পরিযায়ী পাখির আনাগোনা শুরু হতেই হাজির চোরা শিকারীরা
  • ৯ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, তেহট্ট: শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে তেহট্ট মহকুমার বিভিন্ন জলাশয়ে ভিড় জমাতে শুরু করেছে পরিযায়ী পাখির দল। কিন্তু, পাখিদের এই আগমন ঘিরে আনন্দের পাশাপাশি বাড়ছে উদ্বেগও। কারণ, পরিযায়ী পাখিদের আনাগোনার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে চোরাশিকারিরা। জলাশয়ে জাল ও ফাঁদ পেতে চলছে পাখি শিকার। গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার অবশ্য মরশুমের শুরু থেকেই সতর্ক হয়েছে বনদপ্তর। সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে শুরু হয়েছে নজরদারি ও নিয়মিত টহলদারি।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নভেম্বরের শুরু থেকেই তেহট্টের ডাউকের মাঠ, বেতাইয়ের চাপাগাড়া মাঠ, আশরাফপুর বিল এবং পাথরঘাটার বিভিন্ন জলাশয়ে দেখা মিলছে পরিযায়ী পাখিদের। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাখির সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু পাখিদের আনাগোনা বাড়তেই সক্রিয় হয়েছে চোরাশিকারিরা। অভিযোগ, এলাকার কয়েকটি চক্র এই শিকারের সঙ্গে যুক্ত।
বিশেষ করে বেতাইয়ের চাপাগাড়া মাঠের বিস্তীর্ণ জলাশয়গুলি পরিযায়ী পাখিদের অন্যতম পছন্দের আশ্রয়স্থল। সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির হাঁসের পাশাপাশি ভিড় জমাচ্ছে নানা ধরনের পরিযায়ী পাখি। অভিযোগ, সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জলাশয়গুলিতে জাল ও ফাঁদ পেতে পাখি ধরছে শিকারিরা।
স্থানীয়দের দাবি, মূলত ভোর ও সন্ধ্যার সময় শিকারের তৎপরতা বেশি থাকে। রাতের অন্ধকারে জলাশয়ের আশপাশে জাল পেতে রাখা হয়। ভোরে খাবারের সন্ধানে পাখিরা জলাশয়ে নামতেই জালে আটকে পড়ে। পরে সকাল হওয়ার আগেই সেগুলি ধরে নিয়ে চলে যায় শিকারিরা। ফলে বনদপ্তরের নজরদারি এড়িয়ে অনেক ক্ষেত্রেই শিকার চলছে বলে অভিযোগ।
পরিযায়ী পাখিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার শুরু থেকেই সক্রিয় হয়েছে বনদপ্তর। ইতিমধ্যে বিভিন্ন সংবেদনশীল জলাশয়ে একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমে শিকারিদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
তেহট্ট মহকুমা বনদপ্তরের আধিকারিক সুদিন দাস বলেন, ওই বিলগুলিতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। এই বেআইনি কাজের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের খোঁজ চলছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।