইরে খসে যাচ্ছে দেওয়ালের পলেস্তারা। নিকাশির পাইপ লাইনে গজিয়ে উঠেছে গাছ। রাতভর ভারী বৃষ্টি অথবা একটু ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি পেলেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়তে পারে গোটা বাড়িটি। বারান্দার রেলিংয়ে হেলান দেওয়ার উপায় নেই। এমনই জীর্ণ অবস্থায় বিপজ্জনকভাবে দাঁড়িয়ে আছে কোচবিহার পুরসভার পান্থনিবাস। বিপজ্জনক বাড়িতেই ভাড়া দেওয়া হচ্ছে অডিটোরিয়াম, রুম, ম্যারেজ হল। যদিও পুর কর্তৃপক্ষের দাবি, অনেকেই কম টাকার মধ্যে এবং কোথাও জায়গা না পেলে তবেই পান্থনিবাসে আসে। ঘরের অবস্থা দেখিয়ে তারপর ভাড়া দেওয়া হয়।
পুরসভার সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্বতন সরকারের সময় পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের কাছে পান্থনিবাস সংস্কারের জন্য ৫৮ লক্ষ টাকার একটা ডিপিআর বানিয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু, তৎকালীন সরকার পান্থনিবাস সংস্কারের কোনো অনুমোদন দেয়নি। সম্প্রতি রাজ্যের রাজনৈতিক পালা বদল ঘটেছে। নির্বাচিত পুরবোর্ড ভেঙে গিয়েছে। পুরসভাতে প্রশাসক বোর্ড বসানো হয়েছে। নতুন করে আরএকটি প্রস্তাব পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে পুরসভার এক অফিসার জানিয়েছেন। যার খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা। পান্থনিবাসের অডিটোরিয়ামের সংস্কার কাজ বাদ দিয়েই এই খরচ ধরা হয়েছে।
চল্লিশ বছর আগে আশির দশকে বাম আমলে পান্থনিবাস তৈরি করা হয়। পুরসভার আধিকারিকদের একাংশের মতে পান্থনিবাসের যা পরিস্থিতি তাতে এর সংস্কার না করে পুরনো ভবনটি ভেঙে নতুন ভবন তৈরি করাই ভালো হবে। পান্থনিবাসের অডিটোরিয়ামের ভাড়া সারা দিনের জন্য ৩ হাজার টাকা। ডবল বেড রুমের ৩৫০ এবং থ্রি-বেড রুমের ভাড়া ৪৫০ টাকা। মেয়ের বিয়ের জন্য দু’দিনের ভাড়া ১৭ হাজার ২৫০ টাকা। ছেলের বিয়ের একদিনের ভাড়া ১০ হাজার ৫০০ টাকা। পান্থনিবাসের তিন তলার দু’টি ঘর একেবারের লজ্ঝড়ে। ফলে ওই ঘর দু’টি এখন আর ভাড়া দেওয়া হয় না। বাকি রুমগুলি বিয়ে বা অন্য কোনো অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়। দোতলার ম্যারেজ হল এবং গ্রাউন্ড ফ্লোরের ডাইনিং হলের অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়।



