রতন এসে ফোঁটা নেবে, আশায় বুক বেঁধে লক্ষ্মীপ্রিয়া
  • ৯ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রঞ্জুগোপাল মুখোপাধ্যায়, বাঁকুড়া: দুই ভাইকে সেই ছোটো থেকে ফোঁটা দিয়ে আসছে দিদি। এবারও ট্রেকিং সেরে ফেরার পর ছোটো ভাই বাপনকে পাশে নিয়ে দিদির কাছে ফোঁটা নেওয়ার কথা ছিল উত্তরকাশী কাণ্ডে নিখোঁজ রতন ঘোষের। বাঁকুড়া সদর থানার শালবনী গ্রামের বাসিন্দা তেইশ বছরের রতন সুস্থ অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশায় বুক বেঁধেছেন দিদি লক্ষ্মীপ্রিয়া ঘোষ। শালবনী ও পাশের কেশরা গ্রামের চার বন্ধুর সঙ্গে পুজোর পর রতন উতরকাশীতে ট্রেক করতে গিয়েছিলেন। বাকি চারজনের দেহ রবিবার গ্রামে পৌঁছালেও রতন নিখোঁজ রয়েছেন। ঘটনাস্থলে ফের তুষারপাত শুরু হওয়ায় উত্তরকাশী জেলা প্রশাসন আপাতত উদ্ধার কাজ স্থগিত রেখেছে। ফলে রতন ঠিক কী পরিস্থিতিতে রয়েছেন, তা সকলের অজানা।  এদিন রতনদের একচিলতে বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, বাবা ভোলানাথ ঘোষ উঠানে পাতা খাটিয়ায় অর্ধশায়িত অবস্থায় রয়েছেন। মা বেদানা ঘোষ বাকরুদ্ধ হয়ে বারান্দায় বসে। দিদি লক্ষ্মীপ্রিয়া বাড়ির কাজকর্ম করছেন। তিনি বলেন, ভাইদের ভাল মতো জ্ঞান হওয়ার আগে থেকেই ফোঁটা দিচ্ছি। বিয়ের আট বছর পরেও ওই রীতির অন্যথা হয়নি। বাপনের সঙ্গে বড়ো ভাই রতনের কপালে ফের ফোঁটা দিতে পারব বলে আমি আশাবাদী। বাকি চার যুবকের সঙ্গে এদিন তাপস বাউরির দেহ গ্রামে ফিরেছে। তাপসের দিদি কবিতা বাউরিও ভাইকে ফোঁটা দেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। দু’দিন আগে দেহ উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর তাঁর অপেক্ষার অবসান হয়। এদিন কবিতা বলেন, আমি দুর্ভাগা। প্রতিবার ভাইফোঁটায় তাপসের দীর্ঘায়ু কামনা করে যমের দুয়ারে কাঁটা দেওয়ার মন্ত্র উচ্চারণ করতাম। এবার দ্বিতীয়ার মুখে ভাইকে হারালাম। লক্ষ্মীপ্রিয়ার ইচ্ছা যাতে পূরণ হয়, সেই কামনা সর্বশক্তিমানের কাছে করব। তাপস সহ চারজন না ফেরার দেশে চলে গেল। অন্তত এক ভাই সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরলেও কিছুটা শান্তনা পাব।  সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের দেখে ভোলানাথবাবু ছেলেকে উদ্ধারের আকুতি জানাতে থাকেন।  

Advertisement